মঙ্গলবার | আগস্ট ১১, ২০২০ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭

শিল্প বাণিজ্য

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর

থমকে আছে কাজ, বিল পাচ্ছেন না ঠিকাদাররা

বণিক বার্তা প্রতিনিধি মিরসরাই

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) প্রভাবে অনেকটাই যেন থমকে আছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে নির্মিতব্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের কাজ; যার প্রভাব পড়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চলটির কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত স্থানীয় চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ঠিকাদারদের মাঝে। অনেকটা অলস সময় পার করছেন তারা। অন্যদিকে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা। কেননা এসব ঠিকাদার বিভিন্ন পণ্য, কাঁচামাল নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করলেও সেগুলোর বিল তুলতে পারছেন না। আর যথাসময়ে বিল না পাওয়ায় ঠিকাদাররা তাদের নিয়োজিত শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করতে পারছেন না।

চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার একর জমির ওপর নির্মিতব্য অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, গত বছরের জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। এটিতে প্রায় ২৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পাইপলাইন বসাচ্ছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। এরই মধ্যে দেশী-বিদেশী প্রায় ৮৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে জমি নিয়েছে বসুন্ধরা, বিএসআরএম, পিএইচপিসহ বড় বড় কোম্পানি। সব মিলিয়ে এখানে কর্মসংস্থান হবে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের। পুরোদমে চলছিল অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ। কিন্তু হঠাৎ কভিড-১৯-এর থাবায় সবকিছু থমকে গেছে। ছোট থেকে বড় সব প্রকল্পের কাজ বন্ধ বললেই চলে। বিশেষ করে যেসব প্রকল্পে বিদেশী জনবল রয়েছে, সেগুলো গত মার্চ থেকেই তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে বলে জানা যায়। এতে বিপাকে পড়তে হয়েছে ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টদের।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের ঠিকাদার ইকবাল হোসেন জানান, তিনি জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত চীনা একটি কোম্পানিতে ৫০ লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ করেছেন। তবে নভেল করোনাভাইরাস সংকটে তিনি মূলধন কিংবা মুনাফা কিছুই তুলতে পারেননি। ফলে শ্রমিকদের মজুরিও দিতে পারছেন না।

একাধিক স্থানীয় ঠিকাদার জানান, তারা বিভিন্ন কোম্পানিকে ইট, বালিসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করেও সঠিক সময়ে বিল পাননি।

প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) মিরসরাইয়ের প্রথম পর্যায়ের প্রকল্প পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, সংক্রমণ কাটিয়ে ওঠা অনেক দেশ থেকে এরই মধ্যে অনেক বৈদেশিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। আশা করছি সংকট কাটিয়ে উঠলে ভবিষ্যতে ভালো কিছু হবে। তবে সময়মতো ঠিকাদারদের বিল আটকে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি কিছু জানাতে রাজি হননি। এমনকি ব্যাপারে তার কিছু বলার এখতিয়ার নেই বলেও জানান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন