বৃহস্পতিবার | আগস্ট ১৩, ২০২০ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭

খবর

ছয় শিল্প এলাকা

করোনায় আক্রান্ত ১৯৩ কারখানার ৪৫৬ শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের শ্রমঘন ছয় এলাকায় গতকাল পর্যন্ত ১৯৩টি শিল্প-কারখানার ৪৫৬ শ্রমিক নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। আর সুস্থ হয়েছেন ২৬১ জন। এসব কারখানার ১০৪টিই পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বিকেএমইএর সদস্য। শিল্প পুলিশ সূত্রে তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, শিল্প কেন্দ্রীভবনের কারণেই আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা ময়মনসিংহ ছয় শিল্প এলাকায় পোশাক কারখানার সংখ্যা বেশি। ছয় শিল্প-কারখানায় শুধু পোশাক খাতের কারখানাই আছে হাজার ৮৯৩টি। খাতেরই ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বস্ত্র শিল্পের কারখানা আছে ৩৮৯টি। এছাড়া রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) আওতায়ও আছে বস্ত্র পোশাক খাতের কারখানা। এভাবে ছয় শিল্প এলাকায় মোট হাজার ৬০২টি কারখানার মধ্যে পোশাক খাতকেন্দ্রিক কারখানার সংখ্যা হাজার ৩৭২।

এসব কারখানায় গত ২৩ মে পর্যন্ত কভিড-১৯ আক্রান্ত শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ১৭০। গতকাল আক্রান্ত শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫৬-এ।

ছয় শিল্প এলাকায় পোশাক শিল্প মালিক সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য কারখানা আছে হাজার ৮৮২টি, যার ৭২টিতে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছেন ২৩১ জন শ্রমিক। আরেক সংগঠন বিকেএমইএর সদস্য কারখানা আছে মোট হাজার ১০১টি, যার ৩২টিতে করোনায় আক্রান্ত শ্রমিক ১০০ জন।

পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের সংগঠন বিটিএমএর সদস্য মোট ৩৮৯ কারখানার মধ্যে তিনটি কারখানায় চারজন শ্রমিক কভিড-১৯ আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। বেপজার আওতাভুক্ত ছয় শিল্প এলাকায় মোট ৩৬৪ কারখানার মধ্যে ৫৭টিতে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯ জন শ্রমিক। অন্যান্য খাতের হাজার ৮৬৬টি কারখানার মধ্যে ২৯টির ৪২ জন কভিড-১৯ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন।

খাত এলাকাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আশুলিয়া এলাকায় করোনা শনাক্ত হওয়া মোট ৮৩ শ্রমিকের ৬৫ জনই বিজিএমইএ সদস্য কারখানায় কাজ করেন। এলাকায় বিকেএমইএ সদস্য কোনো কারখানায় কভিড-১৯ আক্রান্ত শ্রমিক শনাক্ত হয়নি। গাজীপুর এলাকায় শনাক্ত হওয়া মোট ৯৭ শ্রমিকের ৮০ জন বিজিএমইএ সদস্য ২৯ কারখানার। এছাড়া বিকেএমইএর সদস্য পাঁচটি কারখানার ১১ জন শ্রমিক কভিড-১৯ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। বিটিএমএর সদস্য দুটি কারখানার দুজন শ্রমিক কভিড-১৯ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম এলাকার মোট শনাক্ত ৬২ শ্রমিকের একজন বিজিএমইএর সদস্য একটি কারখানার। এছাড়া বিকেএমইএর দুটি কারখানার দুজন শ্রমিকও কভিড আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। চট্টগ্রাম এলাকায় বিটিএমএ সদস্য কারখানায় কভিড আক্রান্ত শ্রমিকের তথ্য পাওয়া যায়নি। এলাকায় বেপজার আওতাধীন কারখানার শ্রমিকই সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। চট্টগ্রামের মোট করোনা আক্রান্তের ৪৯ জনই বেপজার আওতাধীন কারখানার। ওই এলাকায় অন্যান্য খাতের ১০ কারখানার ১০ জন শ্রমিক কভিড-১৯ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ এলাকার বিজিএমইএর সদস্য চারটি কারখানার চারজন কভিড-১৯ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। আরেক সংগঠন বিকেএমইএর সদস্য ২৫ কারখানার আক্রান্ত শ্রমিকের সংখ্যা ৮৭ জন। এলাকায় বিটিএমএ সদস্য কোনো কারখানায় কভিড-১৯ আক্রান্ত শ্রমিকের তথ্য পাওয়া যায়নি। নারায়ণগঞ্জে বেপজার আওতাধীন নয়টি কারখানার ১৫ জন শ্রমিক কভিড-১৯ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য খাতের সাত কারখানার আটজন শ্রমিক কভিড-১৯ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন।

ময়মনসিংহ এলাকায় মোট ১৩টি কারখানার কভিড-১৯ আক্রান্ত শ্রমিক ৮২ জন, যার ৮০ জনই বিজিএমইএর সদস্য ১২টি কারখানার। এছাড়া ওই এলাকায় কভিড-১৯ আক্রান্ত শ্রমিকদের বাকি দুজন বিটিএমএর সদস্য একটি কারখানার। খুলনা এলাকায় কভিড-১৯ আক্রান্ত বলে শনাক্ত ১৭ জন শ্রমিক অন্যান্য খাতের ছয়টি কারখানার।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন