রবিবার | আগস্ট ০৯, ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

শেষ পাতা

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে

বালি পরিবহন করে রাস্তা নষ্ট করছে পদ্মা রেলের ঠিকাদার

শামীম রাহমান

দেশের সবচেয়ে আধুনিক মহাসড়ক ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। দ্রুতগামী গাড়ির জন্য চারলেন, ছোট গাড়ির জন্য আরো চারলেনের মহাসড়ক গত মার্চে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। চালুর পর থেকেই এক্সপ্রেসওয়ে সার্ভিস রোডগুলো দিয়ে অবাধে বালি পরিবহন করে আসছেন পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঠিকাদাররা। এতে সার্ভিস রোডটি বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিকবার আলোচনার পরও বালিবাহী ট্রাক পরিবহন বন্ধ করতে পারেনি এক্সপ্রেসওয়ের বাস্তবায়নকারী সংস্থা সড়ক জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। তাই বাধ্য হয়েই সার্ভিস রোডগুলো বন্ধ করে দিয়েছে সংস্থাটি। রাস্তা নষ্ট হওয়ায় ঠিকাদারদের কাছে দাবি করা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ।

অন্যদিকে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঠিকাদাররা বলছেন, তারা পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করেই নির্মাণসামগ্রী ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা মহাসড়ক দিয়ে পরিবহন করছিলেন। পাশাপাশি মহাসড়কটির কোনো ক্ষতি হলে তা মেরামত করে দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার পরও সওজ তাদের নির্মাণসামগ্রী মহাসড়কটি দিয়ে পরিবহন করতে দিচ্ছে না। এতে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে দাবি করছেন তারা।

পদ্মা সেতুকে ঘিরে আরো দুটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। এরই মধ্যে চালু হয়েছে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। ঢাকা থেকে মাওয়া, পদ্মা সেতু পার হয়ে ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ লিমিটেড বা সিআরইসি। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কিছু বাংলাদেশী ঠিকাদারকে সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সওজের প্রকৌশলীরা বলছেন, কোথাও নতুন রাস্তা বানানোর আগে মালামাল পরিবহনের রাস্তা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকেই করতে হয়। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঠিকাদারও ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত রাস্তা বানিয়ে তারপর মালামাল পরিবহন করছে। কিন্তু ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা অংশে তারা কোনো বিকল্প রাস্তা করেনি। সদ্যনির্মিত ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে নেয়ার সুযোগ নিতে চাইছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সওজের প্রকৌশলীদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ সওজ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সেনাবাহিনীর ইউনিটের মধ্যে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ জুলাইও 

তাদের সঙ্গে মিটিং হয়েছে। ওইদিন পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মিটিংয়ে তারা যুক্তি দেখান, ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা অংশে মালামাল পরিবহনের জন্য রাস্তা নির্মাণ করার জায়গা নেই। এর উত্তরে ড্রোন দিয়ে ম্যাপিং করে তাদের দেখানো হয় বালি পরিবহনের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব। সভায় বালিবাহী ট্রাক এক্সপ্রেসওয়ে সার্ভিস রোড দিয়ে না চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। জুলাইয়ের সভায় সেভাবেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঠিকাদাররা সেই সিদ্ধান্ত না মেনে পরদিন থেকে অবাধে বালি পরিবহন শুরু করে এক্সপ্রেসওয়ে সার্ভিস রোড দিয়ে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা সার্ভিস রোডগুলো বন্ধ করে দিয়েছি। এক্সপ্রেসওয়ে দিয়েও কোনো বালিবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

বিষয়ে জানতে চাইলে সওজ অধিদপ্তরের ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান বণিক বার্তাকে বলেন, বালিবাহী ট্রাক সার্ভিস রোড মূল এক্সওপ্রেসওয়েদুটোর জন্যই বালিবাহী ট্রাক ক্ষতিকর। অথচ রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রিপ বালিবাহী ট্রাক পরিবহন করা হচ্ছে। কোনো রাস্তা যখন বানানো হয়, তখন সেই রাস্তায় কত গাড়ি চলতে পারবে তার একটা হিসাব থাকে। চালুর পর থেকে রেল সংযোগ প্রকল্পের ঠিকাদাররা লাখ লাখ ট্রিপ বালিবাহী ট্রাক পরিবহন করেছে সার্ভিস রোড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে। কারণে এরই মধ্যে সার্ভিস রোডের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে এক্সপ্রেসওয়েসহ সার্ভিস রোডের আয়ু ভাগের ভাগ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েটি দেশের সর্বাধুনিক রাস্তা। এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ। বিভিন্ন পয়েন্টে এরই মধ্যে সার্ভিস রোড নষ্ট হয়ে গেছে। এজন্য রেল সংযোগ প্রকল্পের ঠিকাদারদের কাছে ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে সওজ।

তবে সওজের ঠিক উল্টো কথা বলছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিআরইসি। একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা দাবি করেছে, গত ১১ জুন থেকে তাদের নির্মাণসামগ্রী পরিবহন করতে দিচ্ছে না সওজ। সমস্যাটি সমাধানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে একটি সমন্বয় সভা করা হয়। সেখানে ঠিকাদাররা সম্মত হন, তারা পর্যাপ্ত ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা কর্মী নিযুক্ত করবেন। সড়ক সুরক্ষা সুবিধা প্রদান করবেন এবং তাদের ট্রাক যদি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত করে, তবে তারা তা মেরামতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তার পরও তাদের নির্মাণসামগ্রী পরিবহন করতে দেয়া হচ্ছে না। ফলে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে এবং ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন