শুক্রবার | জুলাই ১০, ২০২০ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

আন্তর্জাতিক খবর

আক্রান্তের ১১ দিন পর করোনা রোগী সংক্রামক থাকে না: গবেষণা

বণিক বার্তা অনলাইন

নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা সংক্রমণের প্রথম তিন থেকে চার দিন সবচেয়ে বেশি সংক্রামক এ তথ্য আগেই জানা গেছে। তবে এখন এক দল গবেষক বলছেন, আক্রান্তের ১১ দিন পর ওই রোগী আর সংক্রামক থাকে না। ওই সময় নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ এলেও তিনি আর অন্যকে সংক্রামিত করতে পারেন না। 

সিঙ্গাপুরের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের একটি গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। সিঙ্গাপুর শহরের ৭৩ জন কভিড-১৯ রোগীর তথ্যের ভিত্তিতে এ গবেষণাটি করা হয়েছে। 

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিস এবং দ্য অ্যাকাডেমি অব মেডিসিনের যৌথ এ গবেষণায় বলা হয়েছে, পরীক্ষায় পজেটিভ আসা মানেই কিন্তু সংক্রমণ সক্ষম বা ভাইরাসের সক্রিয় থাকা নয়। সংক্রমণের ১১ দিন পর ভাইরাসটি আর আলাদা হতে পারে না বা কালচার (সংখ্যা বৃদ্ধি) করতে পারে না। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সর্বশেষ এ পর্যবেক্ষণটি হাসপাতাল থেকে রোগীর ছাড়া পাওয়ার মানদণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এখন পর্যন্ত এ মানদণ্ডটি সংক্রমণ সক্ষমের পরিবর্তে পরীক্ষায় পর পর দুইবার নেগেটিভ আসার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হচ্ছে। 

সিঙ্গাপুরের স্ট্রেইট টাইমসের এক প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, সর্বশেষ গবেষণার প্রমাণগুলো ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা যায় কিনা- তা দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মূল্যায়ন করবে। 

এর আগে এ সংক্রান্ত একাধিক গবেষণায় দেখানো হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার পর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী পরপর দুইবার নমুনা পরীক্ষায় করোনাভাইরাস নেগেটিভ আসার পরও তার হাঁচি কাশির মাধ্যমে ভাইরাস বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে। অনেকের ক্ষেত্রে ফুসফুসের মরা কোষও বেরিয়ে আসে। তবে সেটি অন্য মানুষকে সংক্রমণে সক্ষম কিনা তা নিশ্চিত ছিল না। এবার সিঙ্গাপুরের গবেষকরা জানালেন, নমুনায় পজেটিভ এলেও তা আর সংক্রামক থাকে না।

এখন পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে মোট ৩১ হাজার ৬৮ জন রোগীর মধ্যে ১৩ হাজার ৮৮২ জন বা প্রায় ৪৫ শতাংশ রোগীকে হাসপাতাল ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে। গত শনিবার দুপুর পর্যন্ত একদিনে দেশটিতে ৬৪২ জন কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। 

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ২ জুন থেকে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি। এরই অংশ হিসেবে সরকার প্রাক-প্রাথমিকের কর্মীদের সক্রিয়ভাবে স্ক্রিনিং করছে। গত শুক্রবার কর্মচারীদের মধ্যে দুইজনের কভিড-১৯ পজিটিভ ফল পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিকের সাত কর্মচারীর মধ্যে নভেল করোনাভাইরাস শনাক্ত হলো।

সূত্র: ব্লুমবার্গ

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন