রবিবার | আগস্ট ০৯, ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

দেশের খবর

রংপুরে ঈদের দিন মদ্যপান : মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, রংপুর

ঈদুল ফিতরের দিন বিষাক্ত ‘মদপান’ করে অসুস্থ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট নয় জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল। মৃত ব্যক্তিরাসহ বিভিন্ন বয়সের আরো বেশ কয়েকজন শানেরহাট বন্দরে মদপান করে ঈদ উদযাপন করছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।

এতে ঈদের দিন রাতে অন্তত ১৫ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়াও মদপানের ঘটনায় এখনো বেশ কয়েকজন অসুস্থ ব্যক্তি আইনগত জটিলতা এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছে বলেও জানা গেছে।

চিকিৎসাধীন তিনজনের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার দুজন এবং আজ বুধবার একজন মারা গেছেন। মৃতরা হলেন, বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নুর ইসলাম (৩০), রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের সরোয়ার হোসেন (৩১) ও মোস্তফা কামাল (৩০)। রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সোমবার (২৫ মে) ঈদুল ফিতরের দিন সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে মদ (নেশা জাতীয় স্পিরিট) পান করেন। পরে ওইদিনই বিকেল পর্যন্ত পীরগঞ্জের ১০ নম্বর শানেরহাট ইউনিয়নে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের পরদিন মঙ্গলবার সকালে শানেরহাট খোলাহাটি গ্রামের জেল ফেরত আব্দুর রাজ্জাক (৪৫), বিকালে পাহাড়পুরের জাইদুল হক (৩৫) ও পার্শ্ববর্তী মিঠাপুকুর উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের চন্দন কুমার (৩০) এবং বড় পাহাড়পুর গ্রামের সেলিম মিয়ার (৫০) মৃত্যু হয়। আর ঈদের দিন সোমবার (২৫ মে) রাতেই রায়তি সাদুল্লাপুরের দুলাল মিয়া (৫২) এবং হরিরাম সাহাপুরের লুলু মিয়া (৩০) নামের আরও দুজন মারা যান।

এছাড়াও পীরগঞ্জের ধল্লাকান্দির খালেক (৫০), আকবর (৪৫) ও মিলন মাস্টার (৫২), কাজীর পাড়ার খোড়া শাহিন (৪২) ও খোলাহাটির ডিস মতিসহ (৩৬) ১০ জন অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এরা সংঘবদ্ধ একটি দল। প্রতিনিয়ত শানেরহাট বন্দরে এরা স্পিরিট জাতীয় নেশাদ্রব্য পান করে এবং প্রায়শই জুয়ার আসর বসায়।

এ ব্যাপারে শানেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মন্টু বলেন, সবার মুখে মুখে তো মদপানে ওই লোকেদের মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি। মৃত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নিয়মিত মাদক সেবন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরেস চন্দ্র জানান, ‘মদপানে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।’

রংপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনসহ মদের উৎস এবং মদ সরবরাহকারীদের খুঁজতে কাজ করছে পুলিশ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন