মঙ্গলবার | আগস্ট ১১, ২০২০ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭

শেষ পাতা

আইসিএবির কনফারেন্সে বক্তারা

করোনার সুযোগে হিসাবমান লঙ্ঘনের প্রবণতা বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

কভিড-১৯-এর কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের মধ্যে হিসাবমান লঙ্ঘনের প্রবণতা বাড়ছে। অথচ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে যে কোনো ক্রান্তিকালীন পরিস্থিতিতে কঠোরভাবে আইন ও অনুশাসন মেনে চলা হয়ে থাকে। গতকাল ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) আয়োজিত আর্থিক প্রতিবেদন ও গুণগত নিরীক্ষার মানোন্নয়ন শীর্ষক এক ভার্চুয়াল কনফারেন্সে বক্তারা এসব কথা বলেন।

কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান সিকিউকে মুসতাক আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ফারুক। সেশন চেয়ারম্যান ছিলেন আইসিএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিএবির টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকী।

এফআরসির চেয়ারম্যান সিকিউকে মুসতাক আহমেদ বলেন, কভিড-১৯-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে। সামনের দিনগুলোতে প্রকৃতপক্ষে কী হতে যাচ্ছে, সেটা আমরা কেউই বলতে পারছি না। তাই আমাদের সবাইকে কভিডপরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তৈরি থাকতে হবে।

কোম্পানির স্বাধীন পরিচালকরা মোটেই স্বাধীন নয় উল্লেখ করে এফআরসির চেয়ারম্যান বলেন, তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া কীভাবে হয়, সেটা আমাদের অজানা নয়। অথচ আর্থিক প্রতিবেদনের মানোন্নয়ন ও গুণগত নিরীক্ষা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে স্বাধীন পরিচালকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ও বহিঃনিরীক্ষকের মধ্যে সম্পর্কগত ঘাটতি রয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদন ও গুণগত নিরীক্ষার মানোন্নয়নে এ ঘাটতি দূর করতে হবে। অনিয়মের ক্ষেত্রে শাস্তির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই একমাত্র সমাধান নয়। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে ঘাটতি দূর করার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। আইসিএবির পক্ষ থেকে যৌথ কমিটি গঠনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব কমিশনের কাছে পাঠানো হলে সেটি বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

এফআরসির নির্বাহী পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি সাধারণ ধারনা প্রচলিত রয়েছে যে আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকৃত তথ্য প্রতিফলিত হয় না। অনেকক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত খরচকে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে অন্তর্ভূক্ত করা হয়ে থাকে। অনেক নিরীক্ষা ফার্ম তাদের ওয়ার্কিং ফাইল যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে না। তাদের লোকবলেও ঘাটতি রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় এসব ফার্মের পার্টনার যারা রয়েছেন তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার আইন ও বিধি বিধান এবং আন্তর্জাতিক হিসাবমানে সময়ে সময়ে যেসব পরিবর্তন হয় সেগুলো সম্পর্কে অবগত থাকেন না। কভিড-১৯ এর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে হিসাবমান লঙ্ঘনের প্রবণতা বেড়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের হিসাবমান পরিপালনের বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।

কনফারেন্সে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে আর্থিক প্রতিবেদন ও গুণগত নিরীক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিতের ক্ষেত্রে সবার আগে ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, তারপর মিড অফিস, এরপর অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা এবং সবশেষে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বহি নিরীক্ষকের ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষার মানোন্নয়নে প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ, যৌথ কমিটি বা টাস্কফোর্স গঠন এবং কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে টার্ম অব রেফারেন্স প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন