বৃহস্পতিবার | জুলাই ১৬, ২০২০ | ১ শ্রাবণ ১৪২৭

করোনা

এশিয়া-আফ্রিকায় সন্ত্রাসবাদ উসকে দিতে পারে কভিড-১৯

বণিক বার্তা ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাস বেশ কিছুদিন আগেই আফ্রিকা এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পৌঁছে গিয়েছে। এই মহামারী এখন জনস্বাস্থ্য অর্থনৈতিক কার্যক্রমের বাইরেও তার প্রভাব রাখতে শুরু করেছে। এই রোগটি গরিব দেশগুলোতে সবচেয়ে বড় ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনবে, যেখানে সন্ত্রাসবাদও বৃদ্ধি পাবে। 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এখন গবেষণা করছেন উন্নয়নশীল বিশ্ব এবং রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে। যেখানে সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণা বলছে, মহামারী সহিংসতার মাঝে একটি সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। প্রথমে দেখা যাবে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা। যেখানে পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক শারীরিক দুদিক থেকেই সমস্যার সৃষ্টি হবে। যা কিনা একটি জনগোষ্ঠীর মাঝে তৈরি করবে পুষ্টিহীনতা। যা একপর্যায়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীগুলোর মাঝে নিজেদের সরকারের প্রতি ক্রোধের উদ্রেকও ঘটাবে।

পাশাপাশি সময় জনগণের মাঝে নেতাদের নিয়ে তৈরি হবে অসন্তোষ। তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছবে যে হয় নেতারা জনগণের দুঃখের উপশমে অক্ষম অথবা অনিচ্ছুক। আর অসন্তুষ্টিই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর সামনে সুযোগ তৈরি করে দেবে। যার ফলে তারা নতুন সদস্য নিয়োগের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে। মূলত জনমনে তৈরি হওয়া হতাশাকেই পুঁজি করতে চাইবে সংগঠনগুলো। সময় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো সেসব কাজ করতে পারবে, যা কিনা সরকার করতে ব্যর্থ হয়েছে। যেমন বিপর্যস্ত মানুষকে অর্থ খাদ্য সরবরাহ করা।

মূলত যেকোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব অর্থনৈতিক সংঘাত পরিচালিত হয় খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার দিকে। বিশেষ করে শিশু বয়স্কদের মাঝে এটি সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়। ২০১৯ সালে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য এশিয়ার ৫৫টি দেশে খাদ্য সংকট দেখা গেছে। এখন নভেল করোনাভাইরাসের মহামারী ধনী রাষ্ট্রগুলোয়ও রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করবে। এসব সমস্যা এক পর্যায়ে আক্রান্ত করবে উন্নয়নশীল দেশগুলোকেও। যার ফলে দেশগুলো খাবার পাওয়া এবং শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে মারাত্মক সংকটের মুখে পড়বে।

আফ্রিকায় সংঘাত

মহামারীর আবির্ভাবের আগে আফ্রিকার দেশগুলো এমন সব সন্ত্রাসী সংগঠন দ্বারা বিপর্যস্ত থাকত যারা কিনা নিজ দেশের রাজনৈতিক সামাজিক পরিবর্তনের জন্য সহিংস পথ গ্রহণ করেছে। ধরনের সংগঠনের মাঝে বোকো হারামের নাম উল্লেখযোগ্য। যারা কিনা নাইজেরিয়ায় নিজেদের সহিংস কার্যক্রম পরিচালনা করে।

এসব সংঘাত মূলত দেখা যায় সেসব অঞ্চলে যেখানে সরকারগুলো খুব দুর্বল। যার ফলে সন্ত্রাসী সংগঠন তাদের নেতাদের ওপর নজরদারি রাখা এবং আটক করা সম্ভব হয় না। দুর্বল শাসনপদ্ধতি এবং দেশগুলোর মাঝে সীমান্তে বিধিনিষেধের কড়াকড়ির অভাবে সহিংসতা পার্শ্ববর্তী দেশেও পৌঁছে যায়। যা কিনা গোটা অঞ্চলকে এক ধরনের অস্থিরতার মাঝে ঠেলে দেয়। এমনকি মহামারী শুরু হওয়ার আগেই ধরনের আঞ্চলিক সংঘর্ষগুলো আফ্রিকার অনেক অংশে ডেকে আনে খাদ্য সংকট।

অন্যদিকে দেশগুলো লকডাউন করায় করোনাভাইরাসের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এর ফলে নাগরিক অর্থনৈতিক সমস্যার উদ্ভব ঘটবে, যা কিনা চালিত হবে সহিংসতার দিকে।

উদাহরণস্বরূপ নাইজেরিয়ার জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ স্বনির্ভর। যারা কিনা বর্তমান সময়ে এসে লকডাউনের কারণে নিজেদের রোজগারের পথ হারিয়েছে। যার ফলে তাদের কাছে পর্যাপ্ত খাবার নেই। সরকারও অভাবে থাকা মানুষের খাবার সরবরাহ করতে পারছে না।

খাদ্যাভাবের কারণে আবুজায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। লাগোসে সরকারের পক্ষ থেকে বিনা মূল্যে দেয়া খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বেশ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টিও হয়েছে। জনগণ এখন মহামারী মোকাবেলায় সরকারের নেয়া পদক্ষেপ নিয়ে বেশ হতাশ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খাদ্য সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ার কারণে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

বোকো হারামের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো মূলত নাইজেরিয়ায় ইসলামী রাষ্ট্র তৈরির ব্যাপারে নিবেদিত। তারা এখন নিজেদের সহিংসতার স্বপক্ষে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। যা নিঃসন্দেহে তাদের কর্মসূচিগুলোকেও আরো শক্তিশালী করবে। বোকো হারাম মূলত সেসব বেকার তরুণকে নিজেদের দলে যুক্ত করে যারা কিনা খাবারের অভাবে দারিদ্র্যের মাঝে বসবাস করে। তারা এখন নিজেদের সহিংস কার্যক্রম, অপহরণ বোমাবাজির কাজ পরিচালনার জন্য তরুণদের বড় একটি অংশকে নিজেদের দলে টানতে পারবে।

তারা লেক শাদ অঞ্চলের সহিংসতাকেও পুনরায় শুরু করতে পারবে। যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে তারা নাইজেরিয়ান মিলিটারির ওপর হামলা চালিয়ে ৪৭ জনকে হত্যা করেছে। এছাড়া শাদ অঞ্চলে সৈনিকদের ওপর হামলা চালিয়ে ৯২ জনকে হত্যা করে বোকো হারাম। যা কিনা শাদ মিলিটারির ওপর সবচেয়ে বড় হামলা হিসেবে বিবেচিত।

বর্তমান সময়ে এসে নাইজেরিয়া ধীরে ধীরে লকডাউন তুলে দিচ্ছে, বেকারত্বও বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। খাদ্যের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণেও মানুষকে হিমশিম খেতে হবে। অবশ্য কেবল নাইজেরিয়ায়ই নয়, অন্যান্য অঞ্চল বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত মোজাম্বিক মালিতেও ধরনের সহিংসতার দেখা মিলতে পারে।

এশিয়ায় সহিংসতা

এশিয়ায় মহামারীর আগে পাকিস্তান খাদ্য সংকটের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গিয়েছে। যেখানে ৬০ শতাংশ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে খরা এবং অর্থনৈতিক দারিদ্র্যের কারণে। এখন দেশটিতে ৪৮ হাজারের বেশি কভিড-১৯ পজিটিভ কেস রয়েছে। পাশাপাশি লকডাউন দেশটির দিনমজুর দোকানদারদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। ক্ষুধা এখন দেশটির সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয়। 

মানুষকে খাবার পৌঁছে দেয়ার কাজটি সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী করতে পারছে না। আরেকটি দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে দেশটির এক-তৃতীয়াংশ লোক অশিক্ষিত। যে কারণে তারা খাদ্যসহায়তার জন্য আবেদনও করতে পারছে না। উদ্বেগজনক পরিস্থিতি পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে দেবে। এরই মধ্যে পাকিস্তানি সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর--তৈয়বা এবং জইশ--মোহাম্মদ করোনায় বিপর্যস্ত মানুষকে নিজেদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। তারা অভাবী মানুষকে খাদ্য প্রয়োজনীয় সাহায্য দেয়ার বিপরীতে আস্থা অর্জন করছে। সংগঠন দুটির সন্ত্রাসবাদী ট্রেনিংয়েও এখন লোকবল বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলেও ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

স্ক্রলইন

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন