রবিবার | জুলাই ১২, ২০২০ | ২৮ আষাঢ় ১৪২৭

খবর

করোনা কেটে গেলে ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ শুনানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট সংকট কেটে গেলে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ পিটিশনের শুনানি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেয়ার সময় মন্ত্রী কথা বলেন।

স্পিকার . শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।

সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর সর্বশেষ অবস্থা জানতে চান। আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সংসদে আমরা সংবিধান সংশোধন করেছিলাম, ষোড়শ সংশোধনী। সেই সংশোধনীটা বাতিল করা হয়েছিল। তারপর আমরা তা আপিল করেছিলাম কিনা, আপিল করলে তার কী অবস্থাআমরা জানি না। আইনমন্ত্রীকে বলব, বিষয়ে ব্যবস্থা নিন। আপনার প্রতি আমাদের বিশ্বাস আছে। আপনার যোগ্যতার প্রতি আমাদের আস্থা আছে।

পরে এর জবাবে আনিসুল হক বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর বিষয়ে একজন সংসদ সদস্য কথা বলেছেন। ষোড়শ সংশোধনীর বিষয় রিভিউ পিটিশন হিসেবে আপিল বিভাগে আছে। যখনই করোনাভাইরাস আমাদেরকে ছেড়ে যাবে তখনই শুনানি শুরু করব।

প্রসঙ্গত, বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়। সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ২০১৫ সালের মে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। সে রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ এবং শুনানি শেষে ওই বছরই জুলাই আপিল বিভাগ ওই আপিল খারিজ করে রায় দেন।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালের আগস্ট। এরপর একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের ওই রায় চ্যালেঞ্জ দিয়ে রিভিউ পিটিশন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের পর তত্কালীন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা দেশ ছেড়ে যান এবং পরে পদত্যাগ করেন।

এদিন মুজিবুল হক চুন্নু আরো বলেন, কোনো কিছু হলেই, ছোটখাটো বিষয়েও আদালেতে রিট করা হয়। যেন তারাই সব, সংসদ কিছু না। কোর্টে মামলার জট। ৪৫ লাখের মতো মামলা বিচারের অপেক্ষায়। তিনি বিচার ব্যবস্থা ডিজিটাল করে মামলার জট কমানোর প্রস্তাব করেন।

বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলার জট অভিযোগ করা হয়েছে। বলা হয়েছে ৪৫ লাখের মতো মামলা। আসলে ৪৫ লাখ নয়, ৩২ লাখের বেশি মামলার জট। আমরা মামলা কমিয়ে ফেলার একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে ছয় মাস তো চলে গেল। মামলার জট কমানো হবে। সরকারের উদ্যোগ আছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন