শনিবার | আগস্ট ১৫, ২০২০ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭

শেষ পাতা

পরিবর্তন ইসলামী ব্যাংককে সর্বজনীন করেছে

মো. মাহবুব উল আলম দুই বছরের বেশি সময় ধরে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮৪ সাল থেকে টানা ৩৬ বছর ব্যাংকটিতে কর্মরত রয়েছেন তিনি। দেশের বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংকটির অতীত, বর্তমান ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাছান আদনান

চার বছর আগে ইসলামী ব্যাংকে বড় রদবদল পরিবর্তন হয়েছে। নিয়ে বিতর্ক সমালোচনাও হয়েছে অনেক। এসবের ইতিবাচক নেতিবাচক দিক কী দেখছেন?

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনায় বড় পরিবর্তনের প্রায় চার বছর হলো। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পরিবর্তন ছিল ইসলামী ব্যাংকের জন্য আশীর্বাদ। মৌলিকভাবে তিনটি সূচকে দৃশ্যমান পরিবর্তনের কথা আমি বলতে পারি। এগুলো হলো সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা, ব্যবসা সম্প্রসারণ আর্থিক ফলাফল।

ভালো ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি থাকলেও ইসলামী ব্যাংকের সর্বজনীন গ্রাহণযোগ্যতা ছিল না। কিছু মানুষ হূদয় দিয়ে ভালোবাসলেও সরকার সমাজের অগ্রসর একটি শ্রেণী ব্যাংককে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখতেন। ইসলামী ব্যাংকে নারী কর্মীর সংখ্যা কম ছিল। এটি নিয়েও কথা হতো। পর্ষদে বড় পরিবর্তনের ফলে সরকার সুশীল সমাজের কাছে ইসলামী ব্যাংক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় ভালো ব্যাংক হিসেবে আমরা সব শ্রেণীর মানুষের ভালোবাসা সমর্থন পাচ্ছি। সরকারের মন্ত্রী, এমপি সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নিয়মিতই ইসলামী ব্যাংকে আসছেন। ব্যাংকের কার্যক্রম ভেতর থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। দেশের সব শ্রেণীর মানুষ এখন ইসলামী ব্যাংককে নিজেদের প্রতিষ্ঠান মনে করছে। এটিকে আমি বড় অর্জন মনে করি।

গত চার বছরে ব্যাংকের ব্যবসা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সম্প্রসারিত হয়েছে। সময়ে ইসলামী ব্যাংকের আমানত, বিনিয়োগ, মুনাফা, রেমিট্যান্স, আমদানি, রফতানিসহ ব্যবসার সব ক্ষেত্রেই উন্নতি হয়েছে। ২০১৬ সালে ব্যাংকের আমানত ছিল ৬৮ হাজার কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছর পার করে ব্যাংক পরিমাণ আমানত পেয়েছে। আর গত চার বছরে ইসলামী ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। আমানত বাড়ার পাশাপাশি নিরাপদ দূরত্বে থেকে আমরা সমানতালে বিনিয়োগও বাড়িয়েছি। বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ আমানতের অনুপাত (আইডিআর) ৮৫ শতাংশ। এটিকে ৯২ শতাংশে উন্নীত করার সুযোগ এখনো আমাদের হাতে আছে।

ইসলামী ব্যাংক প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের জেপি মরগানের সঙ্গে চারটি হিসাব চালু করেছে। তিন বছরের প্রচেষ্টা বহু পরিশ্রমের ফল এটি। তারা নিজেরাই বাংলাদেশে এসে আমার সঙ্গে বৈঠক করে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকাণ্ডে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছে। এর সুফলও আমরা বহুভাবে পেতে থাকব। মহামারী কেটে গেলে দেশের মোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ২৫ শতাংশ ইসলামী ব্যাংকের হাতে চলে আসবে। অর্জনও ব্যাংকের বড় পরিবর্তনের কারণে সম্ভব হয়েছে।

গত চার বছরে ইসলামী ব্যাংকের মুনাফায়ও বড় প্রবৃদ্ধি এসেছে। ২০১৯ সালে আমরা হাজার ৯০০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছি। আমাদের ব্যাংকের ইপিএস দশমিক ৩২ শতাংশ। সব মিলিয়ে পরিবর্তন পুনর্গঠন অনেক ক্ষেত্রে যে ইতিবাচক হয়, ইসলামী ব্যাংকই তার বড় প্রমাণ।

পুরো ব্যাংকিং খাতের আমানত যখন নিম্নমুখী, তখনো ইসলামী ব্যাংকের আমানত বাড়ছে। এর কারণ কী?

ব্যাংকিং খাতের আমানত অনেক বেশি নিম্নমুখী ছিল তা নয়। আমানত ঋণ প্রবৃদ্ধির হার সমান্তরাল না হওয়ায় ব্যাংকিং খাতের তারল্যে কিছু অসামঞ্জস্যতা তৈরি হয়েছিল। যেমন২০১৭ সালে ব্যাংকিং খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, বিপরীতে ১৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ ছিল ঋণ প্রবৃদ্ধি। এভাবে কয়েক বছর ঋণ আমানতের প্রবৃদ্ধির হারে বড় ব্যবধান তৈরি হওয়ায় বাজারে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছিল। তবে গত এক বছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি শতাংশের নিচে নেমে গেছে। কারণে ঋণ আমানতের প্রবৃদ্ধিতে ভারসাম্য ফিরে এসেছে।

উন্নত দেশগুলোর আর্থিক খাতের ৩০ শতাংশ হলো ব্যাংকের অর্থায়ন। অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির ৯০ শতাংশই ব্যাংকনির্ভর। মহামারীর সময়ে সরকার জনগণের ব্যাংকনির্ভরতা বাড়বে এটি প্রত্যাশিতই ছিল। মার্চের শুরুর দিকে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেয়ার প্রবণতা বেশি দেখালেও পরে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। গত কয়েক মাসে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক দক্ষতার সঙ্গে ব্যাংকিং খাত সামাল দিয়েছে। ব্যাংকগুলো একদিনের জন্যও বন্ধ থাকেনি। এতে ব্যাংকিং খাতের প্রতি গণমানুষের আস্থা বেড়েছে।

২০১৯ সালে দেশের ব্যাংকিং খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক শতাংশ। কিন্তু একই বছর ইসলামী ব্যাংকের আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৯১ শতাংশ। গত বছর আমাদের ১২ হাজার ২৭২ কোটি টাকার আমানত বেড়েছে। আমানত প্রবৃদ্ধির ধারা চলতি বছরও অব্যাহত রয়েছে।

ইসলামী ব্যাংক এখন লাখ কোটি টাকা আমানতের ব্যাংক। অর্জনকে কীভাবে দেখছেন?

গত মাসে আমরা আমানতের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক এক মাইলফলক স্পর্শ করেছি। সময়ে ইসলামী ব্যাংকের আমানত লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ৩০ জুন শেষে আমাদের ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় লাখ ৪৫৭ কোটি টাকায়। গত ছয় মাসে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় হাজার কোটি টাকার আমানত বেড়েছে।

দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের আমানত লাখ কোটি টাকার বেশি। তবে অন্য ব্যাংকগুলোর আমানতের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের আমানতের মৌলিক তফাত রয়েছে। আমাদের ব্যাংকে কোনো সরকারি আমানত নেই। নেই কোনো বড় করপোরেটের আমানতও। ইসলামী ব্যাংকের আমানত হলো দেড় কোটি গ্রাহকের ক্ষুদ্র সঞ্চয়।

দুর্যোগপূর্ণ সময়ে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের পাশে ছিল। শাখাগুলোর প্রতি আমাদের নির্দেশনা ছিল, চাওয়া মাত্রই যেন গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেয়া হয়। শুরুর দিকে অনেক শাখা ব্যবস্থাপক আমানত নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। কিন্তু আমি ব্যালান্সশিট নিয়ে চিন্তা করিনি। মহামারীতে সারা বিশ্বের ব্যাংকিং খাতই চ্যালেঞ্জের মুখে আছে। অবস্থায় ভয় পাওয়ার কিছু ছিল না।

দুঃসময়ে গ্রাহকদের পাশে দাঁড়ানোর ফল আমরা এরই মধ্যে পেয়েছি। গত তিন মাসের প্রতিটি দিন আমাদের আমানত বেড়েছে। এটি ইসলামী ব্যাংকের প্রতি গণমানুষের অবিচল আস্থা বিশ্বাসেরই বহিঃপ্রকাশ। গ্রাহকরা বুঝেছে, ইসলামী ব্যাংক যে কোনো পরিস্থিতিকে ডিঙানোর সক্ষমতা রাখে। এছাড়া সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থছাড় রেমিট্যান্সের বড় উল্লম্ফনও আমানত বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

ইসলামী ব্যাংক গত মাসে রেকর্ড ৫৮১ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এনেছে। রেমিট্যান্সের উল্লম্ফনকে কীভাবে দেখছেন?

রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধুর নাম ইসলামী ব্যাংক। জন্মলগ্ন থেকেই দেশের পক্ষে আমরা দায়িত্ব পালন করে আসছি। ২০১৯-২০ অর্থবছরেও দেশের মোট রেমিট্যান্সের এক-চতুর্থাংশ ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে। গত অর্থবছরে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৪১৪ কোটি ৯৮ লাখ ডলার। এর মধ্যে শুধু জুন মাসেই ৫৮ কোটি ডলার এসেছে। গত মাসে ইসলামী ব্যাংকের রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১৬ শতাংশ। মে মাসেও আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে ৪৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল। যদিও অতীতে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড ছিল ৩৯ কোটি ডলারের।

শতাংশ সরকারি প্রণোদনা বাস্তবায়ন হুন্ডির তত্পরতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বেড়েছে বলেই মনে করছি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা হয়তো সঞ্চয়ের টাকাও দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। চলমান মহামারীতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশীরা যাতে টিকে থাকতে পারেন, তার জন্য দূতাবাসগুলোর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ তত্পরতা দরকার।

আইবিবিএল এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করেছে দুই বছর হলো। এর মধ্যেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। স্বল্প সময়ে এত দ্রুত সম্প্রসারণের কারণ কী?

ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করেছে ২০১৭ সালে। ব্যাংকিংকে আমরা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কর্মসূচির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছি। এটা ঠিক, দ্রুততম সময়ে আমরা সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল বেশিসংখ্যক মানুষের ঘরে ইসলামী ব্যাংকের সেবা পৌঁছে দেয়া। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনা।

দেশের শহরাঞ্চলে ইসলামী ব্যাংকের কোনো এজেন্ট নেই। আমাদের সব এজেন্টই গ্রামে। শহরে আমরা উপশাখা চালু করছি। গ্রামে দিচ্ছি এজেন্ট। ২০১৮ সালেই আমরা ৩০০ এজেন্ট দিয়েছিলাম। সংখ্যা এখন হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। এজেন্টদের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন লাখ ৫৩ হাজার গ্রাহক। এসব গ্রাহকের হাজার ৬০০ কোটি টাকার আমানত ব্যাংকে জমা রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের আমানত বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এজেন্টরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে আমরা এজেন্টদের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে চাই।

দেশের প্রায় সব ব্যাংকই এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ। গ্রামের ছোট্ট একটি বাজারেই খুলে গেছে পাঁচ-সাতটি আউটলেট। অবস্থায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ কতটা নিরাপদ?

এটি ঠিক প্রযুক্তির উত্কর্ষের কারণে দিনদিন ব্যাংকিং লেনদেনে নতুন নতুন ফিচার যুক্ত হচ্ছে। ব্যাংকগুলো এখন লেনদেনসহ অনেক সেবাই মোবাইল অ্যাপসে নিয়ে যাচ্ছে। তার পরও বাংলাদেশে আগামী ১৫-২০ বছর এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রয়োজন হবে। কারণ দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী এখনো ব্যাংকিং সেবার বাইরে থেকে গেছে। প্রযুক্তির সেবা নিয়ে লেনদেন করবে, গ্রামাঞ্চলে এমন লোকসংখ্যাও বেশি নয়। ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশনের জন্য এজেন্ট ব্যাংকিং চমৎকার মাধ্যম। আমি এজেন্টদের পক্ষে। তবে এটিও দেখতে হবে, এজেন্টরা যাতে লাভবান হতে পারে। ইসলামী ব্যাংক এমন স্থানেই আউটলেট দিচ্ছে, যেখানে একজন এজেন্টের লাভবান হওয়া খুব সহজ। ক্ষুদ্র আমানতকারীরা যে কোনো ব্যাংকের বড় শক্তি। ইসলামী ব্যাংক এদিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাংক। কারণ দেড় কোটি ক্ষুদ্র আমানতকারীর সঞ্চয়ই হলো আমাদের লাখ কোটি টাকার আমানত।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে প্রতারণার ঝুঁকি কতটা দেখছেন?

প্রতারণা বা অনিয়মের ঝুঁকি সব ক্ষেত্রেই থাকে। ব্যক্তি যদি অসৎ হয়, তাহলে প্রতারণা শাখায়ও হতে পারে। প্রতারণা যাতে না হয়, তার জন্য ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে। এজেন্টদের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইসলামী ব্যাংক প্রত্যেকটি আউটলেটে একজন করে নিজস্ব কর্মী দিচ্ছে। আমাদের নিজস্ব কর্মী সব লেনদেন তদারকি করছেন। ফলে অন্তত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রতারণার সুযোগ নেই বললেই চলে।

ইসলামী ব্যাংক কতটা ডিজিটাল? আরো প্রযুক্তি সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য পরিকল্পনা কী?

শুরু থেকেই ইসলামী ব্যাংক প্রযুক্তি খাতের খরচকে ব্যয় হিসেবে না ভেবে, বিনিয়োগ হিসেবে ভেবেছে। ফলে ব্যাংকটি একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে। বাংলাদেশে আমাদের চেয়ে দু-একটি ব্যাংক প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকতে পারে। তবে যে দুর্বলতাগুলো ছিল, তা- কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা উদ্যোগ আমাদের রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমরা ডিজিটাল মেলার আয়োজন করেছিলাম। তার পরও করোনা মহামারী আমাদের চোখ আরো বেশি করে খুলে দিয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের জন্য আমাদের ২০০ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছে। টাকা দিয়ে আমরা বিপুল পরিমাণে হার্ডওয়্যার সফটওয়্যার কিনতে চাই।

ইসলামী ব্যাংকের রেমিট্যান্স, ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট সেন্ট্রালাইজড। আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি ফরমাল ব্যাংকিং সলুয়েশনে। তার পরও ইসলামী ব্যাংকের ৬০ শতাংশ লেনদেনই বর্তমানে অটোমেটেড। আমাদের হিসাব খোলার প্রক্রিয়াটি সেন্ট্রালাইজড, যেটি দেশের অন্য ব্যাংকগুলো এখনো চিন্তাই করেনি।

আপনাদের মোবাইল ব্যাংকিং জনপ্রিয়তা না পাওয়ার কারণ কী? এটি নিয়ে কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে?

মোবাইল ব্যাংকিং আমরা বহু আগেই চালু করেছিলাম। কিন্তু যথোপযুক্ত গুরুত্ব এটিতে আমরা নিইনি। তবে এখন নতুন করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আমরা জোর দিচ্ছি। আমাদের এম ক্যাশ যেটুকু পিছিয়ে আছে, আগামী এক বছরের মধ্যে তার সবটুকুই পুষিয়ে দেয়া হবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনার অর্থ গার্মেন্ট শ্রমিকদের কাছে পৌঁছে দিতে গিয়ে আমরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করতে পেরেছি। এজন্য আগামী এক বছরে এম ক্যাশে আমূল পরিবর্তন আনা হবে।

ইসলামী ব্যাংকের ৯৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত?

গ্রাহকদের জমানো আমানত থেকেই আমরা ৯৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি। আমি গ্রাহকদের বার্তা দিতে চাই যে দেশের অন্য যে কোনো ব্যাংকের তুলনায় ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ সুরক্ষিত। আমাদের ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার দশমিক শতাংশ। যেখানে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের গড় হার প্রায় ১০ শতাংশ। খেলাপি ঋণ নিয়ে সব ব্যাংক যখন ধুঁকছিল, তখনো ইসলামী ব্যাংক ঝুঁকিমুক্ত থেকেছে। এসএমই খাত ইসলামী ব্যাংকের প্রাণ। দেশের এসএমই খাতের প্রধান ভরসার প্রতিষ্ঠানও ইসলামী ব্যাংক।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন

×