মঙ্গলবার | জুলাই ১৪, ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

টেলিকম ও প্রযুক্তি

অবৈধভাবে অবস্থানগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে গুগলের বিরুদ্ধে মামলা

বণিক বার্তা ডেস্ক

বৈশ্বিক সার্চ জায়ান্ট গুগলের বিরুদ্ধে তাদের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ বেশ পুরনো। অভিযোগ রয়েছে নিজেদের সেবা ব্যবহারকারীর সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি। এবার বিভ্রান্তিকর অবৈধভাবে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর অবস্থানগত তথ্য বা লোকেশন ডাটা সংগ্রহের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ভোক্তা জালিয়াতির মামলা হয়েছে। খবর রয়টার্স।

বিবৃতিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মার্ক ব্রনোভিচ বলেন, বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য বিভিন্ন সেবা ব্যবহারকারীর অবস্থানসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে গুগল, যা প্রতিষ্ঠানটির সেবা ব্যবহারকারীর অজান্তে সম্পন্ন হয়। ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহারবিষয়ক নীতিমালা এবং ব্যবসার স্বার্থে ব্যবহারের অনুশীলন নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। বিষয়টি নিয়ে এবার নতুন একটি মামলার মুখে পড়ল সার্চ জায়ান্ট গুগল।

এক সাক্ষাত্কারে মার্ক ব্রনোভিচ বলেন, গোপনীয়তা রক্ষায় ডিভাইসের লোকেশন ডাটা ফিচার বন্ধ রাখলেও কৌশলে অবস্থানগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গোপনে অবস্থানগত তথ্য সংগ্রহের কৌশল হলো ডার্ক প্যাটার্ন এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে ভুল পথে চালিত করে তাদের তথ্যে নিয়ন্ত্রণ রাখছে গুগল। এর আগেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছিল। গুগলের পক্ষ থেকে অবস্থানগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ স্বীকারও করে নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, এসব তথ্য বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার কিংবা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয় না। ২০১৮ সালে বিপুলসংখ্যক অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহারকারীর অবস্থানগত তথ্য সংগ্রহের চর্চা থেকে বেরিয়ে আসার পদপেক্ষ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

গুগলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং মামলায় জিতলে পারিশ্রমিক পাবেন এমন আইনজীবীরা মিলে যে মামলা দায়ের করেছেন, তা আমাদের সেবার তথ্য নিরাপত্তা বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। আমরা সব সময় আমাদের সেবা পণ্যে গোপনীয়তা বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছি। আমাদের প্রত্যেকটি সেবায় গোপনীয়তাবিষয়ক ফিচার রাখা হয়েছে এবং অবস্থানগত তথ্যের ক্ষেত্রে সেবা ব্যবহারকারীর হাতে বিস্তৃত নিয়ন্ত্রণ দেয়া আছে।

গত ফেব্রুয়ারিতেও গুগলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলেন নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল হেক্টর বালডেরাস। ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই গুগলের শিক্ষামূলক সফটওয়্যার শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যে, গুগলের ধরনের চর্চা বেশ ভয়ানক। কারণ ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় যে কোনো সতর্কতা অবলম্বন করলেও ডিভাইস ইন্টারনেটে যুক্ত করলে অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার অবস্থানগত তথ্য নিরবচ্ছিন্নভাবে গুগলের সার্ভারে পাঠাতে থাকে। এটি এমন এক ফিচার, যা ব্যবহারকারীকে না জানিয়ে অবস্থানগত তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারী চাইলেও কার্যক্রম থেকে রেহাই পাবেন না। কারণ লোকেশন ট্র্যাকিং ফিচার বন্ধ রাখলেও তাদের অবস্থানের তথ্য গুগলের কাছে চলে যাবে। অবস্থান পরিচয়সংক্রান্ত ডাটার ব্যবহার বা অপব্যবহার দুটোই হতে পারে বলে মত দিয়েছেন তারা।

এর আগে গুগলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, লোকেশন হিস্ট্রি ফিচার একটি গুগল পণ্য, যা পুরোপুরি ব্যবহারকারীর পছন্দের ওপর নির্ভর করে। ব্যবহারকারীর হাতে ফিচারটির সেটিংস বদলানো, তথ্য মুছে ফেলা বা যেকোনো সময় বন্ধ রাখার সুযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের এমন কার্যক্রম নতুন নয়। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। ২০১৬ সালে অ্যাকুওয়েদার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অবস্থানগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া মার্কিন অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সি সেবাদাতা উবারের বিরুদ্ধে তাদের অ্যাপ বন্ধ থাকলেও ব্যবহারকারীর অবস্থানগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে।

ডাটা গবেষকদের সতর্কতা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক প্রযুক্তি কোম্পানি ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে ফেসবুক বা গুগলের মতো কোনো প্রতিষ্ঠানের অবস্থানগত তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি উদ্বেগজনক। এসব তথ্য দিয়ে কী করা হয়, তা এখনো অস্পষ্ট। বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য এসব ডাটার ব্যবহার ভিন্ন বিষয়। তবে হ্যাকারদের হাতে এসব তথ্য গেলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

জানা যায়, ম্যাপিং সেবা সরবরাহের পাশাপাশি আবহাওয়া, অঞ্চল অনুযায়ী বা বিভিন্ন দেশে স্থানীয় সংবাদ পরিবেশন, অনলাইন শপিং সেবা এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি ফিচার উন্নয়নে গ্রাহকদের অবস্থানগত তথ্য ব্যবহার করা হয়। ডাটা গবেষকদের দাবি, ব্যবহারকারীদের অবস্থানবিষয়ক তথ্যগুলো এনক্রিপ্ট করা হলেও স্পাইওয়্যার দ্বারা ডিভাইস আক্রান্ত হলে এসব তথ্য তৃতীয় পক্ষের হাতে যেতে পারে। এতে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা হ্যাকিংয়ের শিকার হতে পারেন। আপাতত সমস্যার কোনো সমাধান নেই অ্যান্ড্রয়েড কর্তৃপক্ষের কাছে। তবে গুগল অ্যান্ড্রয়েড বিভাগকে ধরনের সমস্যা সমাধানে চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

 

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন