শুক্রবার | জুলাই ১০, ২০২০ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

সম্পাদকীয়

আলোকপাত

মহামারী মোকাবেলার বাজেটে গভীর বিশ্লেষণ দৃশ্যমান হয়নি

ড. মইনুল ইসলাম

সারা বিশ্বকে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মহামন্দার মহাবিপর্যয়ে নিক্ষেপ করা নভেল করোনাভাইরাস মহামারী যখন বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও বিপর্যয়ের গভীর গিরিখাদে ফেলে দিয়েছে, তার মোকাবেলায় আগামী এক বছর সরকার জনগণের জীবন জীবিকার যুগপৎ সংগ্রাম কীভাবে পরিচালনা করবে, সে দিকনির্দেশনা প্রদানের দলিল হিসেবে ১১ জুন সংসদে অর্থমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছেন। দুঃখজনকভাবে বলতে হচ্ছে, ‘অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায়ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের সহায়তায় ঝড়ের বেগে অন্য আরেকজনের কণ্ঠে যেভাবে বাজেটের মূল তথ্য-উপাত্তগুলো উপস্থাপিত হলো, তাতে অনেকেই চমত্কৃত হলেও আমার কাছে ব্যাপারটি ফাঁকিবাজি মনে হয়েছে। কারণ প্রায় ঘণ্টার বাজেট প্রেজেন্টেশনে অর্থমন্ত্রী নিজের কণ্ঠে কথা বলেছেন কুল্লে ১৫ মিনিটেরও কম এবং তার তোষামোদি, ধর্মাশ্রয়ী কাব্যধর্মী বক্তব্যগুলোয় সারবত্তা তেমন ছিল না বললেই চলে। আমার কাছে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গিকে জনগণের কাছ থেকে বাজেটের মূল গতি-প্রকৃতি লুকিয়ে ফেলার এবং নিজের উপস্থাপন দুর্বলতা আড়াল করার অপকৌশল মনে হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে অনেকেই প্রশংসা করেছেন, কিন্তু বাজেট যেহেতু দেশের জনগণের জীবনকে আগামী এক বছর প্রবলভাবে প্রভাবিত করবে, তাই তথ্য-উপাত্ত নীতি-পরিবর্তনগুলোকে স্বচ্ছভাবে জনগণের কাছে বোধগম্যভাবে পৌঁছানোই বাজেট বক্তৃতার মূল উদ্দেশ্য বিবেচিত হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল। অর্থমন্ত্রী এক্ষেত্রে জনগণের আশাপূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। ইন্টারনেটে প্রকাশিত সরকারের বাজেট ডকুমেন্টগুলো পর্যালোচনার পর আমি নিজে বাজেটের মূল বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। সাধারণ জনগণের কি এভাবে বাজেটের বৈশিষ্ট্যগুলো বোঝার সুযোগ হবে? পরদিন সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর হালকা কথাবার্তা শুনে আমার সন্দেহটা আরো পোক্ত হয়েছে যে বাজেটের পেছনে তিনি খুব বেশি গভীর অভিনিবেশসহকারে সময় দেননি।

এবার বাজেট পর্যালোচনায় আসছি। লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন ঘোষিত হয়েছে বাজেটে, যার মধ্যে মোট রাজস্ব প্রাক্কলিত হয়েছে লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। বাকি লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলিত বাজেট ঘাটতি। নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর তাণ্ডবে অর্থনীতি যেহেতু উন্নয়নের সড়ক থেকে ছিটকে একটা গভীর গিরিখাদে পড়ে গেছে, তাই অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে এত বেশি ঘাটতিসহ বাজেট উপস্থাপনকে অযৌক্তিক বলা যাবে না। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর বোঝা উচিত ছিল যে প্রতিটি প্রাক্কলনকেই বিশ্বাসযোগ্য বিশ্লেষণের ফসল হিসেবে উপস্থাপন না করলে পুরো বাজেট এক্সারসাইজটাই খেলো হয়ে যায়। লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব টার্গেটকে ওয়াকিবহাল মহল এরই মধ্যে কল্পনাবিলাস অভিহিত করেছে। বর্তমান ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রাক্কলিত রাজস্ব আয়ের ধারেকাছেও যেখানে যেতে পারেনি সরকার, সেক্ষেত্রে আগামী বছরের অর্থনৈতিক মহামন্দা বিবেচনায় নিলে রকম অস্বাভাবিক রকমের উচ্চাভিলাষী একটা রাজস্ব টার্গেট ঘোষণাকে ওয়াকিবহাল কারো কাছেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে না। আবার লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার প্রাক্কলিত ঘাটতির লাখ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো থেকে ঋণের মাধ্যমে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষিত হয়েছে, আর ৮০ হাজার ১৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ অনুদান থেকে আসবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহল জানে, ৮০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ আশা করাটা অর্থমন্ত্রীরসিরিয়াসনেসের অভাবকেইপ্রকাশ করে দিয়েছে, এর অর্ধেকেও পৌঁছানো সম্ভব হবে না সরকারের পক্ষে। ব্যাংকিং সিস্টেম থেকে সরকার নাকি ঋণ নেবে ৮৪ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেবে ২৫ হাজার কোটি টাকা (ব্যাংক থেকে ঋণ না পেলে টাকা ছাপানোর তো সুযোগ রয়েছেই!) ২০১৯-২০ অর্থবছরের রাজস্ব আয়ে মূল বাজেট প্রাক্কলনের চেয়ে প্রায় লাখ কোটি টাকা ঘাটতি হবে বলে স্বীকার করেও আগামী অর্থবছরে এত বড় রাজস্ব টার্গেট কেন নির্ধারণ করলেন, প্রশ্নের জবাবে পরদিনের সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী সহাস্যে জবাব দিলেন, ‘রাজস্ব কোত্থেকে আসবে জানি না, আমরা খরচ করতে থাকব। ধরনের হালকা কথা একেবারেই অর্থমন্ত্রীসুলভ হয়নি। তিনি যে বাজেট বিশ্লেষণের গভীরে যাননি, সেটাই ধরা পড়ে গেছে তার ওই মন্তব্যে। এর মানে, বাজেটে যা- থাকুক, পুরো বছরই ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন হতেই থাকবে অ্যাডহক ভিত্তিতে (অবশ্য মহামন্দা মোকাবেলায় সরকারের নানা ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি বিপজ্জনক মূল্যস্ফীতি ঘটানোর তেমন আশঙ্কা সৃষ্টি করবে না)

বাজেটের সবচেয়ে আপত্তিকর প্রাক্কলনটি জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সম্পর্কিত, আগামী বছরও নাকি জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দশমিক শতাংশ হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বাড়িয়ে বলা অর্থমন্ত্রীর পুরনো রোগ। তিনি যখন পরিকল্পনামন্ত্রী ছিলেন, তখনো তিনি আগ বাড়িয়ে অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেবের আগেই জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ঘোষণা করে দিতেন প্রায়ই, যেটা নিয়ে হাস্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে যেত। বিশ্বব্যাংক কখনই বাংলাদেশের সরকার ঘোষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারকে গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করেনি। (অবশ্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বর্তমান বাংলাদেশ প্রতিনিধি মনমোহন প্রকাশ সরকারের কাছাকাছি অবস্থানে চলে যাচ্ছেন ব্যাপারে)ডাটা ডক্টরিংজিডিপি উচ্চ প্রবৃদ্ধির হার প্রাক্কলনে প্রধান ভূমিকা রাখে, এটা আমরা যেহেতু বুঝতে পারি, তাই পরিসংখ্যান নিয়ে প্রতি বছরের বিতর্কটিকে আমরা খুব মজা করে উপভোগ করতাম। যদিও এমন ডাটা ডক্টরিং অনৈতিক, তবুও এটাকে প্রায় সব উন্নয়নশীল দেশের পুরনো খাসলত মনে করা হয়। কিন্তু খাসলত দ্বারা চালিত হয়ে যদি এত বড় একটা অর্থনৈতিক বিপর্যয়কে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে আগামী অর্থবছরেও দশমিক শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়, তাহলে সেটাকে বিশ্বাসযোগ্য কীভাবে বলি? নভেল করোনাভাইরাস মহামারীবিনা মেঘে বজ পাতেরমতো অর্থনীতিতে যে বিপর্যয় ডেকে এনেছে, সেটার অভিঘাত তো বর্তমান অর্থবছরের চেয়েও আগামী অর্থবছরে অনেক বেশি মারাত্মক আকারে পরিদৃষ্ট হবেএটা বুঝতে চাইছেন না কেন সরকারের নীতিপ্রণেতারা? অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের অভিঘাতগুলো পরিষ্কারভাবে প্রতিফলিত হতে কিছুটা সময় নেয়াই স্বাভাবিক। গার্মেন্টসহ পুরো রফতানি খাতের সংকোচন, লাখ লাখ অভিবাসী বিদেশে চাকরি হারিয়ে ফিরে আসার মিছিল, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খাতগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারী-শ্রমিকদের চাকরিচ্যুতি-ছাঁটাই-কর্মসংস্থান হারিয়ে ফেলা, ক্ষুদ্র কুটির শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বন্ধ হয়ে যাওয়ার হিড়িক, পর্যটন খাতের মহাবিপর্যয়, হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ের অস্তিত্বের সংকট, পরিবহন সেবা খাতের মহাসংকট, রেলওয়ে-নৌ পরিবহন-বিমান-সড়ক তাবৎ যোগাযোগ ব্যবস্থার চাহিদার সংকোচন, ব্যাংকিংসহ পুরো আর্থিক খাতের অস্তিত্বের সংকট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চালু রাখার সংকটএগুলোর যুগপৎ আক্রমণ যখন অর্থনীতিকে প্রচণ্ড টালমাটাল অবস্থায় নিয়ে যাবে, তখন ওগুলোকে সামলানোর জন্য আমাদের প্রস্তুতি কতখানি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তার সুকঠিন পরীক্ষা চলবে আগামী বছরজুড়েই। অবস্থায় অর্থমন্ত্রীর জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানো নিয়ে অযৌক্তিক মাতামাতি একেবারেই অনভিপ্রেত। এমন প্রাক্কলনের যে কোনো ভালো ভিত্তি থাকতে পারে না, সেটা তার বোঝা প্রয়োজন। কারণ সংকটের গভীরতা কতখানি হবে তা উপলব্ধি করার সময় এখনো আসেনি।

বাজেটের স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় বরাদ্দকে অপ্রতুল মনে হচ্ছে সবার কাছে, যদিও নভেল করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলার জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশেষত এবারের মহামারী মোকাবেলায় যেভাবে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ভাষ্যমতেমুখ থুবড়ে পড়েছেবলে অভিযোগ উঠেছে, সেজন্য আগামী বছর পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলার আবশ্যকতা উপলব্ধি করছে সবাই। এক্ষেত্রে কেরালা, ভিয়েতনাম কিউবা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশেও ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার সিস্টেম চালু করার বিষয়টি জাতির প্রধান অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে। নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর অমর্ত্য সেন এবং বিশ্বখ্যাত দার্শনিক নোয়াম চমস্কি করোনা মহামারীকে সফলভাবে মোকাবেলার জন্য এরই মধ্যে কেরালা মডেল অনুসরণ করে বিশ্বের সব দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আমরা সম্পর্কে সরকারের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দাবি করছি। মুক্ত বাজার অর্থনীতির অহিফেনের মৌতাতে মশগুল হয়ে আমরা যেভাবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে দ্রুত বাজারীকরণ করে ফেলেছি, সেটা যে সরকারি খাতের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পঙ্গু মরণাপন্ন অবস্থায় নিয়ে গেছে সত্যটা এবারের করোনা মহামারী সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। বিশ্বের সর্বাধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অধিকারী হয়েও ঢালাও বাজারীকরণের শিকার হয়ে মার্কিন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা করোনা মহামারী মোকাবেলায় কীভাবেলেজে গোবরেঅবস্থায় হাবুডুবু খেয়ে চলেছে, সেটা দেখার পরও কি আমরা এই মারাত্মক ভুল সংশোধনের উদ্যোগ নেব না? আমরা কি এখনো এই আত্মঘাতী পথ থেকে ফিরে আসব না?

বাজেটের অন্য বিষয় প্রথাসিদ্ধ পথেই নির্ধারিত হয়েছে। মূল্য সংযোজন কর থেকেই সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসবে। আয়করের জন্য সর্বনিম্ন আয়ের সিলিং লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, যদিও আয়কর ব্যবস্থাকে অনেক বেশি ধনাঢ্যবান্ধব করার ব্যাপারটি চোখে পড়ার মতো। সর্বোচ্চ আয়কর হার আগের ৩০ শতাংশ থেকে আগামী বছর ২৫ শতাংশে নামিয়ে ফেলা হয়েছে। নিবন্ধিত ফার্মের ক্ষেত্রে করপোরেট আয়করের হারও সাড়ে ৩২ শতাংশে নামিয়ে ফেলার প্রস্তাব করা হয়েছে আগের ৩৫ শতাংশ থেকে। সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর প্রয়োজন এবার যেহেতু অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে, সেক্ষেত্রে এবার ছাড়গুলো অর্থমন্ত্রীর সুবিবেচনার পরিচায়ক বলা যাচ্ছে না। বরং এগুলো তার গোষ্ঠীপ্রীতির পরিচায়ক। কালো টাকা সাদা করার ঢালাও ব্যবস্থাও রকম বিবেচনাপ্রসূত মনে হতে পারে। বেশকিছু ক্ষেত্রে সরকারি প্রকৃত ব্যয় বরাদ্দ লুকানোর প্রয়াস পরিলক্ষিত হয়েছে, যেগুলো জনগণের সঙ্গে লুকোচুরির শামিল মনে হয়েছে। যেমন বাজেটে শিক্ষা খাতের বরাদ্দকে প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে একীভূত করে ৮৫ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ১৫ হাজার ৬৯১ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রযুক্তি খাতের বরাদ্দকে এবার অনেকখানি ফাঁপিয়ে দিয়েছে। প্রযুক্তি খাতের বরাদ্দ বাদ দিলে শিক্ষা খাতের প্রকৃত ব্যয় বরাদ্দ দাঁড়াচ্ছে ৬৬ হাজার ৪০১ কোটিতে। এর মানে জিডিপির শতাংশ হিসাবে আগামী বছর শিক্ষা খাতের বরাদ্দ কমিয়ে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী এবং সেটা জনগণ থেকে লুকোনোর জন্যই তার এমন প্রয়াস! একইভাবে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৯৫ হাজার ৭৪ কোটি টাকার বরাদ্দের মধ্যে পেনশন খাতের বরাদ্দ ঢুকিয়ে দিয়ে সেটাকে ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছে। অথচ বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি এবার অনেকখানি কমিয়ে ফেলা যেত, যদি অপ্রয়োজনীয় রেন্টাল কুইক রেন্টাল প্লান্টগুলোর সঙ্গে সরকারের মেয়াদোত্তীর্ণ চুক্তিগুলো বাতিল করা হতো। বিদ্যুৎ খাতে এখন দেশে প্রায় ৪০ শতাংশ উদ্বৃত্ত ক্যাপাসিটি সৃষ্টি হয়ে গেছে, তার পরও ওই প্লান্টগুলোকে বসিয়ে রেখেমিনিমাম চার্জখাওয়ার ব্যবস্থার মরতবা কী, বোঝা যাচ্ছে না। কৃষি ভর্তুকি তো মোটেও বাড়ালেন না তিনি, অথচ করোনা মহামারীর সময় দেশকে দুর্ভিক্ষ থেকে বাঁচানোর জন্য কৃষি খাতের সাফল্য আমাদের সবচেয়ে বড় ভরসার স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে!

 

. মইনুল ইসলাম: একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ

অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন