বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ | ৯ আশ্বিন ১৪২৭

খবর

সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ বিল দ্রুত সংশোধন করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুতেরত্রুটিপূর্ণ বিলদ্রুত সংশোধন করা হবে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। একই সঙ্গে করোনাভাইরাস মহামারীকালে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে ছয় দফা পদক্ষেপ নেয়ার কথাও জানান তিনি। গতকাল সোমবার সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

চট্টগ্রাম- আসনের মাহফুজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার রোধে ২৬ মার্চ থেকে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা এবং এলাকাভিত্তিক লকডাউন কার্যকর করায় গ্রাহকদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে আবাসিক গ্রাহকদের ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল মে মাসের বিদ্যুৎ বিল সারচার্জ ছাড়া ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধের সুযোগ প্রদান করা হয়। ফলে অধিকাংশ গ্রাহক বিল পরিশোধ থেকে বিরত থাকায় বিপুল পরিমাণে বকেয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে সৃষ্ট বিদ্যুতের বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যে যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে; তা হলোকয়েক মাসের ইউনিট একত্র করে একসঙ্গে অধিক ইউনিটের বিল না করা; মাসভিত্তিক পৃথক পৃথক বিদ্যুৎ বিল তৈরি করা; একসঙ্গে অধিক ইউনিটের বিল করে উচ্চ ট্যারিফ চার্জ না করা; ত্রুটিপূর্ণ বা অতিরিক্ত বিল দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা করা; ২০২০ সালের মে মাসের বিদ্যুৎ বিল (যা জুনে তৈরি হচ্ছে) মিটার দেখে সঠিকভাবে প্রস্তুত করা এবং মোবাইল, বিকাশ, জি-পে, রবিক্যাশ, অনলাইনে ঘরে বসে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সুযোগ সৃষ্টি।

প্রসঙ্গত, গত মার্চের শুরুর দিকে দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ২৬ মার্চ থেকে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আবাসিক গ্রাহকরা ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাসের বিল দেরিতে দিতে পারবেন। জুনে বিল পরিশোধ করতে হবে এবং বিলম্বিত বিল পরিশোধে কোনো অতিরিক্ত জরিমানা নেয়া হবে না। কিন্তু পরে বিদ্যুৎ বিল দেয়া হলে গ্রাহকরা কয়েক গুণ অতিরিক্ত বিল করার অভিযোগ তোলেন। নিয়ে সারা দেশে সমালোচনা শুরু হয়।

সরকারি দলের এমপি নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যন্ত আবিষ্কৃত ২৭টি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে বর্তমানে ২০টি থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রসেস প্ল্যান স্থাপন করে ভোলা নর্থ গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে। রূপগঞ্জ সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস নিঃশেষ হয়ে যাওয়ায় উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। অবশিষ্ট চারটি গ্যাসক্ষেত্রের সীমিত গ্যাস মজুদ, কমার্শিয়াল ভায়াবিলিটি, আইনগত জটিলতা ইত্যাদি বিবেচনায় গ্যাস উত্তোলনের বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন।

তিনি আরো জানান, গত পাঁচ বছরে (২০১৫ সাল থেকে বর্তমান) খননকৃত নতুন গ্যাস কূপের সংখ্যা ২৫। সেগুলো হলো ভোলা নর্থ, কসবা, মোবারকপুর, রূপগঞ্জ, সালদা নর্থ, সেমুতাং ইস্ট, শ্রীকাইল, ম্যাগনামা, তিতাস, বাখরাবাদ, কৈলাশটিলা, রশিদপুর, সালদানদী, শাহবাজপুর ইস্ট, সুন্দলপুর শাহবাজপুর, জালালাবাদ বাঙ্গুরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন