শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ | ৯ আশ্বিন ১৪২৭

করোনাবিশ্ব

কভিড-১৯ বদলে দিচ্ছে খুচরা বিক্রির ভবিষ্যৎ

শেরন মেসিগে

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ান সুপারমার্কেট জায়ান্ট উলউর্থ লজিস্টিক অবকাঠামোতে একক বৃহত্তম বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে যেখানে তারা ৭৮০ মিলিয়ন ডলার খরচ করবে ১৩ শতাধিক কর্মীকে রোবট দিয়ে প্রতিস্থাপন করার জন্য তারা পরিকল্পনা করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম সিডনিতে একটি সেমি-অটোমেটেড এবং একটি পূর্ণ অটোমেটেড বিপণনকেন্দ্র চালু করার নতুন এই সেন্টারে প্রায় ৬৫০টি চাকরির সুযোগ তৈরি হবে এবং যা কিনা ২০২৪ সালে চালু হওয়ার কথা এর ফলে অবশ্য বিদ্যমান তিনটি সেন্টার (দুটি সিডনি একটি মেলবোর্নে) বন্ধ হয়ে যাবে

উলউর্থের প্রধান সাপ্লাই চেইন কর্মকর্তা পল গ্রাহাম অটোমেশনের নিরাপত্তা সুবিধার ওপর জোর দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন অবশ্য এই কভিড সচেতনতার সময়ে এটা হতেই হতো এটা সত্য যে কভিড-১৯-এর কারণে রিটেইল সেক্টরে যে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এটা তারই প্রতিক্রিয়া

এখানে মূল পরিবর্তনটা হচ্ছে গতির বিষয়ে কভিড-১৯ অনলাইন শপিংয়ে ব্যাপক গতি নিয়ে এসেছে এমনকি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নীতি শিথিল হয়ে এলেও এটা চলমান থাকবে অনেক ইট-মর্টারের দোকান এখন বিপদে আছে, বিশেষ করে শপিং সেন্টারে অবস্থিত দোকানগুলো

রিটেইলও নতুন চেহারা পাবে কভিড-১৯ কীভাবে আমাদের শপিংয়ের ধরন পাল্টে দেবে তার ওপর ভিত্তি করে

অনলাইন শপিং এখন নতুন রূপ পাবে

অস্ট্রেলিয়ান পোস্টের মতে, এপ্রিলে . মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান অনলাইনে শপিং করেছে অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস হিসাব করে বলেছে, সেই বিক্রির মূল্য . বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার

চাহিদা বৃদ্ধির এই তীব্রতা রিটেইলারদের অনলাইন সক্ষমতার দুর্বলতাকেও সামনে এনেছে উদাহরণস্বরূপ, অনলাইনে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে উলউর্থ এবং তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কোলসকে সাময়িকভাবে তাদের অলনাইন শপিং সার্ভিস স্থগিত করতে হয়েছিল

২০১৯ সালের মার্চে কোলস এন্ড-টু-এন্ড অনলাইন গ্রোসারি শপিং সলিউশন ব্যবহারের ঘোষণা দেয় যা বিকশিত হয়েছে ওকাডো নামে একটি ব্রিটিশ অনলাইন সুপারমার্কেট দ্বারা, যাদের কোনো দোকান নেই, কেবল গুদাম আছে এই প্রযুক্তি অনলাইন শপিংয়ের অভিজ্ঞতাকে বিস্তৃত করেছে, যেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিপূরণ হয় এবং হোম ডেলিভারি দেয়া হয়

কোলস তাদের পরিকল্পনায় যুক্ত করে মেলবোর্নে নতুন দুটি উচ্চমাত্রায় স্বয়ংক্রিয় কাস্টমার ফুলফিলমেন্ট সেন্টার, যা ২০২৩ সালের মাঝে প্রস্তুত হবে পাশাপাশি কোলস নতুন দুটি স্বয়ংক্রিয় বিপণনকেন্দ্রেরও পরিকল্পনা করছে যার একটি কুইন্সল্যান্ডে এবং অন্যটি এনএসডব্লিউতে, যার খরচ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে ৭০০ মিলিয়ন

এদিকে উলউর্থ নিজেই এরই মধ্যে মেলবোর্নেও দক্ষিণাঞ্চলে বিপণনকেন্দ্র চালু করেছে যার স্বয়ংক্রিয় বৈশিষ্ট্যগুলো প্রচারমূলক ভিডিওতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল

এই নতুন বিকাশ মূলত ট্রেন্ডের অংশ, যা এখন কভিড-১৯ দ্বারা ত্বরান্বিত হয়েছে আর গবেষণা বলছে, ভোক্তারা যখন একটি নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে, তখন তারা তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে

 

ভবিষ্যৎ অন্ধকার

সাপ্লাই চেইনের অন্য প্রান্তে অনলাইন শপিংয়ে পরিবর্তন তৈরি করেছে ডার্ক স্টোর-এর চাহিদা, এসব দোকানে গ্রাহক নেই এই ছোট, বিকেন্দ্রীকরণের সুবিধাগুলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের চেয়ে শহরতলির জন্য বেশি ডিজাইন করা হয়েছে এরা শুধু অর্ডারমতো পণ্য সরবরাহ করে

উলউর্থ প্রথম ডার্ক স্টোর খোলে সিডনিতে ২০১৪ সালে কোলস মেলবোর্নে খোলে ২০১৬ সালে বিদ্যমান স্টোরগুলো এখন ডার্ক স্টোরে রূপান্তরিত হচ্ছে

এই পরিবর্তনগুলো স্থায়ী হয়ে যাচ্ছে ক্রেতাদের দ্রুত পণ্য পাওয়ার চাহিদার কারণে ফলে প্রচলিত দোকানগুলো এখন কম কার্যকর

 

অল্পস্বল্প দোকান

অনলাইন শপিং রিটেইলারদের আয় অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে যার ফলে দোকানগুলো বন্ধ হতে শুরু করেছে মে মাসে কামর্টের মালিক লক্ষ্যে থাকা ৭৫টি দোকান বন্ধ করার ঘোষণা দেন এছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের আইকন মায়ের এবং ডেডিড জোনও ২০২৫ সালের মাঝে ফ্লোর সাইজ ২০ শতাংশ কমিয়ে আনার চিন্তা করছেন

ফুটওয়্যার জায়ান্ট অ্যাকসেন্ট গ্রুপ যারা এক ডজনের বেশি জুতার ব্র্র্যান্ডের মালিক তারাও এখন দোকান বন্ধ করে অনলাইনে কাজের পরিধি বাড়ানোর চিন্তা করছে

 

শপিং সেন্টার পুনর্নির্মাণ

দোকান বন্ধ হওয়ার এই দৃষ্টান্তগুলো শপিং সেন্টারগুলোর দুর্দশার কারণ হবে যদিও লকডাউন শিথিল হওয়ার পর সেন্টারগুলোতে ভিড় বাড়ছে কিন্তু মহামারী এখনো শেষ হয়নি এবং সামাজিক বিধিনিষেধগুলোও ভোক্তাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে তবে যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ নিরাপদ বোধ করবে না ততক্ষণ ভোক্তার উপস্থিতি কমই থাকবে এক্ষেত্রে সেন্টারগুলো বিনোদন দেয়ার দায়িত্ব কাঁধে নিতে পারে, যা অনলাইন শপিংয়ের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়

কনভারসেশন

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন