শুক্রবার | জুলাই ১০, ২০২০ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

প্রথম পাতা

আগামীকাল চালু হচ্ছে পুঁজিবাজার

উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি রয়েছে শঙ্কাও

নিজস্ব প্রতিবেদক

কভিড-১৯-এর প্রভাবে বিশ্বে হাতেগোনা যে কয়েকটি দেশে পুঁজিবাজার বন্ধ ছিল তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ৬৫ দিন বন্ধ থাকার পর আগামীকাল রোববার থেকে ফের শুরু হচ্ছে পুঁজিবাজারে লেনদেন। দুই মাসেরও বেশি সময় পর লেনদেন চালু হওয়া নিয়ে স্টেকহোল্ডার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যেমন উচ্ছ্বাস রয়েছে, তেমনি কভিড-১৯-এর সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া নিয়ে বিরাজ করছে শঙ্কাও।

পুঁজিবাজার চালু হলে বিও হিসাবে জমা থাকা নগদ অর্থ দিয়ে নতুন করে শেয়ার কিনতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। আবার জরুরি প্রয়োজন মেটাতে অর্থ উত্তোলন করতেও পারবেন, যা কভিড-১৯-এর এই সময়ে অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর জীবন-জীবিকার জন্য সহায়ক হবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই লেনদেন শুরুর সিদ্ধান্তের কারণে তাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস কাজ করছে।

ছাত্র অবস্থা থেকেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে আসছেন আশরাফ সানি। ২০১০ সালে বাজার ধসে ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছেন। তার পরও কষ্টার্জিত আয়ের একটি অংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছেন বর্তমানে সৌদি আরব প্রবাসী এই বিনিয়োগকারী। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে প্রবাসে আয় কমে যাওয়ায় ঈদের সময়ে শেয়ার বিক্রি করে পরিবারকে অর্থ দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২৬ মার্চ থেকে পুঁজিবাজার বন্ধ থাকায় শেয়ারও বিক্রি করতে পারেননি।

আশরাফ সানি বণিক বার্তাকে জানান, কভিড-১৯-এর কারণে প্রবাসীদের আয় অনেক কমে গেছে। অবস্থায় শেয়ার বিক্রি করে পরিবারকে কিছু টাকা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুঁজিবাজার বন্ধ থাকায় সেটি সম্ভব হয়নি। তাই পুঁজিবাজার চালুর পর পোর্টফোলিওতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে পরিবারকে কিছু টাকা দেব। আবার একই সঙ্গে কম দামে ভালো শেয়ার পেলে সেটি কেনার চেষ্টাও করব।

শেয়ার কেনাবেচা থেকে পাওয়া কমিশনই ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আয়ের প্রধান উৎস। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজার বন্ধ থাকায় সময়ে কোনো আয় হয়নি আড়াইশ ব্রোকারেজ হাউজের। যদিও কর্মীদের বেতন-ভাতাসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য খাতে ব্যয় করতে হয়েছে। তাই পুঁজিবাজার চালুর খবরে ব্রোকারেজ হাউজসংশ্লিষ্টদের মধ্যে এক ধরনের উচ্ছ্বাস কাজ করছে। কারণ বাজার চালু থাকলে কিছু না কিছু আয় তো হবেই। আবার অন্যদিকে কভিড-১৯-এর সংক্রমণ ক্রমেই বাড়তে থাকায় নিজেদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাও কাজ করছে তাদের মধ্যে। তবে শঙ্কা থাকলেও জীবন-জীবিকার তাগিদে ঘরে বসে থাকার আর সুযোগ নেই বলে জানান ব্রোকারেজ হাউজসংশ্লিষ্টরা।

ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মো. শাকিল রিজভী বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা যারা নিয়মিত কাজের মধ্যে থাকি তাদের জন্য এই দীর্ঘ সময় অলস বসে থাকাটা কষ্টকর। তাই স্বাভাবিকভাবেই পুঁজিবাজার চালুর খবরে আমার মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করছে। আবার অন্যদিকে কভিড-১৯ পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটি নিয়ে শঙ্কাও রয়েছে। তবে তার পরও পুঁজিবাজার চালু থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। লেনদেন চালুর পর প্রথম কয়েকদিন সব শ্রেণীর বিনিয়োগকারীই তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক ডিসক্লোজারসহ মূল্যসংবেদনশীল তথ্যগুলো পর্যবেক্ষণ করবেন। তাছাড়া বাজারের গতিপ্রকৃতির দিকে সবার নজর থাকবে। তাই শুরুর দিকে লেনদেনের পরিমাণ কম হলেও ধীরে ধীরে সেটি বাড়বে বলে মনে করছেন তিনি।

সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে কভিড-১৯-এর বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রণীত সামাজিক দূরত্ব স্বাস্থ্যবিধিসংক্রান্ত অফিস আদেশ পরিপালন সাপেক্ষে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন সেটেলমেন্টসহ -সংক্রান্ত সব কর্মকাণ্ড পুনরায় শুরু করার বিষয়ে অনাপত্তি দেয়া হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, সব ধরনের সুরক্ষা নিশ্চিত করে রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত লেনদেন কার্যক্রম, ক্লিয়ারিং হাউজের কার্যক্রমসহ সব ধরনের দাপ্তরিক কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দেয় দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ।

পাশাপাশি এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে সব ব্রোকারেজ হাউজকে কভিড-১৯- সতর্কতার জন্য হ্যান্ড শেক আলিঙ্গন না করা, পরিমিত দূরত্ব বজায় রাখা, যেসব কর্মকর্তা, কর্মচারী গ্রাহকের হাঁচি, কাশি কিংবা সন্দেহজনক লক্ষণ রয়েছে তাদের শনাক্তকরণ, অফিস প্রাঙ্গণে প্রবেশের জন্য প্রতিবার হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা, ব্রোকারেজ হাউজে কর্মচারী এবং গ্রাহকদের মাস্ক সরবরাহ করা, দর্শনার্থীদের অফিসে প্রবেশ নিরুৎসাহিতকরণ, কর্মীদের শিফটিং ব্যবস্থা করা এবং অফিসে মুখোমুখি বৈঠক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ২৬ মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল। এরপর দ্বিতীয় দফায় ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। ছুটি তৃতীয় দফায় বাড়ে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর চতুর্থ দফায় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। তারপর পঞ্চম দফায় মে পর্যন্ত ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয় ১৫ মে পর্যন্ত। সর্বশেষ ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়ায় সরকার। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে সংগতি রেখে ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন সেটেলমেন্ট কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন