রবিবার | আগস্ট ০৯, ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

প্রথম পাতা

কভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসা নিয়ে ডব্লিউএইচও

ম্যালেরিয়া ও এইচআইভির ওষুধ ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত

বণিক বার্তা ডেস্ক

হাসপাতালে ভর্তি কভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন এবং এইচআইভির চিকিৎসায় ব্যবহূত লোপিনাভির রিটোনাভিরের সংমিশ্রণের পরীক্ষামূলক ব্যবহার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কভিড-১৯ রোগীর মৃত্যুঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে ওষুধগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণ না হওয়ায় এগুলোর সলিডারিটি ট্রায়াল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। তবে হাসপাতালে ভর্তি নয়, এমন রোগীদের ক্ষেত্রে গবেষণা বা পরীক্ষামূলক ব্যবহার বন্ধের কোনো নির্দেশনা ডব্লিউএইচও দেয়নি। খবর রয়টার্স, সিএনবিসি।

এর আগে গত মে মাসের শেষের দিকে একটি প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এক দফায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার বন্ধ করে ডব্লিউএইচও। কিন্তু তার সপ্তাহখানেক পরই আবার তা চালু করে তারা।

হাসপাতালে ভর্তি কভিড-১৯ রোগীদের হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন এবং লোপিনাভির রিটোনাভিরের সংমিশ্রণ প্রয়োগে মৃত্যুঝুঁকি না কমার কথা জানিয়ে শনিবার সেগুলোর ব্যবহার বন্ধ রাখার কথা বলেছে ডব্লিউএইচও। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন লোপিনাভির/রিটোনাভির হাসপাতালে ভর্তি কভিড-১৯ রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি কমিয়েছেঅন্তর্বর্তীকালীন পরীক্ষায় তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো প্রমাণ মেলেনি। বিশেষ করে বর্তমানে কভিড-১৯ রোগীদের বিদ্যমান মানদণ্ড অনুযায়ী যেভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে (স্ট্যান্ডার্ড কেয়ার), তার সঙ্গে এসব ওষুধ ব্যবহারে ফলাফলের পার্থক্য খুবই কম অথবা একেবারেই নেই। কারণে সলিডারিটি ট্রায়াল অতিসত্বর বন্ধ করা হবে।

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসায় এখনো কার্যকর কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। অবস্থায় ডব্লিউএইচওর পরামর্শ অনুযায়ী বিদ্যমান অন্যান্য রোগের ওষুধ নিয়ে সমন্বিত পরীক্ষা চালাচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকরা, যাকে বলা হচ্ছে সলিডারিটি ট্রায়াল। পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পরীক্ষা শুরু হয়। এগুলো হলো স্ট্যান্ডার্ড কেয়ার, রেমডেসিভির, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন, লোপিনাভির রিটোনাভিরের সংমিশ্রণ এবং লোপিনাভির/ রিটোনাভিরের সঙ্গে ইন্টারফেরনের সংমিশ্রণ। এর মধ্যে দুটি ক্যাটাগরির পরীক্ষামূলক ব্যবহার বন্ধ হয়ে গেল।

গত ২৫ মে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেটটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার বন্ধ রাখতে বলে ডব্লিউএইচও। এই ওষুধ সেবনে অনেকের হূত্স্পন্দনে গুরুতর অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে বলে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) সতর্কবার্তা দিয়েছিল। পরে জুন ওই সিদ্ধান্ত পাল্টে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাডহ্যানম গেব্রিয়েসুস বলেছিলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের পরীক্ষামূলক ব্যবহারে বাধা নেই। ডব্লিউএইচওর গবেষক দল যাচাই করে দেখেছে যে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন সেবনে কভিড-১৯ রোগীদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে পড়ার কোনো প্রমাণ নেই। আর এখন কার্যকারিতার প্রশ্নে সেই ওষুধের ব্যবহারই বন্ধ করা হলো।

বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও বলেছে, হাসপাতালে ভর্তি না হওয়া অনেক রোগীর ওপরও ওষুধগুলোর পরীক্ষামূলক ব্যবহার হচ্ছে। সংস্থাটির নতুন সিদ্ধান্তের কারণে ধরনের পরীক্ষা বন্ধ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

এমন এক সময়ে ডব্লিউএইচও হতাশাজনক পদক্ষেপ নিল, যখন কভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় কার্যকর ওষুধ আবিষ্কারের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে রয়েছে পুরো বিশ্ব। বিশেষ করে যখন বিশ্বজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ বিবৃতিতে ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বব্যাপী আরো লাখ ১২ হাজার ৩২৬ কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, সময়ে হাজার ১৩৪ কভিড-১৯ রোগী মারা গেছে। এতে সারা বিশ্বে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে লাখ ২৩ হাজার ১১।

গত ১১ মার্চ করোনার প্রাদুর্ভাবকে মহামারী হিসেবে ঘোষণা করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন