বৃহস্পতিবার | জুলাই ১৬, ২০২০ | ১ শ্রাবণ ১৪২৭

শেষ পাতা

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক

ব্যাংক খোলা থাকলে চালু রাখতে হবে পুঁজিবাজারও

নিজস্ব প্রতিবেদক

কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে দেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম সচল থাকলে পুঁজিবাজারও খোলা রাখতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মো. রকিবুর রহমান। দেশের পুঁজিবাজারের সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল এক ডিজিটাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে রকিবুর রহমান বলেন, কভিড-১৯-এর সংক্রমণ বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকে পুঁজিবাজার চালুর বিষয়টি নিয়ে নানা কথা বলছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তাছাড়া যতদিন ব্যাংকের কার্যক্রম চালু থাকবে ততদিন পুঁজিবাজারও চালু রাখতে হবে।

ফ্লোর প্রাইসের পাশাপাশি অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমানে নিষ্ক্রিয় থাকায় পুঁজিবাজারে কম লেনদেন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লোর প্রাইস বহাল থাকা উচিত। গেল সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা যে লেনদেন করেছেন তার ৮৭ শতাংশই অনলাইনে হয়েছে। তাই ব্রোকারেজ হাউজে না এসে বাসায় থেকেই লেনদেন করা সম্ভব।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আগের নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিশ্বের কোথাও কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা সূচক লেনদেন ওঠানামায় হস্তক্ষেপ করে না। অথচ বিগত কমিশনের সময়ে সেটি করা হয়েছে। বর্তমান কমিশন এটা করবে না বলে আমার প্রত্যাশা। আগের কমিশন আইনকানুন, বিধিবিধানসহ বিভিন্ন ধরনের সংস্কার করা সত্ত্বেও বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। ফলে তাদের গৃহীত কার্যক্রম বাজার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিএসইসির নতুন কমিশন দেশের পুঁজিবাজারে গুণগত পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে রকিবুর রহমান বলেন, তারা এরই মধ্যে পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সভার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট দূর করতে ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগে আনার পাশাপাশি ৩০ সেপ্টেম্বরের আগেই ব্যাংকের লভ্যাংশ প্রদানের বিষয়ে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বর্তমান কমিশন বন্ড মার্কেট উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে।

দেশের বীমা কোম্পানিগুলো তাদের কাছে থাকা বড় অংকের অর্থ ব্যাংকে আমানত বন্ডে বিনিয়োগ করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে রিটার্ন বেশ কম। মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ব্যাংকে আমানত হিসেবে অনেক টাকা রাখা আছে। অথচ বিশ্বব্যাপী মিউচুয়াল ফান্ডগুলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে থাকে। দেশে বিনিয়োগ করার মতো অনেক ভালো কোম্পানির শেয়ার রয়েছে। এখন দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের সুবর্ণ সময়। যারা এক থেকে দুই বছরের জন্য বিনিয়োগ করবেন, তারা লাভবান হবেন। আপনারা যাচাই-বাছাই করে বিনিয়োগ করুন। 

পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা জানি করোনাভাইরাসের কারণে ১০ শতাংশ কর প্রদান সাপেক্ষে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হবে। তবে এই অর্থ বিনিয়োগের জন্য কোনো খাত নির্দিষ্ট করে দেয়াটা ঠিক হবে না। যার যে খাতে ইচ্ছা বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। এতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়বে এবং বাজারকে গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন