শুক্রবার | জুলাই ১০, ২০২০ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

নগদ অর্থ বেড়েছে মার্কিনদের, কিন্তু কাজে আসবে তো?

বণিক বার্তা ডেস্ক

এবারের আগে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ আর্থিক সংকট দেখা গিয়েছিল ২০০৮ সালে সেবারও সংকট মোকাবেলায় আর্থিক ব্যবস্থায় রেকর্ড পরিমাণ অর্থের জোগান দিয়েছিল ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) এবারো নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটে নগদ অর্থপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে বিপুল পরিমাণ প্রণোদনা দিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি কিন্তু এক যুগের ব্যবধানে দুটি সংকট মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপের ধরনে ভিন্নতা রয়েছে, যা সেগুলোর কার্যকারিতায়ও বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে

২০০৮ সালের পতনের সময় ফেডারেল রিজার্ভে থাকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অ্যাকাউন্টে প্রণোদনার অর্থ জমা হয়েছিল আর এবার নগদ অর্থ জমা হয়েছে সরাসরি মার্কিনিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফলে এবার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের হাতে খরচের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ রয়েছে, যা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে

যখন ফেডে থাকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত রিজার্ভ হিসেবে প্রণোদনার অর্থ জমা হয়েছিল, সেগুলো অর্থনীতিতে গতিসঞ্চারে খুব বেশি ভূমিকা রাখতে পারেনি কিন্তু এবার সরাসরি নাগরিকদের পকেটে ডলার গেছে, যা খাদের কিনারে থাকা অর্থনীতির জন্য অনেক বড় সঞ্জীবনী শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে

পরিসংখ্যানেও চোখ ধাঁধানো পার্থক্য দেখা যাচ্ছে আর্থিক ব্যবস্থায় তারল্য প্রবাহ পরিমাপ করা হয় এমওয়ান নির্দেশকের মাধ্যমে নগদ অর্থ, ডিমান্ড ডিপোজিট, ট্রাভেলার্স চেক চেকিং ডিপোজিটকে বিবেচনায় নিয়ে নির্দেশক পরিমাপ করা হয় চলতি বছরের মে পর্যন্ত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে এমওয়ান বেড়েছে ২৬ শতাংশ, যা ২০০৮ সালের একই সময়ের তুলনায় তিন গুণ অর্থাৎ এবার সরাসরি মার্কিনিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রণোদনার অর্থ জমা হওয়ায় নগদ অর্থপ্রবাহ তিন গুণ বেড়েছে শুধু তাই নয়, গত ছয় দশকে যেকোনো পুরো বছরের প্রবৃদ্ধির চেয়ে এবার তিন মাসেই এমওয়ান বেশি বেড়েছে

নগদ অর্থপ্রবাহ না হয় বাড়ল, কিন্তু অর্থ খরচ না করলে অর্থনীতির তো কোনো লাভ হবে না তাই প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র যখন ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছে, তখন মার্কিনিরা কি এই অর্থ খরচ করবেন?

প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার অধ্যাপক জেরেমি সেইগেলের মতো একদল মনে করছে, মার্কিনিরা তা করবেন আগামী কয়েক মাসে ভোক্তাব্যয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখার বিষয়ে ভীষণভাবে আশাবাদী তারা আর এমনটি হলে স্বাভাবিকভাবেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গতি ফিরে পাবে এবং ২০২১ সালে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে

তবে আরেক দল এতটা আশাবাদী হতে পারছে না তারা খুবই বাস্তবসম্মত যুক্তি তুলে ধরে বলছেন, মার্কিনিরা এখন কর্মসংস্থানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবেন যদি মহামারীর কারণে কর্মসংস্থানে সংকোচন অব্যাহত থাকে, তাহলে তারা তাদের অ্যাকাউন্টে যোগ হওয়া অর্থ দুঃসময়ের জন্য ধরে রাখতে চাইবেন

উদ্বেগের বিষয় হলো, এই দ্বিতীয় দল সংখ্যায় অনেক ভারী তাহলে কি ভোক্তাব্যয় স্বাভাবিক রাখতে যে প্রণোদনা ফেড দিল, তা কোনো কাজেই আসবে না? বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ভোক্তাব্যয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রভাবক তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু প্রভাবক রয়েছে, যেগুলো মার্কিন অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে

সুতরাং নগদ অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর প্রচেষ্টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগের চেয়ে বেশি সাফল্য দেখিয়েছে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় কিন্তু সাফল্যকে গতিশীল অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে রূপ দিতে গেলে অন্যান্য প্রভাবকের বিষয়েও কৌশলী হয়ে কাজ করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্লুমবার্গ

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন