মঙ্গলবার | জুলাই ১৪, ২০২০ | ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

সম্পাদকীয়

সানবিমসের একজন সদস্য করায় আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ

উমামা জিল্লুর

প্রিয় নিলুফার মঞ্জুর,

মানুষ গড়ার কারিগর। যে ধরনের জনগোষ্ঠী আপনি তৈরি করেছেন এবং যে ধরনের নেতা আপনি ছিলেন তাতে সত্যিই বিশেষ কিছু আছে, যার জন্য হৃদয়ের অতল গহীন থেকে কয়েক প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা আপনাকে ভালোবাসা জ্ঞাপন করছে এবং আপনার সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত মিথস্ক্রিয়ার রোমন্থন করছে। যারা মিসেস মঞ্জুরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তাদের প্রত্যেককেই ধন্যবাদ। আপনাদের কথামালা আমাকে সাহায্য করেছে, যখন আমার কোনো নিজস্ব ভাষা ছিল না, আমি যখন ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম। 

অনবদ্য নেতৃত্বে আপনি কতটা আমার ওপর প্রভাব ফেলেছেন, সত্যিই তা আমি পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারিনি। আপনি সবসময়ই সংখ্যার বাইরে গুণকে মূল্য দিয়েছেন। মূলবোধসম্পন্ন একটি জনগোষ্ঠি তৈরি করেছেন, যারা আপনার শেখানো মূল্যবোধ আঁকড়ে ধরে এগিয়ে গেছে। আমি লক্ষ্য করেছি, কত শক্তিশালীভাবে সেসব মূল্যবোধকে আমার কাজের সব ক্ষেত্রে অগোচরে ধারণ করেছি। আপনার সঙ্গে আমার বিভিন্ন কথোপকথনের গুরুত্ব প্রতিনিয়ত অর্থবহ করে তুলছি। একজন পরামর্শদাতা ও অভিভাবক হিসেবে আপনি ছিলেন অনন্য, আপনার প্রতি অপরিসীম কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনি সবসময়ই এতটা সহজ, এতটা নাগালের মধ্যে ছিলেন যে কখনো আলাদাভাবে আপনার কাছে যাওয়ার কোনো তাড়া অনুভব করিনি। আমি বিশ্বাস করি আপনার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। 

গ্র্যাজুয়েশনের পর থেকে আমি অনেক অনেক বার সানবিমসের হলে ফিরে এসেছি। যে ধরনের কমিউনিটি আপনি বিনির্মাণ করেছেন- সেটি বরাবরই আমাকে টেনে নিয়ে গেছে। সে সময়ে ‘কথা’ নিয়ে আমার ছোট-বড় অনেক স্বপ্ন ছিল, ঠিক আপনার মতো। সবসময় চাইতাম এবং এখনো চাই, আমি যদি সানবিমস পরিবারের অংশ হতে পারতাম বা পাশে থাকতে পারতাম, তবে শুরু থেকে আমি আপনার কাছ থেকে যে সমর্থন পেয়েছি, তা ছিল প্রত্যাশার বাইরে। আমি মাউন্ট হলিইয়ক কলেজ লাইব্রেরিতে কাজ করার সময় আপনাকে একটি ইমেইল পাঠিয়েছিলাম। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমি সবসময়ই আপনার উষ্ণতা অনুভব করেছি। আমি আপনার কাছে চির কৃতজ্ঞ। 

আপনি সানবিমসের গেইটে ‘কথা’র কার্যক্রম উন্মোচনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন এবং আমাকে বিশ্বাস করেছিলেন এবং সাহস জুগিয়েছিলেন। আমি তখন ছোট একটি পাইলট প্রজেক্ট চালু করেছিলাম। স্কুলে থাকার দিনগুলোতে আপনি আমাকে অনেকবার অফিসে ডেকে পাঠিয়েছেন, মাঝে-মধ্যে কোনো সমস্যায় পড়ে, আবার মাঝে-সাঝে ছোট কোনো কাজ সমাধানের জন্য। 

আমি যখন আপনার সঙ্গে শেষবার দেখা করি, তখন আমরা ‘কথা’ নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আমার মনে পড়ে আপনি উল্লেখ করেছিলেন, আমার যা পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন তা দিতে আপনি প্রস্তুত। এমনকি স্কুল সময়ের পর কথার ক্লাস চালিয়ে নিতে চাইলে আপনি বিশেষ বাস সেবা দেয়ার কথাও বলেছিলেন। আমার মধ্যে আপনার জাগিয়ে তোলা আস্থা থেকে আমি প্রভূত শক্তি-উদ্দীপনা পেয়েছি। আপনি যে জনগোষ্ঠি-প্রজন্ম তৈরি করেছেন, কথার সঙ্গে আমার যাত্রা এবং তার বাইরেও তারা অপরিহার্য ভূমিকা রাখছে। 

কয়েক বছরে আমি এই প্রতিষ্ঠান এবং এর কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ একজন হয়েছি। দ্বিতীয় বাড়ি ও দ্বিতীয় পরিবারের মতো কেউ যখন কোনো কিছু অনুভব করে তখন সে এর মান উন্নীত করা, সেটিকে জবাবদিহিমূলক করা এবং সবসময় আরো ভালো করার দায় অনুভব করে। সানবিমসের ক্ষেত্রেও আমি তাই অনুভব করি। সানবিমস পরিবার সবসময়ই আমার হৃদয়ের কাছাকাছি থাকবে। আপনি মূলবোধসম্পন্ন যে কমিউনিটি সৃষ্টি করেছেন, তার একজন সদস্য করায় আমি আপনার কাছে চির কৃতজ্ঞ।

সানবিমস আমার কাছে স্বস্তিদায়ক ও শান্তিপ্রদায়ী এতটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিকে ৮ বছর আগে যেমনটা অনুভব করতাম এখনো তাই-ই করি। আপনার চলে যাওয়ার সংবাদটি তাৎক্ষণিকভাবে আমাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করেছে বটে। ভেবেছি, সানবিমস মনে হয় আর আগের মতো হবে না। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিকে আপনার আদর্শ আঁকড়ে ধরে চলা ছাড়া ভিন্ন পথ তো নেই। 

সাতটি প্রধান মূল্যবোধের ভিত্তিতে (জ্ঞান, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম, একাগ্রতা, নিরহঙ্করতা-নম্রতা, আস্থা ও অঙ্গীকার) শূন্য থেকে আপনি যে প্রতিষ্ঠান তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন তা প্রকৃতপক্ষে চিরন্তন, শাশ্বত। আপনার গড়ে তোলা সানবিমস পরিবার তা অবশ্যই সমুন্নত রাখবে।     

উমামা জিল্লুর: প্রতিষ্ঠাতা ‘কথা’, গবেষক

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন