শুক্রবার | জুলাই ১০, ২০২০ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

টেলিকম ও প্রযুক্তি

নিট ঋণের অংক শূন্যে নামিয়ে আনার পথে রিলায়েন্স

বণিক বার্তা ডেস্ক

ঋণের বোঝা কমাতে একের পর এক ব্যবসায় বিলগ্নীকরণের দিকে ঝুঁকছে ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (আরআইএল) এরই অংশ হিসেবে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান জিও ইনফোকমের বড় একটা অংশের মালিকানা বিক্রি করেছে ভারতীয় জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি। বিনিয়োগকারী এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট ফেসবুক সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিতীয় শীর্ষ রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মুবাদালাসহ বেশ কয়েকটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান। গত এপ্রিল থেকে গেল কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এসব বিনিয়োগ চুক্তির মধ্য দিয়ে লাখ হাজার কোটি রুপির পুঞ্জীভূত মূলধন সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আর অর্থ দিয়ে নিট ঋণের পরিমাণ পরিশোধ করতে সক্ষম হবে বলে মনে করছে আরআইএল। এমনকি সৌদি আরামকোর সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তিতে বিলম্বিত হলেও পুঞ্জীভূত অর্থ দিয়ে নিট ঋণের পরিমাণ শূন্যে নামিয়ে আনতে পারবে আরআইএল। আরআইএলের ওপর করা ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের এক গবেষণা প্রতিবেদনে তথ্য জানানো হয়েছে। খবর ইটি টেলিকম।

আরআইএল এখন পর্যন্ত জিও প্লাটফর্মের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের মালিকানা বিক্রি করেছে। জিও প্লাটফর্মে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ফেসবুক, সিলভার লেক, ভিস্তা ইকুইটি পার্টনার, গ্লোবাল গ্রোথ ইকুইটি ফার্ম জেনারেল আটলান্টিকের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্টটি জিও প্লাটফর্মের প্রায় ১০ শতাংশ মালিকানা কিনেছে। গত এপ্রিলের অধিগ্রহণ চুক্তির মূল্য ৫৭০ কোটি ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৩ হাজার ৫৭৪ কোটি রুপি। ফেসবুকের পরই মালিকানা কেনে আরেক মার্কিন প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান সিলভার লেক। জিও প্লাটফর্মের দশমিক ১৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ পেতে হাজার ৬৫৫ কোটি রুপি বিনিয়োগ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এসব অধিগ্রহণ থেকে আরআইএল ৭৮ হাজার ৫৬২ লাখ কোটি রুপি আয় করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে রাইট ইস্যু থেকে এসেছে ৫৩ হাজার ১২৫ কোটি রুপি। সব মিলিয়ে মাথার ওপর থেকে ঋণের বোঝা কমাতে বড় একটি মূলধন করতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কোম্পানির ওপর করা গবেষণা প্রতিবেদনে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান এডেলওয়াইস বলছে, সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বিলগ্নীকরণের ওপর আমরা আরআইএলের ব্যালান্স শিট বিশ্লেষণ করেছি। যেখানে দেখা যাচ্ছে এসব চুক্তির মাধ্যমে আরআইএলের পুঞ্জীভূত মূলধনের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে লাখ ৩০ হাজার কোটি রুপি। আমরা প্রত্যাশা করছি মূলধনের সাহায্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের লাখ ৬০ হাজার কোটি রুপি নিট ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হবে।

অন্যদিকে আরআইএলের অ্যাডজাস্টেড নিট ঋণের পরিমাণ লাখ ৫৭ হাজার কোটি রুপি। ফলে এটি পরিশোধে আরো সময় লাগতে পারে। এডেলওয়াইস বলছে, ঋণ পরিশোধ করতে হলে আরআইএলকে জ্বালানি তেল থেকে শুরু করে কেমিক্যাল (ওটুসি) খাতে ব্যাপক আকারে বিলগ্নীকরণে যেতে হবে। ক্ষেত্রে যদি সৌদি আরামকোর কাছে ওটুসির শতাংশ মালিকানাও বিক্রি করা যায়, তাহলে ঋণ পরিশোধে ঘাটতি মূলধন সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন