শুক্রবার | আগস্ট ০৭, ২০২০ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

টেলিকম ও প্রযুক্তি

চীনা ক্লাউড প্রকল্প গুটিয়ে নিল গুগল

বণিক বার্তা ডেস্ক

বৈশ্বিক সার্চ জায়ান্ট গুগল আইসোলেটেড রেজিওন নামে চীনে নিজেদের ক্লাউড প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। অ্যালফাবেট ইনকরপোরেশন নিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি জায়ান্টটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা দেশটিতে ক্লাউড সেবা সরবরাহে আর কোনো বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে না। যে কারণে চীনের ক্লাউড সেবা খাত থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিল গুগল বলে মনে করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

তথ্যপ্রযুক্তি ক্লাউড প্রযুক্তির বৃহৎ বাজার চীন। দেশটিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে নিজেদের ক্লাউড প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করেছিল গুগল। আকস্মিক গুগলের চীনা ক্লাউড প্রকল্প গুটিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

গুগলের দুই কর্মীর তথ্যমতে, বৈশ্বিক সার্চ জায়ান্টটি গত মে মাসেই চীনা ক্লাউড প্রকল্প আইসোলেটেড রেজিওনের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। একই সময় বিশ্বের আরো কয়েকটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল দেশে নিজেদের ক্লাউড প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। গুগলের এমন সিদ্ধান্তের জন্য ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট কভিড-১৯ মহামারীর ভয়াবহতা কিছুটা দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে গুগলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইসোলেটেড রেজিওন ক্লাউড প্রকল্প বন্ধের জন্য ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বা নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দায়ী নয়। তারা আসলে চীনে আর ক্লাউড প্লাটফর্ম সেবা দিতেই চায় না। কিন্তু কেন? সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।

চীনে গুগলের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে ব্লকড রয়েছে। এর আগে দেশটিতে পুনঃপ্রবেশের জন্য সার্চ ইঞ্জিনের সেন্সরড সংস্করণ চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি, যা নিয়ে তীব্র বিতর্কের শুরু হয়। গুগল কর্মীরাই প্রকল্পটি বিষয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং একটি পক্ষ বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েছিল। অনেকটা বাধ্য হয়ে গত বছর জুলাই মাসে চীনের জন্য বিতর্কিত ড্রাগনফ্লাই নামের সার্চ ইঞ্জিন প্রকল্পের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে গুগল।

ওই সময় গুগলের বৈশ্বিক গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স এবং পাবলিক পলিসি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট করণ ভাটিয়া কংগ্রেসের বিচার বিভাগীয় কমিটির শুনানিতে রিপাবলিকান সিনেটর জোশ হাওলির এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, তারা ড্রাগনফ্লাই প্রকল্পটি বাতিল করেছে। ২০১৮ সালেই ওই প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছিল। তবে প্রকল্পটি সক্রিয় বলে গত বছর গুজব উঠেছিল।

এর আগে ড্রাগনফ্লাই প্রকল্প বিষয়ে কংগ্রেসের বিচার বিভাগীয় কমিটির শুনানিতে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই বলেছিলেন, চীনের বাজারে পুনঃপ্রবেশের জন্য সার্চ ইঞ্জিনের সেন্সরড সংস্করণ চালুর পরিকল্পনা থাকলেও, তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বাজার হলেও চীনের জন্য বিশেষ সার্চ ইঞ্জিন চালুর কোনো পরিকল্পনা আপাতত তাদের নেই। তবে আমরা বাজারটিতে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছি।

চীনের অনুসন্ধান খাতে পুনঃপ্রবেশের জন্য বিশেষায়িত সার্চ ইঞ্জিন উন্নয়নের ঘোষণা নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বের পাশাপাশি খোদ গুগল কর্মীদের মধ্যেই তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। গুগল যাতে বিতর্কিত প্রকল্প থেকে সরে আসে, সেজন্য বিশ্বব্যাপী একযোগে ধর্মঘটের ডাকও দিয়েছিল কর্মীরা। প্রকল্পটিকে মানবাধিকারের লঙ্ঘন দাবি করে কর্মীদের পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক মানবাধিকার সংস্থা।

২০১০ সাল থেকে চীনে গুগলের মূল অনুসন্ধান সেবা প্লাটফর্মের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বাজারটিতে পুনঃপ্রবেশের জন্য অ্যালফাবেট নিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি সেন্সরড সার্চ ইঞ্জিন চালুর কৌশল নিয়েছিল। চীনের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা গুগল সার্চ ইঞ্জিনে বেশকিছু ওয়েবসাইট ব্লকড রাখা এবং অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে দেশটির আইন অনুযায়ী বেশকিছু শর্ত কার্যকর রাখার কথা বলা হয়েছিল।

বিশাল জনগোষ্ঠীর কারণে বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বৃহৎ বাজার চীন। তবে দেশটিতে গুগল, ইউটিউব, টুইটার, ফেসবুক, মাইক্রোসফট, অ্যাপলসহ অসংখ্য মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সেবা ব্লকড রয়েছে। চীনারা শুধু ওয়েইবো, রেনরেন ইউকুর মতো স্থানীয় সোস্যাল মিডিয়া সাইটগুলোর পাশাপাশি বাইদু টেনসেন্টের মতো ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর সেবা ব্যবহার করতে পারেন। স্থানীয় এসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে নিয়মিত নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিশ্লেষকদের মতে, গুগল তাদের কার্যক্রম আরো স্বচ্ছ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গুগলের কর্মীরাও চান গুগল তার সব কার্যক্রমের জন্য দায়বদ্ধ প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠুক এবং দায়িত্বশীল আচরণ করুক। যাতে কাজের নৈতিক প্রভাব সম্পর্কে কর্মীরাও বুঝতে পারেন। চীনের জন্য বিশেষ সার্চ ইঞ্জিন চালুর প্রকল্প থেকে স্পষ্ট হয়েছে, দেশটিতে গুগল সেন্সরশিপ আইন মেনে চলতে রাজি আছে, যা তাদের কাজের সঙ্গে নৈতিক কিনা, সে বিষয়ে আন্দোলন করেছিলেন কর্মীরা। তবে চীনা ক্লাউড প্রকল্প বন্ধের বিষয়ে গুগলের অভ্যন্তরীণ কারণ জানা যায়নি।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন