সোমবার | আগস্ট ১০, ২০২০ | ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭

শেষ পাতা

প্রস্তাবিত বাজেট

অভ্যন্তরীণ চাহিদা সৃষ্টিতে বাধা হবে বিপণন ব্যয়সীমা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিষ্ঠানের বিপণন ব্যয় বার্ষিক টার্নওভারের সর্বোচ্চ দশমিক শূন্য শতাংশ হবেএমন সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে। এতে প্রকৃত করহার বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা, উৎপাদন সরবরাহ ব্যবহারের ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে দেশে কার্যক্রমে থাকা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) এজন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন ধারা সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

১৭ জুন অর্থমন্ত্রী, এনবিআর চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প বিনিয়োগ উপদেষ্টাকে পৃথক চিঠিতে প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে নিজেদের মত জানিয়েছে এফআইসিসিআই। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটের অনেক ধারা পরিবর্তন আছে, যেগুলো অর্থনীতিকে সাহায্য করবে জনগণের জন্য কল্যাণমূলক। নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে এমন কিছু বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে চিঠিতে।

অভ্যন্তরীণ চাহিদা, উৎপাদন সরবরাহ নিরুৎসাহিত হয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জটিল স্তম্ভ স্থানচ্যুত হতে পারে এমন মত উল্লেখ করে চিঠিতে এফআইসিসিআই জানিয়েছে, ব্যবসার টার্নওভারের সর্বোচ্চ দশমিক শূন্য শতাংশ বিপণন বা প্রচারণা ব্যয়ের সীমায় প্রকৃত করহার বেড়ে যেতে পারে। মুনাফার ভিত্তি শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশের ওপর ভিত্তি করে করহার থেকে ৪০ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

এফআইসিসিআই বলছে, বাজেটে প্রকৃত ব্যবহারের ওপর আংশিক ভ্যাট ছাড়ের বিষয়টি নগদ প্রবাহে বড় প্রভাব পড়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি করবে। যার প্রভাবে প্রতিষ্ঠানের জন্য ছাড় দেয়া ক্ষতির পরিস্থিতি দেখা দেবে, কারণ চার মাসের মধ্যে সব উপকরণ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার না- হতে পারে।

ইনপুট ভ্যাট ক্রেডিটের সুযোগ সীমিত করা প্রসঙ্গে সংগঠনটি জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণমূলক সংজ্ঞার মাধ্যমে জোগান সংখ্যার ওপর ভ্যাট পরিশোধ ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট হিসেবে গণ্য হবে না। এতে ব্যবসার খরচ অনেক বেড়ে যাবে, যা ভ্যাট আইনের মৌলিক নীতিবিরোধী।

এছাড়া আমদানীকৃত কাঁচামালের ওপর অগ্রিম মূসক পরিশোধের বাধ্যবাধকতার কারণে প্রতিষ্ঠানের অর্থপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে বলে সংগঠনটির মত।

প্রস্তাবিত বাজেটের যেসব ধারা বিদেশী বিনিয়োগ পরিবেশে প্রভাব ফেলার পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য অসম ক্ষেত্র তৈরি করবে, এমন ধারাগুলো প্রসঙ্গে বলা হয়, হাইকোর্ট পর্যায়ে ভ্যাট আপিলে জমার হার ৩০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা রাজস্ব সংগ্রহের নামে অপব্যবহারের সুযোগ করে দিতে পারে। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নেতিবাচক ধারণাসহ ধরনের দাবির কারণে প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ পুঁজি আটকে যাবে, যা সক্ষমতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি সৃজনশীলতা প্রতিরোধমূলক।

ন্যূনতম কর অবশ্যই সবার জন্য সমান এবং সব ধরনের ব্যবসার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে হবে। একক কোনো খাতে মনোযোগী হওয়া উচিত হবে না, বিশেষ করে যেসব খাতে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি বড়।

বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সহায়তার জন্য সংশোধনমূলক পদক্ষেপের তাগিদ জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, আমরা আশা করছি আপনার পদক্ষেপগুলো বাধা দূর করতে এবং ভালো বিনিয়োগ সম্ভাবনা উন্মোচনের মৌলিক ভিত্তি স্থাপনে ভূমিকা রাখবে। চিঠির শেষে কভিড-১৯-এর ব্যাপ্তি মোকাবেলার পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারের সফলতা প্রত্যাশা করা হয়। সংগঠনের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো ২০ লাখ কর্মীর প্রতিনিধিত্ব করে জানিয়ে চিঠিতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনীতি শক্তিশালী করার পথে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এফআইসিসিআই।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন