শুক্রবার | জুলাই ১০, ২০২০ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

শেষ পাতা

ব্যবসায়ীদের ঋণের সুদ

২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে সাধারণ ছুটি বলবৎ ছিল দেশে। স্থবির হয়ে ছিল সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে গৃহীত ঋণ পরিশোধে সমস্যার মুখোমুখি হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা। সময় দুই মাসের জন্য ঋণের সুদ পরিশোধ স্থগিত করা হয়, যার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকায়। এর মধ্যে হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি হিসেবে পরিশোধ করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে গতকাল সকালে ২০২০ সালের এসএসসি সমমানের পরীক্ষার ফলাফল পরিসংখ্যান প্রকাশকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন সবই বন্ধ ছিল। এখন আমরা আস্তে আস্তে সবকিছু উন্মুক্ত করে দিচ্ছি। অনেকেই ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছেন। যেহেতু তাদের ব্যবসা চালাতে পারেননি, সেখানে ঋণভারে যাতে জর্জরিত না হতে হয়, তার জন্য আমরা বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছি। এরই মধ্যে আমরা প্রায় লাখ কোটি ( লাখ হাজার ১১৭ কোটি টাকা) টাকার ওপরে বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, এর আগে আমরা ১৮টি প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। এখন অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বসে আমরা আরেকটা প্যাকেজ ঘোষণা করছি। দুই মাসের সুদ স্থগিত করা ছিল। এখানে সুদের পরিমাণ ১৬ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা। সুদের মধ্যে হাজার কোটি টাকা সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ভর্তুকি দেবে, যা আনুমানিক হারে ঋণগ্রহীতাদের আর পরিশোধ করতে হবে না। তাদের এটুকু আমরা মুক্ত করে দিচ্ছি। আর সুদে অবশিষ্ট যে অর্থ সেটা ঋণগ্রহীতারা ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধ করবেন।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক চাকাটা আমাদের সচল রাখতে হবে। মানুষের আয়-উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা সাহায্য করছি এটা ঠিক। তার পরও যাদের সীমিত আয়ের মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে বা নিম্নবিত্তদের, প্রত্যেকেরই কষ্ট হচ্ছে। কষ্টের হাত থেকে সবাইকে আমরা মুক্তি দিতে চাই। সেজন্য আমরা অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি। যদিও আমাদের বাজেটের ওপর চাপ পড়বে। বাজেট প্রণয়নের কাজও আমরা তৈরি করে ফেলেছি। আগামী ১১ জুন এটা ঘোষণা দেব। আমরা দারিদ্র্যের হার ২০ শতাংশে নামিয়ে এনেছিলাম, আমরা চেয়েছিলাম আরো নামিয়ে আনব। আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছিলাম, সেটাও ধরে রাখব। আমাদের প্রবৃদ্ধি অর্জন দশমিক শতাংশ, সেটা আরো ওপরে উঠবে। অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল। কিন্তু কভিড-১৯ সারা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে, স্থবির করে দিয়েছে। যেকোনো অবস্থা হোক, তা মোকাবেলা করে আমাদের চলতে হবে।

এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উন্মুক্ত করা হবে না বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এসএসসি, দাখিল সমমানের পরীক্ষার রেজাল্ট দিলাম। হয়তো কলেজ এখন আমরা খুলব না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে পারছি না। কারণ আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাচ্ছি। যাতে করে কেউ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত না হয়। কারণ এরা আমাদের ভবিষ্যৎ। কাজেই ভবিষ্যেক তো আমি ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না। সে কারণে আমরা এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে উন্মুক্ত করব না। অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারলেই পর্যায়ক্রমিকভাবে এটা আমরা উন্মুক্ত করব। তার পরও আমি অনুরোধ করব, সবাই যেন ঘরে বসে পড়ালেখা করে। এটা পড়াশোনা করার বড় একটা সুযোগও। কারণ আমাদের নিজেদেরও তেমন কাজ নেই, তাই জানার পড়ার সুযোগ পাচ্ছি। এটাও কম কথা না।

এসএসসি সমমানের পরীক্ষায় যারা পাস করতে পারেনি তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা পাস করতে পারেনি, তাদের মন খারাপ করার কিছুই নেই। যে যে বিষয়ে তারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি সেগুলোয় ভালো করে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে পরীক্ষা দিয়ে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে। যারা পাস করেছে, তাদের তাদের অভিভাবক, শিক্ষকসহ পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানাই।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন