বৃহস্পতিবার | আগস্ট ১৩, ২০২০ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭

প্রথম পাতা

গভর্নরের বয়সসীমা দুই বছর বাড়িয়ে সংসদে বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বয়সসীমা দুই বছর বাড়াতে আনা বিল বিরোধী সদস্যদের আপত্তির মুখেই গতকাল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) অ্যাক্ট-২০২০ নামের বিলটি পাসের ফলে ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে থাকা যাবে।

স্পিকার . শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামালের পক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। ১৯৭২ সালের দ্য বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার শীর্ষক আইনটি সংশোধন করতেই বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২০ সংসদে আনা হয়। এর আগে বিলটি পাসে জনমত যাচাই প্রস্তাব বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব নিষ্পত্তি করেন স্পিকার।

বিলটির বিষয়ে আপত্তি জানান জাতীয় পার্টি বিএনপির সংসদ সদস্যরা। খসড়া আইনটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, একজনের জন্য এই আইন করা হচ্ছে। যোগ্য লোককে নিয়োগের পথ এতে বন্ধ হবে। অর্থাৎ অন্য যারা আছেন, তাদের অযোগ্য মনে করছি।

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, গভর্নর পদে বয়স ৬৭ করা হলে এখন সিভিল সার্ভিসের সবাই চাইবে তাদেরও বয়সসীমা বাড়ানো হোক। সরকারের বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত। আরেকটা কথা, যোগ্য লোক হলেই ভালো গভর্নর হবেন এমন না। একজন গভর্নরের সময়ে রিজার্ভ চুরি হয়েছিল। এই গভর্নর কী সেই টাকা ফেরত এনেছেন? ঋণখেলাপিদের বিষয়ে তিনি কী পদক্ষেপ নিয়েছেন আমরা জানি না। একজন ব্যক্তির জন্য এই আইন করা হলে তা ঠিক নয়।

এসব বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো ব্যক্তির জন্য নয়। গভর্নর পদের জন্য আইন করছে। সংসদ সদস্যরা অনেক যুক্তিসংগত কথা বলছেন। তবে সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো বাস্তবতা। সেই বাস্তবতার জায়গা থেকে এই আইন করা হচ্ছে।

পরে সংশোধনী প্রস্তাব তোলার সময় বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, আমরা দেখতে চাই এই আইন পাস হওয়ার পর নতুন কোন ব্যক্তিকে গভর্নর পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এর জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে শক্তিশালী করতে আইনটি করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির জন্য এটা হচ্ছে না। প্রয়োজনের নিরিখেই তা করা হয়েছে। আগামীতে কেউ যদি মনে করেন ৭০ করবেন, তা করতে পারেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২০ এর উদ্দেশ্য কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, দেশের রাজস্ব নীতির সঙ্গে সংগতি রেখে কার্যকর মুদ্রানীতি প্রণয়ন, মুদ্রা সরবরাহ ব্যাংকঋণ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রা মান সংরক্ষণ, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় প্রভৃতি বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

বিলটিতে বলা হয়, দেশের সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যকর উন্নততর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই উক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রাজ্ঞতা, বিচক্ষণতা, কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতা নেতৃত্ববাচক গুণাবলি প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের মূল নিয়ামক শক্তি বিবেচনায় উক্ত পদে যোগ্যতা উপযুক্ত ব্যক্তিকে বিদ্যমান বয়সসীমা অপেক্ষা অধিকতর বয়সে নিয়োগের সুযোগ রাখা কিংবা প্রয়োজনবোধে ওই পদে সমাসীন ব্যক্তিকে বিদ্যমান বয়সসীমা অতিক্রমণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যতা অনুসারে পুনর্নিয়োগ প্রদান কিংবা ওই ব্যক্তির নিয়োগের নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা বজায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন। খসড়া আইনে বলা হয়েছে, ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে থাকা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন