বুধবার | জুলাই ১৫, ২০২০ | ৩১ আষাঢ় ১৪২৭

খবর

মানব পাচারের অন্যতম মূল হোতা গ্রেফতার

ইউরোপে পাঠানোর জন্য লিবিয়ার রুটটি ব্যবহার করে দালাল চক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

অল্প টাকায় ইউরোপে পাঠানোর জন্য লিবিয়ার রুটটি ব্যবহার করে দালাল চক্রগুলো। আর বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পৌঁছতে ব্যবহার করা হয় নিত্যনতুন রুট। এছাড়া লিবিয়ায় মানব পাচারের নতুন আরেকটি রুটের সন্ধান পেয়েছে র্যাব।

সংস্থাটির ভাষ্যমতে, বর্তমানে চক্রটি বাংলাদেশ থেকে কলকাতা, মুম্বাই, দুবাই, মিসর, বেনগাজী হয়ে ত্রিপলিতে অবৈধভাবে লোক পাঠাচ্ছিল। সেখান থেকে সমুদ্রপথে শুরু হতো ইউরোপ যাত্রা। মানব পাচার চক্রের মূলহোতা মো. কামাল উদ্দিন ওরফে হাজি কামালকে গ্রেফতারের পর গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় র্যাব।

র্যাব- জানায়, অবৈধভাবে ইউরোপে পাঠানোর আগে লিবিয়ার মিজদাহ শহরে গত ২৮ মে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ২৬ বাংলাদেশী নিহত এবং ১১ বাংলাদেশী মারাত্মকভাবে আহত হন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্যতম মূলহোতা হাজি কামাল। লিবিয়ায় নিহতের ঘটনায় মাদারীপুরের রাজৈর থানা এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানায় মানব পাচার বিরোধী আইনে দুটি মামলা করেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। ওই মামলার তদন্তে গতকাল ভোর ৫টায় রাজধানীর শাহজাদপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সময় তার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট জাল ভিসা।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, হাজি কামাল মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এই সংঘবদ্ধ চক্র বিদেশী চক্রের যোগসাজশে অবৈধভাবে বাংলাদেশী নাগরিকদের বিভিন্ন দেশে পাঠায়। তিনটি ধাপে তারা অবৈধভাবে মানব পাচারের কাজটি করে। চক্রের দেশীয় এজেন্টরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বল্প আয়ের মানুষদের অল্প খরচে উন্নত দেশে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আকৃষ্ট করে। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় অনেকেই তাদের প্রস্তাবে সাড়া দেন। এই বিদেশ গমনেচ্ছুকদের পাসপোর্ট তৈরি, ভিসা সংগ্রহ, টিকিট ক্রয় ইত্যাদি কার্যাবলি সিন্ডিকেটের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে তাদের এককালীন বা ধাপে ধাপে কিস্তি নির্ধারণ করে ইউরোপের পথে পাড়ি দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রার্থীদের সামর্থ্য অনুযায়ী ধাপ নির্বাচন করেন। ইউরোপ যাওয়ার ক্ষেত্রে থেকে লাখ টাকা নেয় চক্রটি। এর মধ্যে লাখ টাকা লিবিয়ায় যাওয়ার আগে এবং বাকি লাখ টাকা লিবিয়ায় গিয়ে পরিশোধ করতে হয়। 

র্যাব জানায়, বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় পাঠানোর ক্ষেত্রে চক্রের সদস্যরা বেশ কয়েকটি রুট ব্যবহার করেন। রুটগুলো তারা সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী মাঝে মধ্যে পরিবর্তন অথবা নতুন রুট নির্ধারণ করেন। ভিকটিমরা ত্রিপলিতে পৌঁছানোর পর সেখানে কয়েকজন এজেন্ট তাদের গ্রহণ করে কয়েক দিন রাখে। সময় এজেন্টদের দেশীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে ভিকটিমের আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। পরে ভিকটিমদের ত্রিপলির বন্দর এলাকায় একটি সিন্ডিকেটের কাছে অর্থের বিনিময়ে ইউরোপে পাচারের উদ্দেশ্যে হস্তান্তর করা হয়। ওই সিন্ডিকেট তাদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে সমুদ্রপথে অতিক্রম করার জন্য নৌযান চালনা এবং দিক নির্ণয় যন্ত্র পরিচালনাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ের ওপর নানা প্রশিক্ষণ দেয়। একটি নির্দিষ্ট দিনে গভীর রাতে একসঙ্গে কয়েকটি নৌযান লিবিয়া হয়ে তিউনিসিয়া উপকূলীয় চ্যানেল দিয়ে ইউরোপের পথে রওনা দেয়। এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন