বুধবার | জুলাই ১৫, ২০২০ | ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

শেয়ারবাজার

ইউনিলিভারের কাছে জিএসকের শেয়ার বিক্রি

পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) বাংলাদেশ লিমিটেডের সব শেয়ার ইউনিলিভারের সাবসিডিয়ারি ইউনিলিভার ওভারসিজ হোল্ডিংস বিভির কাছে বিক্রির বিষয়ে গেল সপ্তাহে ঘোষণা দেয় জিএসকের মূল কোম্পানি যুক্তরাজ্যের সেটফার্স্ট লিমিটেড। এরইমধ্যে শেয়ার বিক্রির জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। টাকার অঙ্কে ২ হাজার কোটি টাকায় ইউনিলিভারের কাছে জিএসকে বাংলাদেশের শেয়ার বিক্রি করবে সেটফার্স্ট। কেনা-বেচা মিলিয়ে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় লেনদেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষ থেকে সেটফার্স্টের শেয়ার লক ফ্রি করা হয়েছে। সিটি ব্রোকারেজের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেনটি সম্পন্ন হবে। এ লেনদেন থেকে সিটি ব্রোকারেজ ১৯ কোটি টাকা কমিশন আয় পাবে। ডিএসইও হাওলা চার্জ বাবদ বড় অংকের অর্থ পাবে। ঘোষণা অনুসারে সেটফার্স্টের কাছে থাকা জিএসকে বাংলাদেশের ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার ১৪৪ টি শেয়ার ইউনিলিভার ওভারসিজ হোল্ডিংস বিভির কাছে বিক্রি করা হবে। জিএসকে বাংলাদেশের শেয়ার সর্বশেষ ২ হাজার ৪৬ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এটিই কোম্পানিটির শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নিয়মানুসারে ব্লক মার্কেটে ফ্লোর প্রাইসের চেয়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কমে শেয়ার কেনা-বেচার সুযোগ রয়েছে। রোববারই সেট ফার্স্টের শেয়ার ইউনিলিভারের কাছে বিক্রি করা হবে। তবে যদি কোন কারণে রোববার শেয়ার বিক্রি করা সম্ভব না হয় তাহলে সোমবার লেনদেন সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বছরের ২২ মার্চ অধিগ্রহণ প্রস্তাবে আংশিক পরিবর্তন আনে ইউনিলিভার। অধিগ্রহণ চুক্তি অনুসারে প্রথমে সেটফার্স্টের কাছে থাকা জিএসকে বাংলাদেশের সব শেয়ার ইউলিভারের মূল কোম্পানি ইউনিলিভার এনভির কাছে বিক্রি করার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এটি পরিবর্তন করে ইউনিলিভারের মূল কোম্পানির পরিবর্তে এর সাবসিডিয়ারি ইউনিলিভার ওভারসিজ হোল্ডিংস বিভির কাছে সেটফার্স্টের সব শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর ইউনিলিভার ও জিএসকের পক্ষ থেকে জারি করা দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় যে ভারত, বাংলাদেশ ও এশিয়ার অন্য ২০টি দেশের বাজারে জিএসকের চলমান কনজিউমার হেলথ ড্রিংকস ব্যবসা কিনে নিচ্ছে অ্যাংলো-ডাচ জায়ান্ট ইউনিলিভার। এজন্য ইউনিলিভারের ব্যয় হবে ৩৩০ কোটি ইউরোর সমপরিমাণ অর্থ, যা নগদ অর্থ ও শেয়ারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। চুক্তি অনুসারে ইউনিলিভার ও জিএসকের এ অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া তিন ধাপে সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ভারতে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার লিমিটেডের (এইচইউএল) সঙ্গে জিএসকে কনজিউমার হেলথকেয়ার ইন্ডিয়ার শতভাগ একীভূতকরণ হবে। দ্বিতীয় ধাপে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জিএসকে বাংলাদেশ লিমিটেডের ৮২ শতাংশ শেয়ার (সেটফার্স্টের মালিকানাধীন) কিনে নেবে ইউনিলিভার, যার ইকুইটি ভ্যালু দাঁড়ায় প্রায় ১৭ কোটি ইউরো। তৃতীয় ভাগে নগদ ৪৭ কোটি ডলার ব্যয়ে এশিয়ার অন্য ২০ দেশে জিএসকের হেলথ কেয়ার নিউট্রিশন ব্যবসা ও ব্র্যান্ড স্বত্ব কিনে নেবে ইউনিলিভার।

এরই মধ্যে প্রথম ধাপে ভারতে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার ও জিএসকের অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনালের (এনসিএলটি) চন্ডীগড় বেঞ্চ জিএসকে ও হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের একীভুতকরণ স্কিম অনুমোদন করে। স্কিম অনুসারে জিএসকের একটি শেয়ারের বিপরীতে শেয়ারহোল্ডারদের হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের ৪ দশমিক ৩৯টি শেয়ার দেয়া হবে। হিন্দুস্তান ইউনিলিভার জিএসকের সঙ্গে একীভূতকরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে এ বছরের ১ এপ্রিল পর্ষদ সভা আহবান করেছে। সেদিন থেকেই ভারতে এই দুই বহুজাতিক কোম্পানির একীভূতকরণ কার্যকর হয়েছে। একীভূতকরণের পর আগামী বছর থেকে কোম্পানিটির ব্যবসা ৪৫ হাজার কোটি রুপিতে দাঁড়াবে বলে সেসময় জানিয়েছিলেন হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের চেয়ারম্যান সঞ্জীব মেহতা।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই জিএসকের পরিচালনা পর্ষদ বাংলাদেশে ওষুধ উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই বছরের ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ারহোল্ডাররা এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। তবে ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করলেও কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত কনজিউমার পণ্যের ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে।

জিএসকে বাংলাদেশ ১৯৭৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এর অনুমোদিত মূলধন ২০ কোটি টাকা। বর্তমানে পরিশোধিত মূলধন ১২ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৮১ দশমিক ৯৮ শতাংশই রয়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালক সেটফার্স্টের কাছে। এছাড়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশসহ (আইসিবি) প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫ দশমিক ৫৩, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ৩৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২ দশমিক ১২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন