রবিবার | সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০ | ১২ আশ্বিন ১৪২৭

খেলা

ক্রীড়া তারকাদের ‘লকডাউনের দিনগুলি’

হাসনাত শোয়েব

মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে কভিড-১৯ মারাত্মকভাবে আঘাত হানে ক্রীড়া দুনিয়ায়। ক্রিকেট, ফুটবল ও টেনিসসহ সব ধরনের খেলাধুলা একে একে বন্ধ হয়ে যায়। এর আগেই অবশ্য ইউরোপে করোনার বিস্তৃতির জন্য দায়ী করা হয় একটি ফুটবল ম্যাচকে। সেই ম্যাচটি ছিল আটালান্টা বনাম ভ্যালেন্সিয়ার মধ্যকার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের প্রথম লেগের ম্যাচটিকে। এমনকি ইউরোপে কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার জন্য দায়ী করা হচ্ছে এ ম্যাচটিকে। মিলানের মাঠ সান সিরোতে সেদিন মুখোমুখি হয়েছিল এ দুদল। যেখানে প্রায় ৪০ হাজার আটালান্টা সমর্থক এবং ৩ হাজার ভ্যালেন্সিয়া সমর্থক হাজির হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। সেই ম্যাচের পর ইতালিতে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। প্রথম দিকে অবশ্য লিগ কর্তৃপক্ষগুলো খুব একটা পাত্তা না দিলেও পরে অবস্থার গুরুত্ব বুঝতে পেরে দর্শক শূন্য মাঠে ম্যাচ আয়োজন করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে একের পর এক লিগ ও ইউরোপিয়ান আসরগুলো বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। বিশেষ করে একাধিক খেলোয়াড়, কোচ এবং কর্মকর্তা কভিড-১৯ পরীক্ষায় পজেটিভ হওয়ার পর হার্ডলাইনে যেতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষগুলো। ফুটবলের মতো একই সময় ক্রিকেটের বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও ফ্রাঞ্চাইজি লিগগুলোও বাতিল হয়ে যেতে শুরু করে। বাতিল হয়ে যায় টেনিসের অনেক আয়োজনও। অনেক আন্তর্জাতিক তারকাকে সন্দেহজনক হওয়ায় এ সময় কোয়ারেন্টিনেও যেতে হয়। সেই থেকে দুনিয়াজুড়ে ক্রীড়া তারকা গৃহবন্দী।

ফিটনেস রক্ষার চ্যালেঞ্জ
ক্রিকেট, ফুটবল এবং টেনিসের মতো খেলাগুলো বরাবরই মাঠ কেন্দ্রিক। খেলা না থাকলেও অনুশীলনের জন্য মাঠই সবচেয়ে বড় আশ্রয়। এছাড়া জিমেও খেলোয়াড়দের বেশ সময় দিতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বোর্ড কিংবা ক্লাবগুলোর তত্ববধানে অনুশীলন আয়োজন করা হয়। যেখানে সব খেলোয়াড় একত্রিত হয়ে অনুশীলন সাড়েন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে সেটি আর সম্ভব ছিল না। সব খেলোয়াড়দের লকডাউন মেনে নিজ গৃহেই অবস্থান নিতে হয়।

সারা বিশ্বের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো ক্রীড়া দুনিয়াও গত দুই মাস ধরে গৃহবন্দী। খেলা বন্ধ থাকলেও খেলোয়াড়দের হাল ছেড়ে দেয়ার উপায় ছিল না। বিশেষ করে আউটডোর খেলাধুলার মূল কথাই হচ্ছে ফিটনেস। তাই যেভাবেই হোক ফিটনেস ঠিক রাখাটাই হচ্ছে আসল কাজ। প্রায় সব খেলোয়াড়দের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের বিষয় হচ্ছে ফিটনেস পরীক্ষায় উতরে যাওয়া। কিন্তু কাজটি মোটেই সহজ না। বিশেষ করে ঘরে বসে নিজেকেই সব কিছু ঠিক করতে হচ্ছিল। লকডাউনের শুরু দিকেই অনেক তারকাদের নিজেদের ঘরে বসে করা শরীর চর্চার ভিডিউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করতে দেখা গেছে। যার মাঝে আছেন বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমও। একাধিকবার এই উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান নিজের অনুশীলনের ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এছাড়া অন্যান্য বিভিন্ন খেলার তারকারাও ফিটনেস ঠিক রাখতে ব্যাপক ঘাম ঝরিয়েছেন। অনেককেই সেসবের ভিডিও প্রকাশ করেছেন। কোন কোন ক্ষেত্রে আবার বোর্ড এবং ক্লাবের পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের অনলাইনে ফিটনেস ঠিক রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সচেতনতামূলক কার্যক্রম
করোনাকালীন সময়ে খেলোয়াড়দের আরেকটি বড় কাজ ছিল সাধারণ মানুষ ও ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা। বিশ^ব্যাপী প্রায় সবক্ষেত্রের খেলোয়াড়রা যথাযথভাবে এই দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশেও তারকা ক্রিকেটারদের শুরু থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাই ভক্তদের আহ্বান জানান সামাজিক দূরত্বসহ লকডাউনের যাবতীয় নিয়ম মেনে চলতে। তাদের এইসব আহ্বানে সাড়াও মিলেছে বেশ।

অর্থ সহায়তা
করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই খেলোয়াড়রা তহবিল সংগ্রহে ব্যাপক মনযোগী হয়েছিলেন। অনেকেই নিজেদের বেতনের অংশ করোনা মোকাবেলায় দান করে দেন। বিশ^ব্যাপী খেলোয়াড়রা যে যেভাবে পেরেছেন অর্থ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশেও ক্রিকেটার, ফুটবলার এবং অন্যান্য তারকারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাহায্য করেছেন, যা এখনো চলছে। সাকিব, মুশকিফ, মাশরাফি নিজেদের প্রিয় কিছু জিনিস নিলামেও তুলেছেন। যেখানে সাকিব বিশ্বকাপ ব্যাট, মুশফিক দেশের হয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করা ব্যাট এবং মাশরাফি তার ব্রেসলেট নিলামে বিক্রি করেছেন। যার পুরো অর্থই তারা দান করেছেন করোনা মোকাবেলায়।

বিনোদনমূলক কাজ
নিজেদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি খেলোয়াড়রা বিনোদনমূলক কাজও করেছেন। শুরুর দিকে অনেক ক্রীড়া তারকাকে মজার ভিডিও শেয়ার করতে দেখা গেছে। আবার কোথাও অনলাইনে একজন আরেকজনকে চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দিয়েছেন। যা নিয়ে ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে ছিল দারুণ উত্তেজনা। অনেকে আবার বিভিন্ন চ্যানেল কিংবা পোর্টাল থেকেও লাইভ সাক্ষাৎকার দিয়ে নিজেদের গল্প শুনিয়েছেন। তবে বাংলাদেশে এ সময়ে চমকে দিয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল। যিনি অনলাইনে লাইভ চ্যাট শো চালু করেন এই সময়ে। যেখানে বাংলাদেশের সাবেক ও বর্তমান তারকারাসহ বিশ্ব ক্রিকেটের সুপারস্টাররা অংশ নিয়েছেন। যেখানে ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা এবং পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরামও। যেখানে ক্রিকেটের বাইরে খেলোয়াড় ব্যক্তিগত জীবন ও অজানা অনেক ঘটনাও সামনে এসেছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন