বৃহস্পতিবার | আগস্ট ০৬, ২০২০ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

সম্পাদকীয়

করোনা রংপুর অঞ্চলের অর্থনীতিকে আরো ঝুঁকিতে ফেলবে

মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। আমদানি-রপ্তানি হ্রাস পাওয়ায় বিদ্যমান অনেক শিল্পকারখানার উৎপাদন কমে গেছে। অপ্রতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত কোটি কোটি মানুষ বেকার হয়েছে। অর্থনীতির সব খাতই আজ মারাত্মক ক্ষতির মুখোমুখি। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে অর্থনীতির এমন দুর্গতি বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই বাস্তব এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় করোনাকে সঙ্গী করেই অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

পিছিয়ে পড়া রংপুর অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা বাঁচাতে করোনাকে সঙ্গী করেই অর্থনীতির চাকা সচল করতে সরকারের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে রংপুর চেম্বারের পক্ষ থেকে নিচে কিছু মতামত উল্লেখ করা হলো-

রংপুর বিভাগে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেশি। করোনাকালীন মহামারীতে দেশের অসংখ্য গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হওয়ায় রংপুর অঞ্চলের হাজার হাজার গার্মেন্টস কর্মী আজ বেকার। করোনাকালীন অর্থনৈতিক সংকট রংপুর অঞ্চলের অর্থনীতিকে আরো বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রংপুর বিভাগের অর্থনীতি মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই পিছিয়ে পড়া রংপুর অঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হলে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের কোন বিকল্প নেই। কারোনাকালীন সময়ে শিল্প-কারখানার চাকা বন্ধ থাকলেও মাঠে কাজ করছে রংপুর অঞ্চলের কৃষক। করোনা এখন পর্যন্ত এ অঞ্চলের কৃষি ও কৃষককে থামাতে পারেনি। থেমে নেই কৃষিপণ্য উৎপাদন। করোনা সংকটের কারণে রংপুর অঞ্চলের হাজার হাজার গার্মেন্টস কর্মী কাজ হারিয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরছে।

শুধু স্বল্প আয়ের মানুষ নয়, মধ্য আয়ের মানুষও ব্যক্তিখাতে চাকরি হারিয়ে গ্রামে চলে আসছে। অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিও চাপের মুখে পড়েছে। তাই রংপুর বিভাগের মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দ্রুত সরকারকে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বর্তমান সরকারের বাস্তবায়নাধীন মেগা প্রকল্পগুলো ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চলের পাশাপাশি দু'একটি মেগা প্রকল্প রংপুর বিভাগে স্থাপনের ব্যাপারে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়া করোনা মহামারীতে সাধারণ ছুটিতে বহুমাত্রিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে অনানুষ্ঠানিক খাতের ব্যবসা। বিশেষ করে ফেরিওয়ালা, হকার, ভ্যানে পণ্য বিক্রেতা, চা-পান-সিগারেটের দোকান, খুদে দোকান, মুদি দোকান, ক্ষুদ্র হোটেল, রেস্তোরাঁ, মাঝারি পাইকারী ব্যবসা। সারা দেশে এ ধরনের ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৮৬ লাখের ওপরে। তাদের ওপর নির্ভরশীল সাত কোটি ৮০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা আজ থমকে গেছে। যারা দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৬ শতাংশ। 

এছাড়া যারা চাকরি করত, অনেকের চাকরি চলে গেছে। অনেকের চাকরি আছে, বেতন পায় না। অনেকে পুরো বেতন পাচ্ছে ন। তাই দেশের অর্থনীতির চাকা দ্রুত সচল করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় যথাযথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের জন্য রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র পক্ষ থেকে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

লেখক: সভাপতি, রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, রংপুর

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন