শনিবার | জুলাই ১১, ২০২০ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

আসন্ন নির্বাচনে ডোনাল্ডের ‘ট্রাম্প’ কার্ড করোনাকালের অর্থনীতি

বণিক বার্তা ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যর্থতার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। সাম্প্রতিক প্রায় সব জরিপই বলছে, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে হেরে যাবেন তিনি। তবে একটি জায়গায় মার্কিনিদের মন জয় করে নিয়েছেন ট্রাম্প। করোনার প্রভাবে বিপুল পরিমাণ মানুষ কর্মসংস্থান হারালেও এবং তাদের আর্থিক সংকট বাড়তে থাকলেও এসব জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বেশির ভাগই মনে করছেন, ট্রাম্পই সবচেয়ে ভালোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সামলাতে পারবেন। খবর ব্লুমবার্গ।

কিন্তু কী এমন বিষয়, যার কারণে রেকর্ড বেকারত্ব নেতিবাচক অর্থনৈতিক উপাত্ত থাকা সত্ত্বেও মার্কিনিরা ট্রাম্পকেই অর্থনীতির অভিভাবক হিসেবে শ্রেয়তর মনে করছেন? চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন ডেমোক্রেসি ফান্ড ইউসিএলএ নেশনস্কেপের সর্বশেষ একটি জরিপের ফলাফলে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

গত মার্চে নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ যত বেড়েছে, মার্কিন অর্থনীতি ততই পতনমুখী হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ না থাকায় সংকটে পড়েছে একের পর এক করপোরেট প্রতিষ্ঠান। তাদের ব্যয়সংকোচন নীতির কোপ গিয়ে পড়েছে কর্মসংস্থানে। ফলে চাকরি হারিয়েছে কোটি কোটি মার্কিনি। এতে মার্চের শেষ অব্দি ট্রাম্পকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার মতো মানুষ খুব একটা ছিল না।

মার্চের প্রতি সপ্তাহে ছয় হাজারের বেশি মানুষের ওপর জরিপ চালিয়েছে নেশনস্কেপ। অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন করা হয়েছিল, অর্থনীতি নিয়ে তারা কী মনে করছেন? এটি কি ভালো হওয়ার পথে রয়েছে, নাকি আরো খারাপ হবে, নাকি এক বছর আগে যা ছিল তেমনই থাকবে? সে সময় জরিপে অংশগ্রহণকারী ডেমোক্র্যাট দলনিরপেক্ষরা জানিয়েছিলেন, তারা অর্থনীতির গতিপথ নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন।

তাদের হতাশার প্রতিফলনও দেখা গিয়েছিল শেয়ারবাজারের রেকর্ড পতনের মাধ্যমে। এছাড়া একের পর এক অঙ্গরাজ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ঘরে বসে কাজ করার নির্দেশনা আসতে থাকায় অর্থনীতির স্থবিরতাই ফুটে উঠেছিল।

তবে রিপাবলিকানরা অর্থনীতি নিয়ে তাদের আশাবাদ ধরে রেখেছিলেন। বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখেছেন ডেমোক্রেসি ফান্ড ভোটার স্টাডি গ্রুপের রিসার্চ ডিরেক্টর রব গ্রিফিন। তিনি বলেন, দলীয় মতাদর্শভেদে বাস্তবতার ব্যাখ্যায়ও ভিন্নতা থাকতে পারে।

পরিস্থিতি এখন পাল্টেছে। মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে হতাশা ভাব এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এর পরই তা কমতে শুরু করে। এখন দলমত নির্বিশেষে সব গ্রুপের মানুষেরই অর্থনীতি নিয়ে আস্থা স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে। যদিও এখনো কর্মী ছাঁটাই হচ্ছে কিংবা তাদের সাময়িক ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে এবং ব্যাংকঋণে খেলাপির পরিমাণও বাড়ছে।

অর্থনীতি নিয়ে মানুষের আস্থা স্থিতিশীল থাকার কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন। অতি সাম্প্রতিক জরিপের গ্রাফগুলোর দিকে তাকালেও করোনাপূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতি ফিরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাবে। রিপাবলিকান পার্টির প্রতি মানুষের সমর্থন আবার বাড়ছে। অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক পার্টি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতি মার্কিনিদের আস্থা ফের কমতে শুরু করেছে।

করোনাকালে অর্থনীতির পতন ঠেকানোকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণে অর্থনীতি দেখভালের জন্য তাকেই উপযুক্ত মনে করছেন মার্কিনিরা। তবে করোনা মোকাবেলায় তার অন্যান্য ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা রয়েছে।

রব গ্রিফিন বলেন, আপনি যখন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মানুষকে প্রশ্ন করবেন, অর্থনীতি সামাল দেয়ায় সবচেয়ে উপযুক্ত কে? এর উত্তরে রিপাবলিকানরা যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে। যেমনটি ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে থাকবে স্বাস্থ্যসেবা খাতে।

এখন অর্থনীতির ভেলকি দেখিয়ে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হতে পারেন, নাকি মহামারীতে ব্যাপক প্রাণহানির দায়ভার তার ওপর চাপিয়ে মার্কিনিরা তাকে ছুড়ে ফেলে দেয়, তা- দেখার বিষয়। 

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন