শুক্রবার | আগস্ট ০৭, ২০২০ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

পণ্যবাজার

আউন্সপ্রতি ১৮০০ ডলার ছুঁই ছুঁই

১৪ মাসে ৪০ শতাংশ দাম বেড়েছে স্বর্ণের

বণিক বার্তা ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে লাগাম টানা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। ক্রমেই বাড়ছে মূল্যবান ধাতুটির দাম। বাড়তে বাড়তে বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম হাজার ৮০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে বৃহস্পতিবার দিনের মধ্যভাগে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম হাজার ৮১৫ ডলারের ওপরে উঠেছিল। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি) বলছে, দ্রুত স্বর্ণের দাম কমে আসার দৃশ্যমান কোনো লক্ষণ নেই। বরং গত ১৪ মাসে মূল্যবান ধাতুটির দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে। আগামী দিনগুলোতেও স্বর্ণের দাম আরো বাড়তে পারে। ফলে নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীতে বিনিয়োগের অন্যতম বড় নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে স্বর্ণ। খবর মাইনিংডটকম মেটাল বুলেটিন।

ডব্লিউজিসির প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গতকাল দিন শেষে প্রতি আউন্স স্বর্ণের স্পটমূল্য দাঁড়িয়েছে হাজার ৭৯৭ ডলার ১০ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় আউন্সপ্রতি ডলার কম। দিনের শুরুতে মূল্যবান ধাতুটি আউন্সপ্রতি হাজার ৮০৪ ডলার ৭০ সেন্টে বেচাকেনা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দামে বড় উল্লম্ফন দেখা দেয়। ওই দিন বেচাকেনার মধ্যভাগে প্রতি আউন্স স্বর্ণের স্পটমূল্য ওঠে হাজার ৮১৫ ডলার ৮০ সেন্টে। তবে দিন শেষে মূল্যবান ধাতুটির স্পটমূল্য আউন্সপ্রতি হাজার ৭৯৯ ডলার ১০ সেন্টে নেমে আসে।

প্রতিষ্ঠানটির এক নোটে বলা হয়েছে, গতকাল দাম আগের দিনের তুলনায় কমলেও এখনো স্বর্ণের আউন্স হাজার ৮০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। আগামী দিনগুলোতে এটা বেড়ে হাজার ৮০০ ডলারের ওপরে উঠে যেতে পারে। একই সঙ্গে স্পটমার্কেটে স্বর্ণের দাম ২০১১ সালের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১১ সালে প্রতি আউন্স স্বর্ণ রেকর্ড হাজার ৯২০ ডলার ৩০ সেন্টে বিক্রি হয়েছিল।

ডব্লিউজিসি বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে গত ১৪ মাসে মূল্যবান ধাতুটির দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে। স্বর্ণের বাজারে বিদ্যমান ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা চলতি বছরের শুরু থেকে আরো চাঙ্গা হয়েছে। বিশেষত নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী স্বর্ণের দাম আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। চীন ভারত স্বর্ণের শীর্ষ দুই ভোক্তা দেশ। করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে গিয়ে টানা লকডাউনে দুই দেশেই মূল্যবান ধাতুটির চাহিদায় পতন ঘটেছে। এর ফলে স্বর্ণের দাম কমার কথা। তবে বিশ্ব অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়ে আসায় শেয়ার মুদ্রাবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে। এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে তুলনামূলক নিরাপদ বিবেচনা করে তারা স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। ফলে বাড়তির দিকে রয়েছে স্বর্ণের দাম।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণে বরাবরই প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির পাশাপাশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এশিয়ার কয়েকটি দেশের সীমান্ত। লাদাখে সংঘাতে জড়িয়ে ভারত চীনের সেনাবাহিনীতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় দুই দেশই লাদাখ সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ বাড়িয়েছে। বিরোধ দেখা দিয়েছে ভারত নেপাল সীমান্তেও। ওদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে সেনা সমাবেশ বাড়িয়ে হামলার হুমকি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন।

একদিকে চীন-ভারত-নেপাল, অন্যদিকে উত্তর দক্ষিণ কোরিয়াভূরাজনৈতিক এসব উত্তেজনা আগামী দিনগুলোয় অস্থিতিশীল বিশ্ব রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর প্রভাব থেকে বাদ যাবে না অর্থনীতি। করোনা সংকটের মধ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। কেননা যেকোনো সীমান্তে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ব অর্থনীতি আরো গভীর খাদে প্রবেশ করবে। মন্দা প্রলম্বিত হবে। অস্থিরতা বাড়বে শেয়ার মুদ্রাবাজারে। আর তখন বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিবেচনা করে স্বর্ণের প্রতি আরো ঝুঁকে পড়বেন। মূলত কারণেই আগামী দিনগুলোয় স্বর্ণের বাজার বর্তমানের তুলনায় আরো চাঙ্গা হতে পারে।

পরিস্থিতিতে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস স্বল্প, মধ্য দীর্ঘতিন মেয়াদে স্বর্ণের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ দামের প্রাক্কলন করেছে। বলা হয়েছে, স্বল্প মেয়াদে বা পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম হাজার ৮০০ ডলারে উন্নীত হতে পারে। মধ্যমেয়াদে বা ছয় মাসের মধ্যে মূল্যবান ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি হাজার ৯০০ ডলার হতে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদ বা এক বছরের মধ্যে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম উঠতে পারে হাজার ডলারে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন