বুধবার | জুলাই ১৫, ২০২০ | ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

পণ্যবাজার

বাজেটে শুল্ক সুবিধার প্রস্তাব

লোকসানে দেশীয় রসুনের বাজার হারানোর আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম ব্যুরো

কয়েক বছর ধরেই দেশে রসুনের উৎপাদন বাড়তির দিকে রয়েছে এমনকি অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় পুরোটাই দেশে উৎপাদিত রসুন দিয়ে পূরণ করা সম্ভব এর পরও দেশের বাজারে চীন-ভারতসহ কয়েকটি দেশ থেকে রসুন আমদানি হয় ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও কৃষিপণ্যটির আমদানি বিপণনদুই পর্যায়ে বাড়তি শুল্ক সুবিধা দেয়া হয়েছে সুবিধার আওতায় দেশের বাজারে আমদানি করা রসুনের আধিপত্য বাড়বে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা কমবে কৃষিপণ্যটির দাম এর জের ধরে দেশের রসুন চাষীরা আরো কোণঠাসা হয়ে পড়বেন বাজার হারাতে পারে দেশে উৎপাদিত রসুন

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হলে বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে যায়

ওই সময় পাইকারি পর্যায়ে আমদানি করা প্রতি কেজি রসুনের দাম ওঠে ১৪০ টাকায় একই সময়ে দেশে উৎপাদিত রসুন কেজিপ্রতি ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হয় প্রস্তাবিত বাজেটে রসুন আমদানিতে অগ্রিম আয়কর শতাংশ থেকে কমিয়ে শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষিপণ্যটির বিপণনের ক্ষেত্রে উেস কর শতাংশ থেকে শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয়া হয়েছে

বাজেট ঘোষণার পর পরই পাইকারি বাজারে রসুনের দাম কমতে শুরু করে কমতে কমতে বর্তমানে আমদানি করা প্রতি কেজি রসুনের দাম ৫৫-৬০ টাকায় নেমে এসেছে দেশে উৎপাদিত রসুন একই দামে বিক্রি হচ্ছে গতকাল খাতুনগঞ্জের পাইকারি আড়তগুলোয়, চীন থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি রসুন মানভেদে ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায় এক সপ্তাহ আগেও আমদানি করা চীনা রসুনের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৫০-৫৩ টাকা গতকাল দেশে উৎপাদিত রসুন বিক্রি হয় কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৬০ টাকায় রসুনের দাম এভাবে কমতে থাকলে আগামী রবি মৌসুমে দেশে কৃষিপণ্যটির আবাদ উৎপাদনদুটোই কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা দেশে রসুনের উৎপাদন অব্যাহত রাখা কৃষকদের সুবিধা দিতে আমদানি করা রসুনের ওপর শুল্ক সুবিধা কমানোর পরামর্শ দেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা

খাতুনগঞ্জের মেসার্স সততা বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী রতন রায় বণিক বার্তাকে বলেন, দেশে যে পরিমাণ রসুন উৎপাদন হয়, তা দেশীয় চাহিদার প্রায় সমান এর পরও শুল্ক সুবিধার কারণে বাজারে চীন থেকে আমদানি করা রসুনের ছড়াছড়ি দেখা যায় চীনা রসুনের আকার বড় হওয়ায় দেশে উৎপাদিত রসুনের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে পণ্যটি এবারের জাতীয় বাজেটে শুল্ক কমানোর ঘোষণা আসায় পাইকারি বাজারে চীন থেকে আমদানি করা রসুনের দাম অনেক কমে গেছে এর জের ধরে দেশে উৎপাদিত রসুনের দামও কমেছে এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে দেশীয় রসুনের উৎপাদন কমে গেলে কম শুল্কে আমদানি করা চীনা রসুনে বড় ধরনের মুনাফা করতে পারবেন আমদানিকারকরা, যা দেশীয় কৃষকদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হবে

উল্লেখ্য, দেশে প্রতি বছর রসুন উৎপাদন হয় সাড়ে পাঁচ-ছয় লাখ টন যদিও রসুন আমদানি হয় গড়ে ৬০ হাজার টন অর্থাৎ দেশীয় উৎপাদনের ১০-১২ শতাংশ রসুন আমদানি হয় তবে আমদানি করা রসুনের দাম আমদানিতে শুল্ক কাঠামো দেশের বাজারে রসুনের সার্বিক মূল্য নির্ধারণ করে আমদানি করা চীনা রসুনের জাত বড় হয় পণ্যটি দীর্ঘ সময় তাজা থাকে ফলে চাহিদা দামের ক্ষেত্রে এসব রসুন সহজেই দেশে উৎপাদিত রসুনকে টেক্কা দেয়

চট্টগ্রাম কাস্টমস জানিয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে ৫৬ হাজার ৪৭১ টন রসুন আমদানি হয়েছিল ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৪ হাজার ৭৯৬ টনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) আমদানি হয়েছে ৮১ হাজার টন রসুন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে নিট লাখ ২২ হাজার টন রসুন উৎপাদন হয়েছে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন