বুধবার | জুলাই ১৫, ২০২০ | ৩১ আষাঢ় ১৪২৭

খবর

আম্পানের ক্ষয়ক্ষতিতে দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীকে প্রিন্স চার্লসের চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে ক্ষয়ক্ষতিতে দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রিন্স চার্লস। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইহসানুল করিম জানান, চার্লস, প্রিন্স অব ওয়েলস এবং তার স্ত্রী ডাচেস অব কর্নওয়াল ক্যামিলিয়া সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন।

প্রিন্স অব ওয়েলস চিঠিতে লিখেছেন, প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বাংলাদেশে মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতিতে আমি এবং আমার স্ত্রী যে কী পরিমাণ দুঃখ পেয়েছি, তা আপনাকে জানাতে চাই। যারা হতাহত হয়েছেন বা ঘূর্ণিঝড়ে যাদের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে তাদের জন্য আমার ক্যামিলিয়ার হূদয় ভেঙে গেছে।

চিঠিতে চার্লস আরো বলেন, আমরা বুঝতে পারি এটা আপনার জনগণের কাছে কতটা ভয়ানক কঠিন ছিল। কেননা এই সময় তারা একটি আনন্দঘন ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

চার্লস যোগ করেন, আমাদের সমবেদনা এবং বিশেষ প্রার্থনা আপনার জন্য। কভিড-১৯ মহামারী এবং এই ভয়াবহ তীব্র ঝড়ের ক্ষতি, উভয়ের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে এমন উদ্বেগের সময়ে আপনি জনগণের সঙ্গে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, সুপার সাইক্লোন আম্পান ২০ মে বিকালে ভারত বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রথম আঘাত হানে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আগে আঘাত হেনে ঘূর্ণিঝড়টি অনেকটা দুর্বল হয়ে বাংলাদেশের স্থলভাগ অতিক্রম করায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা এড়ানো গেছে। তার পরও বিভিন্ন জেলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে পটুয়াখালীতে দুজন, যশোরে তিনজন, চুয়াডাঙ্গায় দুজন এবং ভোলা, পিরোজপুর সাতক্ষীরায় একজন করে প্রাণ হারান।

দেশের দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৪৬টি জেলার প্রায় লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর জমির ২০ ধরনের ফসল নানা মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে মৌসুমি ফল, সয়াবিন, বোরো ধান, মুগ ডাল গ্রীষ্মকালীন সবজি।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে ৪৭ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান, হাজার ২৮৪ হেক্টর ভুট্টা, ৩৪ হাজার ১৩৯ হেক্টর পাট, হাজার ৩৩৩ হেক্টর পান, ৪১ হাজার ৯৬৭ হেক্টর সবজি, হাজার ৫৭৫ হেক্টর চীনা বাদাম, ১১ হাজার ৫০২ হেক্টর তিল, হাজার ৩৮৪ হেক্টর আম, ৪৭৩ হেক্টর লিচু, হাজার ৬০৪ হেক্টর কলা, হাজার ২৯৭ হেক্টর পেঁপে, হাজার ৩০৬ হেক্টর মরিচ, ৬৪০ হেক্টর সয়াবিন, হাজার ৯৭৩ হেক্টর মুগ ডাল এবং হাজার ৫২৮ হেক্টর জমির আউশ ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় কৃষিমন্ত্রী . মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানেই সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে বিষয়টি এমন নয়। কোথাও কোথাও আক্রান্ত ফসল থেকে কিছু উদ্ধার করা সম্ভব হবে। সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায় ঝরে পড়া আমগুলো ত্রাণ হিসেবে দুস্থ জনগণের মাঝে বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া লিচু, কলা, সবজি, তিল অল্প কিছু বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বীজ, সার উপকরণ দিয়ে সহায়তা করবে কৃষি মন্ত্রণালয়। তাছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ভর্তুকি কার্যক্রম থেকেও কৃষকদের সহায়তা দেয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন