মঙ্গলবার | জুলাই ১৪, ২০২০ | ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

খবর

নভেল করোনাভাইরাস

গণপরিবহনে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি, বাড়াচ্ছে সংক্রমণ ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাসে দাঁড়ানো যাত্রী তোলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সরকার। নির্দেশনা ছিল অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখার। এর বাইরে যাত্রী-চালকদের মাস্ক-গ্লাভস ব্যবহার, টার্মিনালে যাত্রীদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখাসহ বেশকিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। দুই মাসের বেশি সময় বন্ধ রাখার পর গণপরিবহন চালুর তৃতীয় দিনে এসে এসব নির্দেশনার অনেকগুলোয় আর মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে।

অনেক যাত্রী যেমন স্বাস্থ্যবিধি মানতে চাইছেন না, তেমনি পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা দেখা গেছে। কোথাও কোথাও আবার সরকার নির্ধারিত ভাড়া চেয়েও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে।

এদিকে গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে করোনাভাইরাস সংক্রমের ঝুঁকি আরো বাড়ছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীতে এখনো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মানুষের চলাচল কম। দু-এক সপ্তাহের মধ্যেই পুরোপুরি আগের রূপে ফিরে যাবে ঢাকা। এখন কিছুটা হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হচ্ছে। ঢাকায় আগের মতো মানুষের চলাচল শুরু হলে তার ছিটেফোঁটাও থাকবে না।

ঢাকায় বাসে সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকছে বিকালে অফিস ছুটির সময়। সময়টাই সব আসন তো বটেই, দাঁড়ানো যাত্রীও তোলা হচ্ছে বাসে। ট্রিপ শেষে গাড়িতে জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানোর নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না অধিকাংশ পরিবহন শ্রমিক।

অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি কিছুটা হলেও মেনে চলতে দেখা গেছে দূরপাল্লার বাসগুলোয়। এখনো পর্যন্ত অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখেই চলাচল করছে বেশির ভাগ দূরপাল্লার বাস। তবে জেলা শহরগুলোয় চলাচলকারী সব বাসেও স্বাস্থ্যবিধি খুব একটা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকার করোনা পরিস্থিতিতে বাস ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ালেও পরিবহন শ্রমিকরা যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কিছু কিছু স্বাস্থ্যবিধি না মানা বাড়তি ভাড়া আদায় হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, অধিকাংশ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেও কিছু পরিবহনের বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া আদায় এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারী এসব পরিবহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গণপরিবহনের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে যাত্রীবাহী লঞ্চ। যাত্রীরা গাদাগাদি করে যাতায়াত করছেন। লঞ্চে ওঠা বা নামার সময় ঘাটগুলোতেও চলাচল করছেন গাদাগাদি করে। বিপরীতে এখনো পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন