বুধবার | জুলাই ১৫, ২০২০ | ৩১ আষাঢ় ১৪২৭

প্রথম পাতা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা

সংক্রমিত চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন ১০ দিনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

চিকিৎসকরা কভিড-১৯ পজিটিভ হলে তাদের উপসর্গ শুরুর ১০ দিন পর কাজে যোগ দেয়ার একটি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ক্লিনিক বিভাগের পরিচালক ডা. মো. আমিনুল হাসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় কথা উল্লেখ করা হয়। নির্দেশনাটি এরই মধ্যে দেশের সব মেডিকেল কলেজ বিশেষায়িত হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, কভিড-১৯ ব্যবস্থাপনার জন্য জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশক্রমে এসব নির্দেশনা দেয়া হলো। নির্দেশনায় নির্দিষ্ট নিয়ম পরিপালনের ভিত্তিতে চিকিৎসকদের ছয়টি করে এন-৯৫ মাস্ক দুই মাস ব্যবহার করার জন্য বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, সেবাদাতাদের করোনা পজিটিভ হলে উপসর্গ দেখা দেয়ার শুরুর ১০ দিন পর চিকিৎসকরা কাজে যোগদান করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে কমপক্ষে তিনদিন জ্বরমুক্ত থাকার পাশাপাশি শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গগুলোর পর্যাপ্ত উন্নতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। আর সংক্রমিত যেসব সেবাদাতার করোনার উপসর্গ দেখা দেয়নি, তারা কভিড-১৯ টেস্টে পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হওয়ার ১০ দিন পর কাজে যোগদান করতে পারবেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দেশে চিকিৎসকসহ সেবাদাতার সংখ্যা চাহিদার তুলনায় কম। আবার রোস্টার করে তাদের দিয়ে দায়িত্ব পালন করাতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের প্রাপ্যতা আরো কমে গিয়েছে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিন পিরিয়ড সংক্ষিপ্ত না হলে সেবাদাতার সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব হচ্ছে না। সেজন্য টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশক্রমে ধরনের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সংকট মোকাবেলায় আরো নতুন নতুন চিকিৎসক সেবাদানকারী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে উপসর্গ দেখা দেয়ার ১০ দিন পর কাজে যোগ দেয়ার নির্দেশনাটিতে আপত্তি তুলেছেন চিকিৎসকরা। তারা বলেছেন, কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হলে সব সময় লক্ষণ প্রকাশ পাবে এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রেই আক্রান্ত ব্যক্তির কোনো লক্ষণ থাকে না। যদিও তিনি অন্যকে সংক্রমিত করতে পারেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, সেবাদান শেষে করোনা টেস্ট করে ফলাফল নেতিবাচক এলে আর আইসোলেশনে বা হোটেলে থাকতে হবে না, বিষয়টি তা নয়। অনেক সময়ই টেস্টের ফলাফল ভুল আসে। সারা পৃথিবীতেই কভিড-১৯ পরীক্ষায় ভুল রিপোর্ট আসার নজির আছে। বাংলাদেশেও ১০০টি রিপোর্টের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ জনের পজিটিভ আসে। আবার অনেকের রোগ থাকা সত্ত্বেও নেগেটিভ আসে। সেজন্য দেখা যায় তিন-চারবার পরীক্ষা করে কভিড সংক্রমণ নেগেটিভ এসেছে, কিন্তু মৃত্যুর পর পরীক্ষায় তা পজিটিভ প্রমাণ হচ্ছে।

বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত মিডিয়া সেলের ফোকাল পয়েন্ট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান বণিক বার্তাকে বলেন, জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশ মেনে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদি এসব নির্দেশনায় চিকিৎসকদের আপত্তি থাকে, তবে সেসব বিষয় অবশ্যই বিবেচনায় নেয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন