রবিবার | অক্টোবর ২৫, ২০২০ | ১০ কার্তিক ১৪২৭

শেষ পাতা

১ জুলাই থেকে বন্ধের ঘোষণা আসার সম্ভাবনা

৩৪ হাজার শ্রমিকের বকেয়া মেটাবে বিজেএমসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বস্ত্র পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক বলেছেন, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন কারখানাগুলো আগামী জুলাই থেকে বন্ধের ঘোষণা আসতে পারে। সেক্ষেত্রে অবসরে যাওয়া এবং কর্মরত সব শ্রমিকের পাওনা টাকা নিয়ম মেনেই পরিশোধ করা হবে। শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেক প্রক্রিয়ায় অবসায়নের মাধ্যমে মিলগুলোকে স্থানীয় আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিকায়ন করা হবে। বিজেএমসির কার্যক্রম পর্যালোচনাসংক্রান্ত এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে কথা বলেন তিনি। ব্রিফিংয়ে বস্ত্র পাট সচিব লোকমান হোসেন মিয়া অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক রয়েছেন প্রায় হাজার ৯৫৪ জন। এছাড়া বর্তমানে কর্মরত শ্রমিক রয়েছেন ২৪ হাজার ৮৮৬ জন। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের প্রাপ্য সব বকেয়া, বর্তমানে প্রাপ্য বকেয়া মজুরি, শ্রমিকদের পিএফ জমা, গ্র্যাচুইটি একই সঙ্গে গ্র্যাচুইটির সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশ হারে অবসায়ন সুবিধা শতভাগ পরিশোধ করা হবে। এজন্য সরকারি বাজেট থেকে প্রায় হাজার কোটি টাকা দেয়া হবে। অবসায়নের পর মিলগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণে পিপিপি, যৌথ উদ্যোগ বা জিটুজি কিংবা লিজ মডেলে পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হবে। নতুন মডেলে পুনঃচালুকৃত মিলে অবসায়নকৃত বর্তমান শ্রমিকরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে এসব মিলে নতুন কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসরকারি খাতে মাসিক মূল মজুরি হাজার ৭০০ টাকার বিপরীতে উৎপাদনশীলতা মজুরি কমিশন ২০১৫ বাস্তবায়নের পর বিজেএমসির পাটকলগুলোয় তা হাজার ৩০০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। ফলে সরকারি মিলে ইউনিটপ্রতি উৎপাদন খরচে মজুরির অংশ ৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৩ শতাংশ দাঁড়িয়েছে, যা বেসরকারি খাতের প্রায় তিন গুণ। উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক বেশি হওয়ার বিপরীতে বাজারে টিকে থাকার জন্য বিজেএমসিকে হ্রাসকৃত দরে পণ্য বিক্রয় করতে হয়। এতে করে পাট খাতে সার্বিক প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত বিনষ্ট হয়। এছাড়াও বেসরকারি খাতের মিলগুলোর উৎপাদিত পণ্যের দর নির্ধারণের ক্ষেত্রেও অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। এটি পাট খাতের সামগ্রিক ভারসাম্য ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করছে। উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে পণ্য বিক্রয়ের প্রতিক্রিয়ায় অন্যতম প্রধান বাজার ভারত এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে পাটপণ্য আমদানিতে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে। এতে কেবল বিজেএমসিই নয়, বেসরকারি খাতের রফতানিকারকরাও বিপাকে পড়েছেন।

জানা গিয়েছে, বর্তমানে পাটপণ্য উৎপাদনে বিজেএমসির অবদান মাত্র দশমিক ২১ শতাংশ। রফতানিতে হার আরো কম, দশমিক শতাংশ। নামমাত্র উৎপাদন অনুল্লেখ্য রফতানির জন্য সরকারি বাজেট থেকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে বর্তমান কাঠামোয় মিলগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখা অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পলিথিন প্লাস্টিক দ্রব্যের অতি ব্যবহারের কারণে বিশ্বব্যাপী সৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাবে পাটসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক তন্তুর কদর সম্প্রতি বাড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ পরিষদে দ্বিতীয় কমিটিতে প্রাকৃতিক তন্তুর উদ্ভিজ্জ টেকসই উন্নয়ন শিরোনামে পাটসহ প্রাকৃতিক তন্তুর ব্যবহার নিয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিকভাবে পাটের কদর ব্যবহারিক মূল্য বৃদ্ধির একটি সুদূরপ্রসারী সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি গত দুই দশকে বিশ্বজুড়ে পাটের তৈরি নানাবিধ বহুমুখী পণ্যের চাহিদা ক্রমাগতভাবে বেড়ে চলেছে। কিন্তু বহুমুখী পাটপণ্যের উপযোগী কাঁচামাল তৈরির উৎপাদনের ক্ষমতা বিজেএমসির পাটকলগুলোর নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে বহুমুখী পাটপণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ায় পাট পাটজাত পণ্য রফতানিতে লক্ষণীয় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে খাতে রফতানি ২৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়েছে। করোনা সংকটের কারণে যেখানে অন্যান্য খাতে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ধারায় রয়েছে, সেখানে ১১ মাসে খাতটিতে দশমিক ৭৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ১১ মাসেই রফতানির পরিমাণ (৮১ কোটি ৭৯ লাখ ডলার) গত অর্থবছরের সার্বিক পরিমাণকে (৮১ কোটি ৬৩ লাখ ডলার) ছাড়িয়ে গিয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন