রবিবার | আগস্ট ০৯, ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

দেশের খবর

শেবাচিম হাসপাতালের দুই করোনাওয়ার্ডবয়কে নির্যাতনের অভিযোগ

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, বরিশাল

বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ইউনিটের দায়িত্বরত দুই ওয়ার্ডবয়কে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। রাতে করোনা ওয়ার্ডে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন সহকর্মীর কক্ষের বদলে ভুলক্রমে পাশে ডাক্তারের কক্ষে ডাকাডাকি করার অপরাধে তাদের দুইজনকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে চরম শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনা কাউকে জানালে গুমসহ হত্যার হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা। 

এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ করেছে হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। তারা পরিচালকের কার্যালয় ঘেরাও করে অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ এ ঘটনা তদন্ত করে যথাযথ বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ার্ডবয় মো. বাদশা করোনা উপসর্গ নিয়ে করোনা ওয়ার্ডের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন। গত রোববার রাতে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন সহকর্মী বাদশার ১৮ নম্বর কক্ষের বদলে ভুলক্রমে পাশে ডাক্তারের ১৫ নম্বর কক্ষে ডাকাডাকি করেন ওয়ার্ডবয় মো. দিদারুল ইসলাম ও মো. নুরুল ইসলাম। কক্ষ ভুল হওয়ায় দায়িত্বরত নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়ে সহকর্মীর ১৮ নম্বর কক্ষে চলে যান তারা। পরদিন রাতে দিদার ও নুরুল করোনা ওয়ার্ডে ডিউটি করছিলেন। রাত ৯টায় ইন্টার্ন চিকিৎসক মো. আরিফ ও মো. সজল তাদের ফোন করে করোনা ওয়ার্ডের নিচে ডেকে নেন। এরপর আরিফ ও সজলের নেতৃত্বে ৩টি মোটরসাইকেল যোগে ৬/৭জন লোক দিদার ও নুরুলকে ২ নম্বর ইন্টার্ন হোস্টেলে নিয়ে যায়। নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের কক্ষে ডাকাডাকি করার অপরাধে সেখানে তাদের মারধর করে তারা। এ ঘটনা কাউকে জানালে হত্যা করে মৃতদেহ গুম করে দেয়ারও হুমকি দেয়া হয়। 

এদিকে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের কক্ষে ডাকাডাকি করার ঘটনায় করোনা ওয়ার্ডের চিকিৎসক হাসপাতালের পরিচালকের কাছে অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালক ওই দুই ওয়ার্ডবয়কে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়। দুই সহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতন এবং উল্টো কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়ার খবর জানাজানি হলে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আজ সকালে তারা পরিচালকের কক্ষ ঘেরাও করেন এবং সহকর্মীদের নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আল্টিমেটাম দেন। 

তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে ওই দুই ওয়ার্ডবয়কে ছাত্রাবাসে ডেকে নিয়ে শুধু ওই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে উত্ত্যক্ত করার ঘটনা ধামাপাচা দিতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা উল্টো তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন বলে দাবি করেন ইন্টার্ন ডক্টরস হোস্টেল শাখার সভাপতি দাবিদার ইন্টার্ন চিকিৎসক মো. তরিকুল ইসলাম। 

এদিকে করোনা ওয়ার্ড এবং ছাত্রবাসের ঘটনা তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন