বৃহস্পতিবার | আগস্ট ০৬, ২০২০ | ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

শেষ পাতা

কোরবানির পশু পরিবহন করবে রেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু পরিবহনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। খামারি, ব্যবসায়ীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের যেকোনো প্রান্তে পশু পরিবহনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে সংস্থাটি। গতকাল রেল ভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

রেলপথে একটি গরু উত্তরাঞ্চলের যেকোনো জেলা থেকে ঢাকায় আনতে খরচ পড়বে দেড় হাজার টাকার মতো। উত্তরাঞ্চল থেকে চট্টগ্রামে গরুপ্রতি পরিবহন খরচ হতে পারে আড়াই হাজার টাকার মতো। রেলওয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, দেশের অন্য যেকোনো পরিবহনের চেয়ে খরচ অনেক কম। তারা জানান, মিটারগেজে একটি ওয়াগনে সর্বোচ্চ ১৬টি গরু পরিবহন করা সম্ভব। ব্রডগেজ ওয়াগনে পরিবহন করা যাবে ২০-২১টি গরু। আর ব্রডগেজ ওয়াগনে ছাগল ভেড়া পরিবহন করা যাবে ১৮৬টির মতো। পরিবহনের সময় পশুর খাবার পানির দায়িত্ব পশুর মালিককেই বহন করতে হবে।

গতকালের ব্রিফিংয়ে রেলমন্ত্রী জানান, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে কোরবানির পশু পরিবহন হাটে গিয়ে পশু কেনা নিয়ে সবাই শঙ্কিত। এটা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আমাদের জানায় রেলপথে পশু পরিবহনের কথা। বিষয়টি নিয়ে আমরা তাত্ক্ষণিক একটি বৈঠক করি। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, আসন্ন কোরবানির ঈদে রেলওয়ে পশু পরিবহন করবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা এখনো ট্রেনের রুট ঠিক করিনি। বিষয়টি আসলে নির্ভর করে চাহিদার ওপর। যেসব অঞ্চল থেকে কোরবানির পশু পরিবহনের চাহিদা আছে, সেসব অঞ্চলে আমরা পশুবাহী ট্রেনগুলো চালাব। রেল জনগণের বাহন। আমরা সেভাবেই দেয়ার চেষ্টা করে আসছি। করোনা পরিস্থিতিতে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে আমরা এরই মধ্যে লাগেজ ভ্যান চালু করেছি। আম পরিবহনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে চাষীরা খুব অল্প খরচে তাদের পণ্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দিতে পারছেন।

এর আগে রেল সর্বশেষ পশু পরিবহন করেছিল ২০০৮ সালে। সে সময় দেওয়ানগঞ্জ বাজার থেকে ঢাকার কমলাপুরে পশু আনা হয়েছিল। তখন চার চাকার ওয়াগনে পশু পরিবহন করা হতো। বর্তমানে রেলওয়েতে আর কোনো চার চাকার ওয়াগন চলাচল করে না। কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য আট চাকার ওয়াগন ব্যবহার করা হবে। আগ্রহী ব্যবসায়ীদের রেলওয়ের কন্ট্রোল নম্বর ০১৭১১-৬৯১৫২০- যোগাযোগ করতে হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে রেলমন্ত্রী বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় সরকার মানুষের চলাচল নিরুৎসাহিত করছে। আমরা সরকারের সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঈদের সময় বাড়তি কোনো ট্রেন যোগ করব না। বর্তমানে সীমিত পরিসরে যেভাবে চলছে, ঈদেও সেভাবেই চলবে।

ব্রিফিংয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক শাসছুজ্জামান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মিয়াজাহানসহ রেলপথ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন