মঙ্গলবার | জুলাই ১৪, ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

শেষ পাতা

এডিবির প্রতিবেদন

চাকরিদাতাদের নিয়োগ চাহিদা কমেছে ৮৭%

সাইদ শাহীন

নতুন কর্মীর চাহিদা দিয়ে অনলাইন পোর্টালে গত বছর ৬৩ হাজারের বেশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছিল বাংলাদেশে। কিন্তু কভিড-১৯-এর কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দায় বছর অস্বাভাবিক সংকুচিত হয়ে পড়েছে চাকরির বাজার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের এক প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের এপ্রিলে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৭ শতাংশ কম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন চাকরিদাতারা।

কভিড-১৯ ইমপ্যাক্ট অন জব পোস্টিংস: রিয়েল-টাইম অ্যাসেসমেন্ট ইউজিং বাংলাদেশ অ্যান্ড শ্রীলংকা অনলাইন জব পোর্টালস শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে। কভিড-১৯-এর কারণে বাংলাদেশ শ্রীলংকায় চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কী হারে হ্রাস পেয়েছে সেটি দেখাতেই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেশের প্রধান চারটি পোর্টাল বিডিজবস ডটকম, চাকরি ডটকম, জব ডটকম বিডি এবং অলজবস ডটকমের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশে চলতি বছরের এপ্রিলে যে সংখ্যক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় সেটি আগের ২০১৯ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাত্র ১৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অনলাইন পোর্টালে চাকরির বিজ্ঞপ্তি কমেছে প্রায় ৮৭ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে শ্রীলংকায় বিজ্ঞপ্তি কমেছে ৭০ শতাংশ।

করোনা সংকটের মধ্যে দুদেশে প্রায় সব ধরনের শিল্পেই নতুন কর্মীর চাহিদা হ্রাস পেয়েছে, যে কারণে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও কমেছে। তবে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চাহিদা হ্রাস পেয়েছে টেক্সটাইল শিল্পে, অন্যদিকে শ্রীলংকায় পর্যটন আতিথেয়তা শিল্পে।

গত বছরের সঙ্গে চলতি বছরের চাকরির বাজারের তুলনা করার ক্ষেত্রে স্ট্রিংজেন্সি সূচক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। স্ট্রিংজেন্সি সূচকটি মূলত নয়টি কম্পোনেন্টকে বিবেচনা করে তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল বন্ধকরণ, কর্মক্ষেত্রে কার্যক্রম বন্ধ করা, ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশি জব পোস্টিং হয়েছে টেক্সটাইল খাতে, যা মোট পোস্টিংয়ের প্রায় ১৫ শতাংশ। এছাড়া বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর প্রায় ১৫ শতাংশ। অন্যদিকে ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন খাতের ১৩ শতাংশ, তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি খাতের প্রায় শতাংশ পোস্টিং হয়। ২০১৯ সালে যেসব খাতে চাকরির পোস্টিং করা হয়েছিল তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল টেক্সটাইল খাতে হাজার ৫০০টি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় হাজার ৪৪৪ এবং উৎপাদন খাতে হাজার ৪৩৮, তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে হাজার ৮০৪, সরকারি চাকরি হাজার ৮৪৩টি এবং শিক্ষা খাতে হাজার ৫৭৩টি। এছাড়া পাইকারি খুচরা বিক্রয় খাতে হাজার ৯৫৭টি, নির্মাণ খাতে হাজার ৭৩৪, আবাসন খাতে হাজার ৭০৩, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে হাজার ৬৭৬, যোগাযোগ খাতে হাজার ৬৩৫, স্বাস্থ্য খাতে হাজার ৬০৩, থাকা খাবার খাতে হাজার ১২৩  এবং অন্যান্য খাতে ১১ হাজার ৫৩সব মিলিয়ে ৬৩ হাজার ৮৬টি চাকরির পোস্টিং ছিল।

বাংলাদেশের শ্রম জরিপ ২০১৭-এর তথ্যমতে, দেশে বেকারত্বের হার দশমিক শতাংশ। বাংলাদেশ ২০১৯ সালে এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। সে অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল দশমিক শতাংশ। গত বছরে অনলাইন চাকরির পোর্টালগুলোতে প্রকাশ হওয়া চাকরি বিজ্ঞপ্তির প্র্রায় লাখ ভিজিটর ছিল। এছাড়া গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ মানুষ পোর্টালে প্রবেশ করত।

২০১৯ সালের এপ্রিলের তুলনায় চলতি ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে চাকরির পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে শিল্পভিত্তিক পার্থক্য দেখানো হয়েছে এডিবির প্রতিবেদনে। সময়ে টেক্সটাইল শিক্ষা খাতে ৯৫ শতাংশ, উৎপাদন শিল্পে ৯২ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে ৮২ শতাংশ আইসিটিতে ৮১ শতাংশ কমেছে পোস্টিং। এছাড়া বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরির পোস্টিং কমেছে ৬৪ শতাংশ।

এডিবির প্রতিবেদনে বিভিন্ন শিল্প চাকরির চাহিদা কমার কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। টেক্সটাইল খাতে পোস্টিং কমার জন্য মূলত রফতানি বন্ধ থাকাকে দায়ী করা হয়েছে। খাতটি রফতানিনির্ভর হওয়ার কারণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ইউরোপ আমেরিকার মতো মূল রফতানি বাজারগুলোয় কভিড-১৯-এর সংক্রমণ বেশি হওয়ায় এসব বাজারে দেশের পোশাক রফতানি অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে। ফলে লোকবলের চাহিদাও কমে গেছে। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ রাখা হয়েছে। সামনের দিনেও তা বন্ধ থাকতে পারে। ফলে সেখানেও নিয়োগ চাহিদা বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। যেসব প্রতিষ্ঠান স্বল্প পরিসরে কার্যক্রম চালু রেখেছে তারা নিয়মিত কর্মীদের দিয়েই কাজ চালিয়ে নিচ্ছে।

দেশে মূলত মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে চাকরির পোস্টিংয়ের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। কভিড-১৯ ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পর কমতে শুরু করে চাকরির পোস্টিং। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারি মাসে নতুন কর্মীর চাহিদা প্রায় একই রকম ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ এবং মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ১০-১৭ শতাংশ পার্থক্য ছিল।  তবে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে এটি পতন শুরু করে। ডিসেম্বরের তুলনায় পোস্টিংয়ের সংখ্যা কমে প্রায় ৪১ শতাংশ। এই সময়ে আগের মাসের মাত্র ৫৯ শতাংশ পোস্টিং হয়। এছাড়া মার্চের চতুর্থ সপ্তাহে সেটি ২৪ শতাংশে নেমে আসে। অর্থাৎ তৃতীয় সপ্তাহে সেটা কমে যায় প্রায় ৭৬ শতাংশ। আবার সারা মাসের হিসেবে গত বছরের মার্চের তুলনায় চলতি বছরের মার্চে চাকরির পোস্টিং কম ছিল ৩৫ শতাংশ। এছাড়া গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় চলতি বছরের এপ্রিলে পোস্টিং কমেছে ৮৭ শতাংশ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন