শনিবার | জুলাই ১১, ২০২০ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

দেশের খবর

ঈদগাহে ‘বেলুন ওড়ানো নিয়ে’ দুগ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ, নিহত ১

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, বাগেরহাট

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ঈদগাহে বেলুন ওড়ানোর তুচ্ছ ঘটনা থেকে ঈদের দিন থেকে দুই গ্রুপে কয়েক দফায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে গ্রুপ দুটি। এতে বাদশা সরদার (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এতে উভয়পক্ষের আহত হয়েছেন আরো অন্তত ২০ জন। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার (২৭ মে) বিকেলে মোল্লাহাটে উপজেলার গাংনি রহমত পাড়া এলাকায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সন্ধায় বাদশা সরদার মারা যান। নিহত বাদশা সরদার গাংনি রহমত পাড়া এলাকার সালেক সরদারের ছেলে।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন, ইসমাইল খান (১৮), হাবিব মল্লিক (২০), আলমগীর সরদার (৫০), বাচ্চু মল্লিক (৩৫), আলমগীর শেখ (৪০), ওয়াহিদ সরদার (৫৫), সাইফুল ইসলাম (১৫), আব্দুল্লাহ শিকদার (২৬), রমজান (২৫), রিয়াজ মোল্লা (২০), সবেদ আলী (৩৫), আবেদ আলী (৩৮), রনি হাসান (৩৯),  মিঠু শেখ (৪০) ও তার স্ত্রী, ছেলেও আহত হয়েছেন।  আহতদের মোল্লাহাট ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
 
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ঈদের দিন সকালে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জসীম নামক এক যুবক আরো কয়েকজনের সঙ্গে গ্যাসে ভরা বেলুন ওড়ান। এসময় আরো কয়েকজন জড়ো হন। এসময় জসীম ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকটি ছেলেকে মারধর করে। পরে এই খবর পেয়ে জাকির গ্রুপের লোকজন এসে জসীমকে মারধর করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনার জেরে পরদিন শহীদুল গ্রুপের লোকজন পাল্টা জাকির গ্রুপের মিজানুর রহমান নামে একজনকে মারধর করলে তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে এলাকায় উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বুধবার বিকেলে জাকির গ্রুপের বাদশা সরদার বাজার করে ফেরার পথে হামলার শিকার হন। এখবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাল-সুরকিসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

নিহত বাদশা সরদারের বড়ভাই ফিরাঙ্গী সরদার বলেন, বাদশা সরদার বাজার করে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় মিঠু শেখ এর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি অস্ত্রধারী দল তার ওপর হামলা চালায়। তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী গোলাম কবির বলেন, স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বাদশা সরদার নামের একজন নিহত হয়েছেন। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ফের সংর্ঘষের আশঙ্কায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন