শুক্রবার | জুলাই ১০, ২০২০ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

চীনে কারখানার জাঁতা ঘুরলেও শঙ্কা কাটছে না

বণিক বার্তা ডেস্ক

লকডাউনের ধাক্কা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে কর্মচঞ্চলতায় ফিরতে শুরু করেছে চীনের কারখানাগুলো। বিষয়টি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পুনরায় প্রাণসঞ্চারের আশা জাগিয়েছে। কিন্তু আশার সঙ্গে উত্কণ্ঠাও রয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা উদ্বেগে রয়েছেন, দেশে দেশের বাইরে চাহিদার মন্দা ভাবের কারণে উৎপাদন খাতের প্রাণচাঞ্চল্য না আবার হারিয়ে যায়। খবর ব্লুমবার্গ।

যুক্তরাষ্ট্রের রিটেইলারদের কাছে খেলনা স্কুটার সরবরাহ করে ঝেজিয়াংভিত্তিক পিংহু মিজিয়া চাইল্ড প্রডাক্ট কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির বিপণন ব্যবস্থাপক জাস্টিন ইউ জানান, নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যখন লকডাউন আরোপ করা হয়েছিল, সে সময়ের চেয়ে এখন কার্যাদেশ কিছুটা বেড়েছে। তবে চাহিদা এখনো স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক কম।

তিনি বলেন, মে মাসে আমাদের কার্যাদেশের পরিমাণ বেড়েছে। কিন্তু গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা এখনো ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কম রয়েছে। আমাদের কারখানার উৎপাদন সক্ষমতার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই কেবল ব্যবহার হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে চীনে কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের মজুদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলেই উৎপাদন চাহিদার অসামঞ্জস্যের প্রমাণ পাওয়া যায়। যদিও সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, মজুদের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমছে। তবে একটি জায়গায় উদ্বেগ রয়েই গেছে। চীনের কারখানাগুলোয় চাহিদার চেয়ে বেশি পণ্য উৎপাদন অব্যাহত থাকার অর্থ হলো, পণ্যের মূল্য কমাতে বাধ্য হওয়া। এতে বৈশ্বিক মূল্যসংকোচনের সংকট আরো ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একসময় হয়তো কারখানাগুলো আবার উৎপাদন কমাতে বাধ্য হবে, যার কোপটা গিয়ে পড়বে কর্মসংস্থানের ওপর।

ফরাসি বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সোসিয়েতে জেনেরালের চীনবিষয়ক অর্থনীতিবিদ ইয়াও ওয়েই বলেছেন, যে গতিতে সরবরাহ বাড়ছে, চাহিদা সে গতিতে বাড়ছে না। এক কথায় বলা যায়, এখন পর্যন্ত যা অগ্রগতি হয়েছে, তা কেবলই মূল্যসংকোচনমূলক অগ্রগতি।

চীনের মে মাসের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্সের (পিএমআই) দিকে তাকালেও উৎপাদন খাতের পুনরুত্থানে ধীরগতিই লক্ষ করা যায়। রোববার দেশটির ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, গত মাসে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে চীনের পিএমআই সূচক ২০ বেসিস পয়েন্ট কমে ৫০ দশমিক পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা প্রত্যাশিত মাত্রার চেয়েও কিছুটা কম। এপ্রিলে সূচকটির অবস্থান ছিল ৫০ দশমিক পয়েন্ট।

রফতানি বাজারের দুরবস্থায় ফুজিয়ান স্ট্রেইট টেক্সটাইল টেকনোলজি কোম্পানির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসায়িক কাঠামো বদলে ফেলেছে। বিদেশের পরিবর্তে তারা এখন স্থানীয় বাজারকে লক্ষ্য করে পণ্য উৎপাদন করছে। ফুজিয়ান স্ট্রেইট সাধারণ সময়ে তাদের ৬০ শতাংশ পণ্য ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রি করত। কিন্তু করোনা মহামারী তাদের সে বাজার বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই কোম্পানিটির কর্মকর্তারা এখন অভ্যন্তরীণ বাজারের দিকে নজর দিয়েছেন।

অভ্যন্তরীণ বাজারেও যে সমস্যা নেই, তা নয়। অন্যান্য দেশের তুলনায় চীনের ভোক্তারা এখন কেনাকাটায় কিছুটা বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছেন। তবে তারাও এখন আর আগের মতো খরচ করতে চাইছেন না।

চীনে এপ্রিলে খুচরা বিক্রি কমেছে দশমিক শতাংশ, যা প্রত্যাশিত মাত্রার চেয়েও বেশি। বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল এপ্রিলে হয়তো খুচরা বিক্রিতে শতাংশ পতন হতে পারে।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ চ্যাং শু বলেছেন, চীনে চাহিদা আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি করোনাপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসতে আরো অনেকদিন সময় লাগবে। আশার বিষয় হলো, অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোক্তাব্যয় বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদার মন্দা ভাব আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে।

 

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন