বৃহস্পতিবার | আগস্ট ০৬, ২০২০ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

শেষ পাতা

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে কর বাড়ানোর প্রস্তাব

প্রভাব পড়বে নির্মাণ বিদ্যুৎ টেলিযোগাযোগ খাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ইস্পাত খাতের কাঁচামালের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সিমেন্ট শিল্পে কাস্টমস শুল্কের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি সিরামিক শিল্পে সম্পূরক শুল্কারোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে ফার্নেস অয়েল আমদানির ওপর শুল্ক অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে টেলিযোগাযোগ খাতে কোম্পানিগুলোর মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্কের পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন ধরনের শুল্কের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি শুল্ক অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহারের কারণে দেশের নির্মাণ, বিদ্যুৎ টেলিযোগাযোগ খাতের ব্যবসায় ব্যয় বাড়বে। এতে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্পাত, সিরামিক, সিমেন্ট, বিদ্যুৎ টেলিযোগাযোগ খাতের কোম্পানিগুলোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ইস্পাত শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনকারী শিল্পের তিনটি পণ্য ফেরো ম্যাঙ্গানিজ, ফেরো সিলিকন ফেরো সিলিকন-ম্যাঙ্গানিজের আমদানি নিয়ন্ত্রণের জন্য এর ওপর বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সিমেন্ট শিল্পে ব্যবহূত অ্যাডিটিভস, মর্টারস কংক্রিটের ওপর কাস্টমস শুল্কের হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। উৎপাদন পর্যায়ে সিরামিক সিঙ্ক, বেসিন প্রভৃতির ওপর ১০ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে সিরামিক উৎপাদকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। তাছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়নি। কভিড-১৯-এর কারণে অনেক মেগা প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে গেছে। এসব কারণে দেশের নির্মাণ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইস্পাত সিমেন্ট শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পুঁজিবাজারে ইস্পাত খাতের বিএসআরএস লিমিটেড, বিএসআরএম স্টিল, আরএসআরএস স্টিল, জিপিএইচ ইস্পাত, এসএস স্টিল অ্যাপোলো ইস্পাত তালিকাভুক্ত রয়েছে। সিরামিকস খাতের ফু-ওয়াং সিরামিকস, মুন্নু সিরামিকআরএকে সিরামিকস, শাইনপুকুর সিরামিকস স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস তালিকাভুক্ত রয়েছে। সিমেন্ট খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে আরামিট সিমেন্ট, কনফিডেন্স সিমেন্ট, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, মেঘনা সিমেন্ট, এমআই সিমেন্ট প্রিমিয়ার সিমেন্ট তালিকাভুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট (বিসিএমএ) মোহাম্মদ আলমগীর কবির বণিক বার্তাকে বলেন, এমনিতেই বর্তমানে দেশের সিমেন্ট শিল্প নানামুখী সংকটের মধ্যে রয়েছে। শতাংশ অগ্রিম আয়কর সমন্বয়ের সুযোগ না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এটি বিবেচনা করার জন্য আমরা অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু সেটি বিবেচনা করা হয়নি। তার ওপর অ্যাডিটিভস, মর্টারস, কংক্রিটের ওপর শুল্কের পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আমাদের ব্যয় আরো বাড়বে। অথচ চাইলেই কিন্তু সিমেন্টের দাম বাড়ানো সম্ভব নয়। কভিড-১৯-এর প্রভাবে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ নির্মাণকাজে আগের তুলনায় অনেক কম ব্যয় করবে। তার ওপর যদি আমাদের ওপর করের বোঝা আরো বাড়ানো হয়, তাহলে সিমেন্ট শিল্পের পাশাপাশি নির্মাণ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিকের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।

২০০৯ সালে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কম থাকায় জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ফার্নেস তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমাতে ২০১১ সালে ফার্নেস তেল আমদানির ওপর শুল্ক কর মওকুফ করা হয়। এরই মধ্যে বিকল্প জ্বালানি সহজলভ্য হয়েছে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। দেশে এখন চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। অবস্থায় ফার্নেস তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিরুৎসাহিত করতে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ফার্নেস তেল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এর ফলে ফার্নেস তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং সরকার ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ কেনার পরিমাণ আরো কমিয়ে দেবে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে খুলনা পাওয়ার, বারাকা পাওয়ার, ডরিন পাওয়ার, ইউনাইটেড পাওয়ার, কনফিডেন্স সিমেন্ট প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল সামিট পাওয়ারের ফার্নেস তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফার্নেস তেলের মূল্য বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) থেকেই পরিশোধ করা হয়ে থাকে। তাই শুল্ক প্রত্যাহারের কারণে তেলের আমদানি মূল্য বাড়লে তাতে সরকারেরই ব্যয় বাড়বে। তবে সরকার যদি ফার্নেস তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ কেনার পরিমাণ আরো কমিয়ে দেয় তাহলে প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় কিছুটা কমবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্কের পরিমাণ ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এতে মোবাইলভিত্তিক সেবার ব্যয় বেড়ে যাবে। এর প্রভাবে মোবাইলে ভয়েস কলের সংখ্যা কমার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এতে মোবাইল কোম্পানিগুলোর রাজম্ব কমার শঙ্কা রয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। দ্বিতীয় বৃহৎ অপারেটর পুঁজিবাজারে আসার জন্য আবেদন করেছে।

শিল্প খাতে ব্যবহূত লবণের ওপর বিদ্যমান শুল্ক শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার কারণে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী ট্যানারিগুলোর উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। পুঁজিবাজারে খাতের এপেক্স ট্যানারি তালিকাভুক্ত রয়েছে।

ফার্নিচারের শোরুম পর্যায়ে মূল্য সংযোজন করের (মূসক) পরিমাণ বিদ্যমান শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিঙ্গার বাংলাদেশের ফার্নিচার ব্যবসায় ব্যয় বাড়বে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন