বৃহস্পতিবার | আগস্ট ০৬, ২০২০ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

শেষ পাতা

১ কোটি ২০ লাখ ছাড়াল বৈশ্বিক সংক্রমণ

করোনায় বাজে অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া

বণিক বার্তা ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক সংক্রমণের লাগাম টানা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। বরং যত দিন যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে মহামারী পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে করোনাজনিত কভিড-১৯-এর সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। গত এক সপ্তাহেই দেশে দেশে বেড়ে চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। আর গতকাল একদিনে সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে ৫৯ হাজার কভিড-১৯ রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, বরং বিশ্বের যেকোনো দেশে একদিনে শনাক্তের সংখ্যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে অস্ট্রেলিয়ায়। খবর এএফপি দ্য গার্ডিয়ান।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির করোনাভাইরাস রিসোর্স সেন্টারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কোটি ২০ লাখ ৬৬ হাজার ৪৫। বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমিত হয়ে মৃতের সংখ্যাও সাড়ে লাখ ছাড়িয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কভিড-১৯ রোগে মারা গেছে সব মিলিয়ে লাখ ৫০ হাজার ১৩৫ জন।

এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমণ মৃত্যু দুটো তালিকাতেই শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। করোনার মোট বৈশ্বিক সংক্রমণের এক-চতুর্থাংশই দেশটিতে শনাক্ত হয়েছে। গতকাল দেশটিতে একদিনে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৫৯ হাজার ৪০০ জনের শরীরে প্রাণঘাতী ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটিতে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৩০ লাখ ৫৫ হাজার ১৪৪ জনের শরীরে। তবে শনাক্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও দেশটিতে কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে লাখ ৩২ হাজার ৩০৯ জন।

দেশটিতে প্রথম সংক্রমণের পর থেকে ১০ লাখ শনাক্ত হতে সময় লেগেছিল ৯০ দিন। পরবর্তী ১০ লাখ রোগী শনাক্ত হতে ৪৪ দিন সময় লেগেছে। আর সর্বশেষ ১০ লাখ কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হতে সময় লেগেছে মাত্র ২৬ দিন।

গত সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩৫টি অঙ্গরাজ্যে নতুন করে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষত টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডার মতো জনবহুল অঙ্গরাজ্যগুলোয় সংক্রমণ মারাত্মক রূপ নিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশটিতে নতুন করে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সংক্রমণ এড়াতে জনগণকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির করোনাভাইরাস সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় টাস্কফোর্সের প্রধান ডা. অ্যান্থনি ফাউসি।

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বর্তমানে করোনার বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই করতে হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্রাজিলে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ১৭ লাখ ১৩ হাজার ১৬০ জনের শরীরে। মারা গেছে ৬৭ হাজার ৯৬৪ জন। করোনা সংক্রমণ মৃতের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পর ব্রাজিল দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। পেরু চিলিতে সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে লাখ ১২ হাজার ৯১১ লাখ হাজার ৮৩। দেশ দুটিতে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে যথাক্রমে ১১ হাজার ১১১ জন হাজার ৫৭৩ জন। আর্জেন্টিনায় ৮৭ হাজার ৩০ জনের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে একদিনে সবচেয়ে বেশি হাজার ৬০৪ জন শনাক্ত হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুগছে ভারত। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে শনাক্ত হয়েছে ২৪ হাজার ৮৭৯ জন কভিড-১৯ রোগী। প্রাণ গেছে আরো ৪৮৭ জনের। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত লাখ ৬৭ হাজার ২৯৬ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে সব মিলিয়ে ২১ হাজার ১২৯ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে 

একদিনে সর্বোচ্চ ৯৬৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। রাজ্যটিতে সর্বমোট শনাক্ত দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৮২৩ জনে। নতুন করে ২৩ জনসহ রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮২৭ জন।

পাকিস্তানে শনাক্তের সর্বমোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে লাখ ৪০ হাজার ৮৪৮। মারা গেছে হাজার ৯৮৩ জন। সংক্রমণ বাড়তির দিকে থাকলেও আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার।

এদিকে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সফল হওয়া অস্ট্রেলিয়ায় নতুন করে রোগী বাড়তে শুরু করেছে। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মেলবোর্নে প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ১৯১ জন কভিড-১৯ রোগী। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় স্থানীয় সরকার লকডাউন শিথিল করার প্রায় ছয় সপ্তাহ পর নতুন করে তা আরো কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন