বৃহস্পতিবার | আগস্ট ০৬, ২০২০ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

শেষ পাতা

ভোগ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বছরের শুরু থেকেই বিশ্বব্যাপী নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেইনে অস্থিরতা তৈরি হয়। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে লকডাউনের কারণে হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধিতে সুপারস্টোরগুলোতেও পণ্য সংকট দেখা গেছে সাম্প্রতিক সময়গুলোতে। বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে অস্থিরতার ঘটনা বেশ পুরনো। কভিড-১৯ সংক্রমণ শুরু হলে সেটি আরো প্রকট হয়েছে গত কয়েক মাসে। সময়ে বিশাবাজারে নিত্যপণ্যের বৈশ্বিক বুকিং দাম কমলেও দেশীয় নানামুখী সংকট পণ্যের সহজলভ্যতাকে অনিশ্চিত করেছে। এতে চিনি, ভোজ্যতেল, আটা-ময়দা, ডালজাতীয় নিত্যপণ্যের পাইকারি খুচরা বাজার দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে।

দেশের ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক মোড়কজাতকারী শীর্ষ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কারখানা রয়েছে নারায়ণগঞ্জে। নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের হটস্পট ঘোষণার পর স্থবির হয়েছে সেখানকার সব কার্যক্রম, যার প্রভাব পড়ে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ চেইনে। সম্প্রতি বন্দরনগরী চট্টগ্রামও করোনা সংক্রমণের হটস্পট হয়ে ওঠায় ব্যাঘাত ঘটছে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের সরবরাহ ব্যবস্থায়। 

করোনা পরিস্থিতির আগে খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি আমদানীকৃত (অস্ট্রেলিয়া কানাডা) মসুর ডাল বিক্রি হতো ৪৫-৫০ টাকায়। করোনার কারণে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর রোজার শুরুতে মসুরের দাম ৯০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছিল। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়।

করোনার আগে পাইকারিতে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হতো ৫২-৫৩ টাকায়, এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০-৬১ টাকা দরে। যদিও মাঝখানে ৬৮-৭০ টাকা পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছিল ছোলার দাম।

স্বাভাবিক সময়ে পাইকারি বাজারে সাদা মটরের (ডাবলি) দাম থাকে কেজিপ্রতি ২৮-৩০ টাকার মধ্যে। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩৬ টাকায়। করোনা পরিস্থিতিতে মাঝখানে প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে পণ্যটি।

বর্তমানে পাইকারিতে মটর ডাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৮ টাকায়, যা করোনা পরিস্থিতির শুরুর দিকে ৪৫ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে পাইকারিতে মটর ডাল বিক্রি হয় ৩০-৩২ টাকার মধ্যে।

ডাল জাতীয় পণ্যের মধ্যে খেসারির চাহিদার প্রায় পুরোটাই দেশে উৎপাদন হয়। স্বাভাবিক সময়ে পাইকারিতে খেসারি ডাল বিক্রি ৪০-৫০ টাকার মধ্যে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে খেসারির দাম দ্বিগুণের চেয়ে বেশি বেড়ে ৯৫-৯৬ টাকায় দাঁড়িয়েছিল। যদিও বর্তমানে কিছুটা কমে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমানে পাইকারিতে প্রতি কেজি মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২৮-১৪০ টাকায়। করোনা পরিস্থিতির আগে বাজারে একই মানের ডাল ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ডাল আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আমদানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পর করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় সব ধরনের ডালের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। মানুষ শুকনো নিত্যপণ্য হিসেবে চাল চিড়ার পর ডালের ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় ডালের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়ে গেছে। করোনা পরিস্থিতির কয়েক মাসে কিছু ডালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে ডালের বাজার আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদেরও।

বিশ্ববাজার থেকে মশুর, মুগ, মটর ডাবলি আস্ত আমদানির পর ক্র্যাশিং মিলে ভেঙে বা প্রক্রিয়াজাত করে পাইকারি খুচরা বাজারে সরবরাহ করা হয়। ডালের বৈশ্বিক দাম সহনীয় থাকলেও আমদানির পর ক্র্যাশিং জটিলতায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। তারা বলছেন, প্রায় দুই মাসের বেশি সাধারণ ছুটি যানবাহন চলাচল সীমিত থাকায় এবং চাহিদার তুলনায় উৎপাদনে সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন কারণে ডালের দাম লাগামহীন বেড়ে গেছে। রোজার মাঝামাঝিতে কিছুটা কমলেও ফের বাড়তে শুরু করেছে পণ্যগুলোর দাম। গ্রীষ্মকালীন বর্ষা মৌসুমে সবজির উৎপাদন কমে আসায় ডালে দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। ফলে আগামী কয়েক মাস চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে ডালের বাজার আরো ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে বলে শঙ্কা বাজার সংশ্লিষ্টদের।

চট্টগ্রাম ডাল মিল মালিক সমিতির সভাপতি আহমেদ রশিদ আমু বণিক বার্তাকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে বাজারে সব ধরনের ডালের চাহিদা বেড়েছে। সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ বিতরণকে ঘিরে যেভাবে ডালের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয় সেই পরিমাণ পণ্য বাজারে প্রস্তুত ছিল না। সাধারণ ছুটিতে শ্রমিক পরিবহন সংকটের কারণে আমদানি পর্যাপ্ত হলেও একসঙ্গে বাজারে এত বিপুল পরিমাণ পণ্যের জোগান দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ এসব ডাল আমদানি শেষে ক্র্যাশিং করে বাজারে তুলতে হয়। কিন্তু আমদানি-ক্র্যাশিং বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত যে চেইন, তা করোনা পরিস্থিতির প্রথমদিকে স্বাভাবিক ছিল না। এতে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়ে বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায়।

ডালের মতো পরিস্থিতি চালের ক্ষেত্রেও। চলতি বছরের শুরু থেকে দেশে চালের বাজার বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) গড়ে ৫০০ টাকার বেশি বেড়ে যায়। বোরো মৌসুমের ধান কাটার পর দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে এলেও সেটিও যথার্থ নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, কৃষকের কাছ থেকে যে দামে ধান কেনা হয়েছে, কয়েক হাতে মুনাফার পরও বাজারে তার চেয়ে অনেক বেশি দামে চাল বিক্রি হচ্ছে। রোজার ঈদের পর চালের বাজার ফের বাড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহে মানভেদে বস্তাপ্রতি গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেড়েছে চালের দাম।

শুকনা খাদ্যপণ্যের মধ্যে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে চিড়ার দাম। স্বাভাবিক সময়ে পাইকারিতে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চিড়া বিক্রি হয় হাজার ৪০০ টাকার নিচে। এবারে করোনা পরিস্থিতি রমজানকে ঘিরে প্রতিবস্তা চিড়ার দাম দ্বিগুণ হয়ে হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে আগের চেয়ে কিছুটা কমে এখন প্রতি বস্তা চিড়া হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কাঁচা মসলাপণ্যের মধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি অস্থির হয়েছে আদা রসুনের বাজার। পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে করোনা পরিস্থিতির আগে আমদানীকৃত (চীন) আদা-রসুনের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৮০-১২০ টাকা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে গত দুই মাসে। সময় প্রতি কেজি আদার দাম ৩৫০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রসুনের দামও। প্রতি কেজি রসুন পৌঁছে প্রায় ২০০ টাকায়। তবে বর্তমানে কিছুটা কমে পাইকারিতে প্রতি কেজি আমদানীকৃত আদা ১৩০-১৪০ টাকা রসুন ১০০-১১০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

একই অবস্থা গম থেকে প্রক্রিয়াজাত আদা-ময়দার ক্ষেত্রেও। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে গমের পাইকারি দাম বেড়ে যায়। হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বেকারি খাবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে। অবস্থায় আটা-ময়দার দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ভাবনায় ফেলেছে ভোক্তা, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের। গত দুই মাসে গমের পাইকারি দাম মণপ্রতি ৮০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত (মানভেদে) বাড়লেও আটা-ময়দার দাম বেড়েছে তার চেয়েও বেশি। সাধারণ ছুটি ঘোষণার এক সপ্তাহ পর দেশের বিভিন্ন কোম্পানি আটা ময়দার সরবরাহ দিতে পারেনি বেশ কিছুদিন। বর্তমানে সরবরাহ চালু হলেও এখনো সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি বলে দাবি কোম্পানিগুলোর।

দেশের শীর্ষ কয়েকটি ভোগ্যপণ্য আমদানি, মোড়কজাত বিপণন কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণকালে চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন ধারা স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। শ্রমিকরা কারখানা এলাকার আশপাশে থাকেন না। গণপরিবহন না থাকায় শ্রমিকদের যাতায়াতও সীমিত হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ কারখানাই সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ লোকবল দিয়ে কাজ চালাচ্ছে। ধরনের অভিজ্ঞতা আগে ছিল না বিধায় ভোগ্যপণ্য মোড়কজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিকদের জন্য নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাও নেই। কারণে সীমিত লোকবল দিয়ে বাড়তি চাহিদার পণ্য উৎপাদন, পরিশোধন বাজারজাতের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে পণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

তবে নিত্য ভোগ্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে বৈশ্বিক দামের পার্থক্যটা অনেক বেশি থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন ভোক্তা অধিকার সংস্থাসহ খাতসংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি পরিস্থিতির সময়ে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক চাহিদার কয়েক গুণ বেশি থাকতে হয়। কেননা সংকটকালীন ভোক্তা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অতিরিক্ত মজুদ প্রবণতার সৃষ্টি হয়। ফলে স্বাভাবিক সময়ের চাহিদার চেয়েও নিত্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় বাজার নিয়ন্ত্রণ মনিটরিং সংস্থাগুলোর তদারকি কমে যাওয়া, ব্যক্তি সরকারিভাবে ত্রাণ প্রদানে আমদানির পরিবর্তে স্থানীয় বাজারের ওপর অতিনির্ভরশীলতা পণ্যের সরবরাহ চেইনকে ভেঙে দেয়। কারণে বাজার পর্যালোচনার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে আমদানি মজুদে উদ্যোগ নেয়া জরুরি বলে মনে করেন তারা।

নিত্যপণ্যের বাজারের উত্থান-পতন প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক অর্থনীতিবিদ . মইনুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা যায়। যেকোনো উপলক্ষ, মৌসুম কিংবা সংকটকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা মজুদপ্রবণ হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রের বাজার নিয়ন্ত্রণসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন সময়ে দাম সহনীয় রাখার চেষ্টা চালালেও বর্তমান সময়ে সেগুলো ঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। ফলে মানুষের চাহিদাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরাও অতি মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। বর্তমান সময়ে দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজারকে সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় রাখতে ব্যবসায়ীদের ওপর নজরদারির পাশাপাশি আমদানি প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন সমস্যা রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাধান করতে হবে।

ভোগ্যপণ্যের বাজারে মার্কেট লিডার পরিবর্তনশীল। ভোগ্যপণ্যের আমদানি ব্যবসা মুষ্টিমেয় কয়েকটি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। কারণে বৈশ্বিক বাজার যা- হোক না কেন, শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে পণ্যের দাম নির্ধারণ করে, সেভাবেই দাম ওঠানামা করছে। ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, আটা-ময়দার বাজার নিয়ন্ত্রণে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। চাহিদা জোগানের হিসাব নিয়ে সরকারি পর্যায়েও রয়েছে নানা মতভেদ। সরকারি বাজার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় করা না গেলে সংকটকালে ভোগ্যপণ্যের বাজারে অতি মুনাফার প্রবণতা বেড়ে যাবে বলে মনে করেন খাতুনগঞ্জের এক সময়ের ভোগ্যপণ্য আমদানি বাজারজাতকারী শীর্ষস্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের একজন স্বত্বাধিকারী।

দেশে ভোগ্যপণ্যের আমদানি বাজারজাতকারী জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে টি কে গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, নূরজাহান গ্রুপ, মোস্তফা গ্রুপ, বিএসএম গ্রুপ, এমইবি গ্রুপ, পিএইচপি ফ্যামিলি আবুল খায়ের গ্রুপ। এছাড়া রয়েছে সিটি গ্রুপ মেঘনা গ্রুপ, যারা ভোজ্যতেলের বাজারের বড় অংশই নিয়ন্ত্রণ করে।

শীর্ষস্থানীয় এসব ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রায় সবগুলোই চট্টগ্রামভিত্তিক। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, সাভার, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুরেও কারখানা রয়েছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম জেলা নভেল করোনাভাইরাসের নতুন হটস্পটে পরিণত হওয়ায় ভোগ্যপণ্যের বাজার পণ্য বিপণন ব্যবস্থায় শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশের প্রধান ভোগ্যপণ্য বাজার খাতুনগঞ্জে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন করোনা আক্রান্ত রোগী মৃত্যুবরণও করেছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে পণ্যের বাজারও অস্থিরতায় পড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

জানতে চাইলে দেশের অন্যতম ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক মোড়কজাতকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা (করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স) বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ভোগ্যপণ্য আমদানি, মোড়কজাত, বিপণন সরবরাহে নানামুখী সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উৎপাদন ধরে রাখতে হচ্ছে। কিন্তু শ্রমিক সংকটে প্রথমদিকে উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে। বর্তমানে ওভারটাইম করিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি দেশব্যাপী শতভাগ নিজস্ব পরিবহন সুবিধা নেই অধিকাংশ কোম্পানির। এর প্রভাবও পড়েছে নিত্য ভোগ্যপণ্য মোড়কজাত বিপণন প্রক্রিয়ায়।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) পরিচালিত পলিসি অ্যাডভোকেসি ইনিশিয়েটিভের (পিএআই) অধীনে প্রকাশিত

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন