মঙ্গলবার | জুলাই ১৪, ২০২০ | ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

খবর

বাংলাদেশ রেলওয়ে

দ্বিতীয় দফায় আরো ১১ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম ব্যুরো

সাধারণ ছুটি শেষে গত ৩১ মে প্রথম দফায় আট জোড়া ট্রেন চালু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গতকাল দ্বিতীয় দফায় আরো ১১ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব ট্রেনের নির্ধারিত আসনের ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। আগের মতো এসব ট্রেন ভ্রমণেও যাত্রীদের কাউন্টারের পরিবর্তে শুধু অনলাইনে টিকিট ক্রয় করতে হবে। ধারাবাহিকভাবে চালু করা ট্রেনগুলো চলাচলে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনে সফলতা পেলে অন্যান্য ট্রেনও যাত্রী পরিবহনে চালু হতে পারে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ৬৭ দিন বন্ধ থাকার পর গত ৩১ মে থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় গতকাল থেকে ১১ জোড়া ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল শুরু হয়। তবে ১১ জোড়া ট্রেনের মধ্যে যেসব ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ বুধবার সেগুলো বৃহস্পতিবার থেকে চলাচল করবে। নতুন এসব ট্রেনের মধ্যে সাত জোড়া ঢাকা থেকে অন্য ট্রেনগুলো চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী পরিবহন করবে।

চালু হওয়া ১১ জোড়া ট্রেনের মধ্যে রয়েছে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার রুটের তিস্তা এক্সপ্রেস (৭০৭/৭০৮), ঢাকা-বেনাপোল রুটের বেনাপোল এক্সপ্রেস (৭৯৫/৭৯৬), ঢাকা-চিলাহাটি রুটের নীলসাগর এক্সপ্রেস (৭৬৫/৭৬৬), খুলনা-চিলাহাটি রুটের রূপসা এক্সপ্রেস (৭২৭/৭২৮), খুলনা-রাজশাহী রুটের কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস (৭১৫/৭১৬), রাজশাহী-গোয়ালন্দঘাট রুটের মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৫/৭৫৬), চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের মেঘনা এক্সপ্রেস (৭২৯/৭৩০), ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটের কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮১/৭৮২) এবং ঢাকা-নোয়াখালী রুটের উপকূল এক্সপ্রেস (৭১১/৭১২), ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার রুটের ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস (৭৪৩/৭৪৪) এবং ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটের কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস (৭৯৭/৭৯৮) ট্রেনগুলো।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় সীমিত পরিসরে চলাচলরত ট্রেনগুলোর জন্য যাত্রীদের কঠোর স্বাস্থ্য নির্দেশনা পরিপালনে বাধ্য করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য যাত্রীকে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় ট্রেন ছাড়ার ন্যূনতম ঘণ্টা আগে স্টেশনে আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ট্রেনের অভ্যন্তর প্লাটফর্মে হকার বা কুলি পণ্য বিক্রি করছে না। ট্রেনের ক্যাটারিং সার্ভিসও বন্ধ রাখা হয়েছে। ভিড় এড়াতে স্টেশনের প্লাটফর্ম টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখার পাশাপাশি প্লাটফর্মে প্রবেশ করতে যাত্রীকে আবশ্যিকভাবে টিকিট প্রদর্শন করতে হচ্ছে। আগে নির্ধারিত ট্রেনের ১০ দিন আগে অগ্রিম টিকিট বিক্রি হলেও বর্তমানে পাঁচদিন আগেই অনলাইনে অগ্রিম টিকিট ক্রয় করতে পারছেন যাত্রীরা। স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পরিপালনের জন্য মাসিক স্বল্প দূরত্বের স্টেশনগুলো যেমন ঢাকা বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, নরসিংদীতে কোনো ট্রেন যাত্রাবিরতি রাখা হয়নি।

বাংলাদেশ রেলওয়েতে চলাচলরত দৈনিক মোট ট্রেন সংখ্যা ৩৪৮টি। এর মধ্যে আন্তঃনগর ৮৬টি, লোকাল/মিক্সড/পিঅ্যান্ডডি ১২৬টি, মেইল এক্সপ্রেস-কমিউটার-ডেমু ১৩২টি। বাদবাকি ট্রেনগুলো আন্তঃদেশীয় ট্রেন। যদিও ২০১৯ সালের শেষ দিকে বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর, আন্তঃদেশীয় নতুন ট্রেন যুক্ত করেছে রেলওয়ে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ২৫ মার্চ থেকে সারা দেশে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। যদিও পণ্যবাহী (খাদ্যশস্য, জ্বালানি কনটেইনার) ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে সাধারণ ছুটিকালীন সবজি কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য গত মে থেকে তিনটি পার্সেল ট্রেন চালু করে রেলওয়ে। জুন থেকে গ্রাষ্মকালীন ফল অর্থাৎ আম পরিবহনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটে একটি বিশেষ ট্রেন চালু করছে রেলওয়ে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন