বৃহস্পতিবার | আগস্ট ০৬, ২০২০ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

টকিজ

অস্কারে বিচারক হওয়ার ডাক পেলেন জামিয়া মিলিয়ার সাবেক ৩ শিক্ষার্থী

বণিক বার্তা অনলাইন

লিঙ্গ, বর্ণ ও জাতিগত দিক থেকে আরো বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময়তার ভিত্তিতে আরো বেশি প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভাবমূর্তি তৈরির লক্ষ্যে বিশ্বের ৬৮টি দেশের ৮০০ জন চলচ্চিত্র পেশাদারকে সদস্যপদ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স। অ্যাকাডেমিটি তার বার্ষিক পুরস্কারের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। যা অস্কার নামেই সমধিক পরিচিত।

নতুন আমন্ত্রিতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন হলিউড ও বলিউডের খ্যাতনামা ব্যক্তি রয়েছেন। রয়েছেন বেশ কয়েকজন ভারতীয় চলচ্চিত্র পেশাদারও। তবে এবারের আলোচিত ঘটনা হলো, সেখানে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে সদস্য মনোনীত হয়েছেন ভারতের জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া (জেএমআই) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক তিন শিক্ষার্থী। 

অস্কারে ডাক পাওয়া নিশথা জৈন, শারলি আব্রাহাম ও অমিত মহাদেসিয়া তিনজনই বিশ্ববিদ্যালয়টির গণযোগাযোগ গবেষণা কেন্দ্র (এমসিআরসি) থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। 

নিশথা জৈন জেএমআই থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া থেকে বিশেষ ডিগ্রি লাভ করেন। তার চলচ্চিত্রের তালিকায় সিটি অব ফটোস (২০০৪), লক্ষ্মী অ্যান্ড মি (২০০৭), অ্যাট মাই ডোরস্টেপ (২০০৯), ফ্যামিলি অ্যালবাম (২০১১) এবং গুলাবি গ্যাং (২০১২) রয়েছে। গুলাবি গ্যাং ২০১৪ সালে সামাজিক ইস্যুতে সেরা চলচ্চিত্রের জাতীয় পুরস্কার জিতেছিল। 

এখন পর্যন্ত নিশথা ২৫টি আন্তর্জাতিক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন এবং ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণাকালে গ্লোবাল মিডিয়া মেকার অ্যাওয়ার্ড (২০১৯), ফুলব্রাইট-নেহরু অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড প্রফেশনাল অক্সেলেন্স ফেলোশিপসহ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ অর্জন করেছেন। তার বেশকিছু চলচ্চিত্র জেএমআই-এর এমসিআরসির মূল পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। 

এদিকে শারলি আব্রাহাম ও অমিত মহাদেসিয়া এমসিআরসি থেকে ২০০৬ সালে স্নাতক হন এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত বেশ কয়েকটি প্রকল্পে কাজ করেছেন। তাদের ফিচার-লেন্থ ডকুমেন্টারি ‘সিনেমা ট্রাভেলার্স’ কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অফিসিয়াল নির্বাচিত হিসেবে প্রিমিয়ার করেছিলেন এবং বিপুল সংবর্ধনা পেয়েছিলেন। ছবিটি কান, টরন্টো ও নিউইযর্ক ফিল্ম ফেস্টিভালের বিরল উৎসব ত্রিফেক্টা অর্জন করেছে এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদকসহ ১৯টি পুরস্কার জিতেছে। 

অমিত মহাদেসিয়া একজন বহুল প্রশংসিত ফটোগ্রাফারও, যার ‘নাইট স্ক্রিনিং অব ট্রাভেলিং সিনেমা ইন ইন্ডিয়া’ শীর্ষক ১২টি সিরিজ ছবি ২০১১ সালে ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিল।

অন্ধবিশ্বাসের কবলে থাকা দুইটি গ্রাম নিয়ে করা তাদের সার্সিং ফর সরস্বতী (২০১৮) ডকুমেন্টারি নিউইয়র্ক টাইমস অপ-ডকস নির্বাচিত হয়েছিল। ২০১৯ সালে গরুর জন্য মুসলমানদের গণপিটুনি ও হত্যার ঘটনা নিয়ে আব্রাহাম ও মহাদেসিয়া দ্য আওয়ার অব দ্য লিঞ্চিং শীর্ষক শক্তিশালী একটি ছোট তথ্যচিত্র তৈরি করেছিলেন। গার্ডিয়ানের নিউজ ওয়েবসাইটে ছবিটি স্ট্রিম করার কথা রয়েছে। এছাড়া তারা অসংখ্য সম্মানজনক পুরস্কার জিতেছেন। 

আমন্ত্রণটি পাওয়ার ফলে চলতি বছরের অস্কারের মনোনয়নের দৌড়ে থাকা চলচ্চিত্রে তারা ভোট দিতে পারবেন। এ ব্যাপারে শারলি আব্রাহাম টুইটারে লিখেছেন, এক স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আমি আমার কণ্ঠের বৈধতার মূল্য জানি। অ্যাকাডেমির সদস্য হিসেবে যোগদানের জন্য আমন্ত্রিত হওয়া আমাদের সামনে একটি কাজের জগত তৈরি হয়েছে এবং আমি প্রস্তুত আছি।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন