রবিবার | জুলাই ১২, ২০২০ | ২৮ আষাঢ় ১৪২৭

সম্পাদকীয়

শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অবয়ব সংকুচিত হলেও ধারণ করতে হয়েছে সক্ষমতার বেশি

মো. আবদুর রহিম

বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষে পদার্পণ করল। ১৯২১ সালের জুলাই উপমহাদেশের প্রচলিত অধিভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা এবং পূর্ব বাংলার অধিবাসীদের ভাগ্য পরিবর্তন গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত ছিল। বর্তমান নিবন্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র উপস্থাপন করেছে। 

শিক্ষা গবেষণা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কৃষি, প্রকৌশল, মেডিকেল শিক্ষাসহ পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ ছিল। ১৯৬২ সালে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯৬৪ সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত প্রকৌশল কৃষি শিক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই ছিল। মেডিকেল শিক্ষা এখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ১৪২টি অধিভুক্ত কনস্টিটিউয়েন্স কলেজ এবং ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে এমবিবিএস, বিডিএস, বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি, বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি, বিএসসি নার্সিংসহ বিভিন্ন ধরনের ডিগ্রি প্রদান করে আসছে। বর্তমানে নিজস্ব ক্যাম্পাসে প্রতি শিক্ষাবর্ষে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পর্যন্ত কয়েক লাখ শিক্ষার্থীকে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি, হাজার ৭২৩ জনকে পিএইচডি ডিগ্রি, হাজার ৬২০ জনকে এমফিল ডিগ্রি এবং ৫১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ১০০ গবেষক পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, যার গ্রন্থ পাণ্ডুলিপির সংখ্যা প্রায় সাত লাখ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৮২টি মৌলিক গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ করেছে। দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান গবেষণা পত্রিকা এবং প্রকাশনা সংস্থায় শিক্ষক গবেষকদের প্রবন্ধ মৌলিক গবেষণা গ্রন্থ নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর প্রতিষ্ঠানের ভূ-সম্পদের পরিমাণ বিভিন্ন সময়ে কমেছে কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা গবেষণার পরিসর ক্রমান্বয়ে বেড়েছে।  

গৌরবময় অ্যালামনাই

পূর্ব বাংলার অধিবাসীদের প্রাগ্রসর মানস গঠন এবং সব পর্যায়ের নেতৃত্ব সৃষ্টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় অবদান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জন্ম নেয়া শিক্ষা-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব পূর্ব বাংলায় একটি অধিকার সচেতন অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখেন। এসব গৌরবময় প্রাক্তনীর মধ্যে প্রথমেই যে নামটি আসে, তিনি হলেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এছাড়া বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমানসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, প্রশাসনিক অর্থজগতের অসংখ্য নেতৃত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টি করেছে। অদ্যাবধি ১৩ জন রাষ্ট্রপতি, সাতজন প্রধানমন্ত্রী, পাঁচজন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, ১১ জন প্রধান বিচারপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন।

পৃথিবীর নামকরা অনেক বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা গৌরবের সঙ্গে কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এখনো দেশের আকর্ষণীয় সব কর্মক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান সবার ওপরে।

নারী জাগরণে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনে সহশিক্ষার ব্যবস্থা না থাকলেও অনেক চেষ্টা-তদবির করে বেথুন কলেজের গ্র্যাজুয়েট লীলা নাগ প্রথম শিক্ষাবর্ষেই ভর্তি হন। একই সঙ্গে জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক নরেশ চন্দ্র সেন গুপ্তের মেয়ে সুষমা সেনগুপ্তও সে বছর ভর্তি হন। অনেকটা বিপ্লবী চেতনায় প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীর যাত্রা শুরু। অতঃপর ধীর পদক্ষেপেজেনানা মহলেরবাসিন্দারা প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার বেড়াজাল অতিক্রম করে সামনে এগোতে থাকেন। ১৯২৭ সালে নয়জন, ১৯৩৪-৩৫ সালে ৩৯ জন, ১৯৪৫-৪৬ সালে ৯০ জন, ১৯৫৬-৫৭ সালে ১৭৬ জন ছাত্রী এখানে অধ্যয়নরত ছিলেন। পঞ্চাশের দশকে গতি আসে। ১৯৬৭-৬৮ সালে ছাত্রীর সংখ্যা ছিল হাজার ৩৩৬ জন। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ হাজার (শতকরা ৩৭.৬০) জন ছাত্রী অধ্যয়নরত। নারী শিক্ষক প্রায় ৩৩ শতাংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীরা ছাত্রদের অতিক্রম করেছেন (,৭১,৮৬৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৫১ শতাংশ ছাত্রী) বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে ক্যাম্পাসেও অচিরেই ছাত্রীরা ছাত্রদের সমান হবেন।

শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীর অগ্রযাত্রা সূচিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকেই। এখানকার ছাত্রীরা প্রথমবার রাজপথের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন ১৯৫২ সালে। পরবর্তী সব আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে ট্রেনিং নিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। নারীর এই অগ্রযাত্রা আজ প্রায় পুরুষের সমপর্যায়ে।

সাংস্কৃতিক জাগরণে

শিক্ষা গবেষণার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় অবদান হলো পূর্ব বাংলার আবহমান সংস্কৃতিতে জাতীয়তাবাদী ধারার সূচনা করা। ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষার্থী-শিক্ষক সহযোগে সহপাঠ্য বিষয় হিসেবে খেলাধুলা সংস্কৃতিচর্চা, ছাত্রসংসদকেন্দ্রিক শিক্ষা বিনোদনমূলক কার্যক্রম, সোস্যাল সার্ভিস উপমহাদেশের শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রথম চালু করে, যা স্যাডলার কমিশনের রিপোর্টে উল্লিখিত হয়েছে। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র এবং হল অডিটোরিয়ামগুলো শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চায় কর্মমুখর থেকেছে সবসময়।

পূর্ব বাংলার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের শিক্ষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি জীবনবোধের পরিবেশ সৃষ্টি বিবর্তিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে। মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে একটি সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে উঠেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি হয়েছিল। বুদ্ধদেব বসু প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘সেখানে আছে আলাদা আলাদা গ্রন্থাগার রঙ্গালয় ক্রীড়াঙ্গন; অনুষ্ঠিত হয় বিতর্ক-সভা, সঙ্গীত প্রতিযোগিতা, বার্ষিক ভোজ আরও অনেক সময়োচিত অধিবেশন। সেখানকার নাট্যাভিনয় দেখতে নগরবাসীরাও সোৎসাহে সমবেত হন (মুহম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, স্মৃতি কথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পৃ. ৫২)ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক ধারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী একটি দর্শন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়, যা আজও জনপদের মানুষকে পথ দেখায়।

রাজনৈতিক বিকাশে

আসলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মই হয়েছিল পূর্ব বাংলার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আত্মিক উন্নয়নের জন্য। কৃষক পরিবারের সন্তানরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে এবং অন্যদেরকেও অধিকার সচেতন হতে সহায়তা করে। গ্রাম থেকে আসা এসব শিক্ষার্থী নিজেরা রাজনৈতিকভাবে শিক্ষিত হন। পাশাপাশি আলোয় অন্যদেরও পথ দেখান। তারা একটি রাজনৈতিক পরম্পরা তৈরি করতে সক্ষম হন। এছাড়া পাকিস্তান শাসনামলজুড়ে সব শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ’৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণ অভ্যুত্থান এবং সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অবিস্মরণীয়। মুক্তিযুদ্ধে ১৮ জন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ১৯৪ জন শহীদ হওয়ার তথ্য আমাদের কাছে আছে। অনেক শহীদের তথ্য অজানা রয়ে গেছে। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সব স্বৈরাচারবিরোধী মানবতার মুক্তি আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান সুদূরপ্রসারী।

সীমাবদ্ধতা

আমাদের অনেক আত্মতৃপ্তি আছে। অনেক কিছু করতে না পারার অপূর্ণতাও রয়েছে। শতবর্ষ আগে প্রায় ৬০০ একরের ক্যাম্পাস, ৬০ জন শিক্ষক আর ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু। আজ ক্যাম্পাসের আয়তন কমে আড়াইশ একরে ঠেকেছে, শিক্ষার্থী সংখ্যা অর্ধলাখ ছুঁইছুঁই। অন্যান্য পরিসংখ্যান অনুমেয়। শিক্ষার্থীদের মানবেতর জীবনযাপন আমাদের ব্যথিত করে। বিদেশী শিক্ষক-শিক্ষার্থী টানার মতো বাস্তবতা অনুপস্থিত। দেশের সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে গবেষণা বরাদ্দ ছিল ৪০ কোটি টাকা মাত্র। উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন অধ্যাপক এর চেয়ে বেশি গবেষণায় খরচ করেন। শিক্ষকদের গবেষণামুখী পরিবেশের অনুপস্থিতি, জ্ঞাননির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে চাকরিনির্ভর শিক্ষায় আচ্ছন্নতা, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের অবনতি উচ্চশিক্ষার মৌলিক দর্শনের পরিপন্থী। যন্ত্রযান আর অপ্রত্যাশিতদের অবাধ প্রবেশ বিদ্যাশিক্ষার নির্মল স্বতন্ত্র পরিবেশকে করেছে বিঘ্নিত। জ্ঞানের রাজ্যে ধ্যানমগ্নতার নীরব পরিবেশ কোথায়? ব্রিটিশদের রচিত রমনার সবুজ চিত্রপটে জ্ঞানের উজ্জ্বল আবির আজ খানিকটা ম্লান। ব্রিটিশরারয়েল কমপেনসেশনহিসেবে রাজকীয় আদলে বিশাল পরিসরে যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল, তার শারীরিক অবয়ব দিনে দিনে সংকুচিত হলেও ধারণ করতে হয়েছে সক্ষমতার বেশি।

শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দিয়েছে। জ্ঞান দিয়েছে, প্রজ্ঞা দিয়েছে, দিয়েছে দর্শন চিনিবারে আপনায়। সাহস দিয়েছে, প্রত্যয় দিয়েছে। এমনকি যখন প্রয়োজন হয়েছে, তার সহায়-সম্বলটুকুও দিয়েছে। আজ সত্যিই সময় এসেছে পরবর্তী ১০০ বছরের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য আমাদের প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়কে কিছু দেয়ার।

 

মো. আবদুর রহিম: সহযোগী অধ্যাপক সহকারী প্রক্টর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected] 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন