রবিবার | আগস্ট ০৯, ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

খবর

কর্মসংস্থান তৈরিতে বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাংকের ১০৫ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি করোনাভাইরাস মহামারীর ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশকে ১০৫ কোটি ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকা) ঋণ অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, এই ঋণের ফলে দেশে কমপক্ষে আড়াই লাখ তরুণের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া বেসরকারি বিনিয়োগ হবে দু’শ কোটি ডলার। পাশাপাশি সরকারের প্রতিবছর ২০ কোটি ডলার সাশ্রয় হবে।

আজ শনিবার এক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশকে কভিড-১৯ (করোনভাইরাস) মহামারী থেকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংকট মোকাবেলা করার লক্ষ্যে তিনটি প্রকল্পের জন্য এ অর্থ অনুমোদন করেছে। প্রকল্প তিনটির মধ্যে ৫০ কোটি ডলারের প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল প্রজেক্ট (পিআরআইডিই)। এছাড়া ২৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের এনহান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি (ইডিজিই) প্রকল্প এবং ২৫ কোটি ডলারের সেকেন্ড জব প্রোগ্রামেটিক জবস ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট প্রকল্প।

বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থাটি মনে করে, এ তিন প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে যেমন সহযোগিতা করবে তেমনি দেশের মানুষের কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, ‘নজিরবিহীন এ সংকট মোকাবিলায় এটি একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। এই মহামারী দারিদ্র নিরসন ও উন্নয়নে বাংলাদেশের অনেক উল্লেখযোগ্য অর্জনকে, যেমন জনসাধারণের আয় ও জীবিকাকে প্রভাবিত করতে পারে।’ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের এই প্রকল্পগুলো আরও বেশি ও আরও উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে এবং একই সঙ্গে ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি গড়বে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ (প্রাইড) প্রকল্পটি প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সরাসরি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে এবং নির্ধারিত অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সফটওয়্যার প্রযুক্তি পার্কে সামাজিক ও পরিবেশগত মান জোরদার করবে। এছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। 

এর মধ্যে সফটওয়্যার পার্কের ৪০ শতাংশ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলের ২০ শতাংশ কর্মসংস্থান হবে নারীর। এই প্রকল্প ফেনীর মিরসরাই অঞ্চলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর-২ এর উন্নয়ন করবে। যার মধ্যে থাকবে বৃষ্টির পানি নিস্কাশন ব্যবস্থাসহ সড়ক নেটওয়ার্ক, সৌর বিদ্যুতের সড়ক বাতি স্থাপন এবং জলবায়ু সহনশীল পানি, স্যানিটেশন ও বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক স্থাপন ইত্যাদি। এই প্রকল্পটি জনতা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ঢাকার প্রথম ‘ডিজিটাল এন্টারপ্রেনার হাব’ গড়ে তুলবে এবং এটিকে একটি সবুজ ভবনে পরিণত করবে। তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) এবং তথ্য প্রযুক্তি সমর্থিত সেবাসহ (আইটিইএস) স্থানীয় এবং বিদেশী বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে প্রকল্পটি কভিড-১৯ এর প্রভাব মোকাবিলায় অর্থনীতিকে সহায়তা করবে।

এছাড়া ‘এনহান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকনোমি’ প্রকল্প সরকারের সব সংস্থার জন্য একটি সমন্বিত, অংশীদারিত্বভিত্তিক এবং ক্লাউড-কম্পিউটিং ডিজিটাল প্লাটফর্ম স্থাপন করবে এবং সাইবার নিরাপত্তার উন্নতি ঘটাবে, যা সরকারি খাতে আইটি বিনিয়োগে ২০০ মিলিয়ন ডলারের খরচ বাঁচাবে। এছাড়া ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জনের জন্য প্লাটফর্ম সরকারকে কার্যকরভাবে গুরুত্বপুর্ণ সেবা সরবরাহ করতে সক্ষম করবে। অন্যদিকে ‘সেকেন্ড প্রোগ্রামেটিক জবস ডেভলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট’ প্রকল্প করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের স্বল্প-মেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপের সহায়তার জন্য সরকারের আর্থিক সংস্থানের পাশাপাশি অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতের অভিঘাত মোকাবিলায় শ্রমজীবী এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করবে। 

সার্বিক এই অর্থায়ন বাংলাদেশের নাগরিক বিশেষত নারী, যুব জনগোষ্ঠী, অভিবাসী শ্রমিক এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য বৃহৎ পরিসরে মানসমপন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এটি একই সিরিজের দ্বিতীয় কর্মসূচি যা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় সংস্কারে সহায়তা করবে এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীকে অধিকতর মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে সহায়তা করবে। এছাড়া এর লক্ষ্য হচ্ছে সম্প্রসারিত একটি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর শক্তিশালী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বিশেষত মহামারির সময় শ্রমিকদের ঝুঁকি কমানো। 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বিশ্বব্যাংক এদেশের প্রথম পর্যায়ের উন্নয়ন সহযোগীদের অন্যতম। বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের আইডিএ কর্মসূচির শীর্ষ পর্যায়ের গ্রাহক, যার পরিমাণ ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। স্বাধীনতার পর থেকে বিশ্বব্যাংক এ পর্যন্ত বাংলাদেশের অনুকুলে ৩১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান, সুদবিহীন এবং রেয়াতি সুদের ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন