সোমবার | আগস্ট ১০, ২০২০ | ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭

প্রথম পাতা

করোনার ক্ষতি প্রশমন ও কর্মসংস্থান তৈরি

৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক

নভেল করোনাভাইরাসে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান তৈরির জন্য গৃহীত তিনটি প্রকল্পে ১০৫ কোটি ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় হাজার ৯০০ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের প্রত্যাশা, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশে কমপক্ষে আড়াই লাখ তরুণের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতি বছর সরকারের ২০ কোটি ডলার সাশ্রয় হবে।

দেশে কভিড-১৯ মহামারীর ক্ষত কাটিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবেলার লক্ষ্যে গৃহীত তিনটি প্রকল্পের জন্য গতকালই ঋণের অর্থ থেকে বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল প্রজেক্ট (পিআরআইডিই), এনহ্যান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি (ইডিজিই) সেকেন্ড প্রোগ্রামেটিক জবস ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট শীর্ষক প্রকল্প তিনটি দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে সহায়তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

বিষয়ে বাংলাদেশ ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, সংকট মোকাবেলায় এটি একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। চলমান মহামারী দারিদ্র্য নিরসন উন্নয়নে বাংলাদেশের অনেক উল্লেখযোগ্য অর্জনকে (যেমনজনসাধারণের আয় জীবিকা) প্রভাবিত করতে পারে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে গৃহীত এসব প্রকল্প আরো বেশি উন্নততর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে এবং একই সঙ্গে ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি গড়বে।

বিশ্বব্যাংকের গতকাল প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকল্পগুলোর মধ্যে প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ (প্রাইড) শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে তা প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সরাসরি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে। একই সঙ্গে তা নির্ধারিত অর্থনৈতিক অঞ্চল সফটওয়্যার প্রযুক্তি পার্কে সামাজিক পরিবেশগত মানও জোরদার করবে। এছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে দেড় লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর মধ্যে সফটওয়্যার পার্কে ৪০ শতাংশ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০ শতাংশ হারে নারীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।

প্রকল্পটির আওতায় মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর--এর উন্নয়ন ঘটানো হবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে জনতা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ঢাকার প্রথমডিজিটাল অন্ট্রাপ্রেনিউর হাবগড়ে তোলা হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) এবং তথ্যপ্রযুক্তি সমর্থিত সেবাসহ (আইটিইএস) স্থানীয় বিদেশী বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে প্রকল্পটি কভিড-১৯-এর প্রভাব মোকাবেলায় অর্থনীতিকে সহায়তা করবে বলে প্রত্যাশা বিশ্বব্যাংকের।

এছাড়াএনহ্যান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমিশীর্ষক প্রকল্পটি সরকারের সব সংস্থার জন্য একটি সমন্বিত, অংশীদারিত্বভিত্তিক ক্লাউড-কম্পিউটিং ডিজিটাল প্লাটফর্ম স্থাপন করবে এবং সাইবার নিরাপত্তার উন্নতি ঘটাবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। এছাড়াও এটির বাস্তবায়নে আইটি খাতে সরকারি বিনিয়োগের ব্যয় বাবদ প্রায় ২০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অন্যদিকেসেকেন্ড প্রোগ্রামেটিক জবস ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিটপ্রকল্পটি করোনা মোকাবেলায় সরকারের স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপে অর্থসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ অভিঘাত মোকাবেলায় শ্রমজীবী দুর্বল জনগোষ্ঠীর সহায়ক ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন