শুক্রবার | জুলাই ১০, ২০২০ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

সম্পাদকীয়

বুদ্ধিজীবী বিষয়ে আমার ভাবনা

ড. হাসান মাহমুদ

১.
অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে বুদ্ধিজীবী ও বুদ্ধিজীবিতা বিষয়ে বেশ আলাপ চলছে। বুদ্ধিজীবীর সামাজিক দায় নিয়ে আমাদের ধারণা এবং সেই মানদণ্ডে বিবেচনা করে অনেকে প্রয়াত আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হলো বলে শোক প্রকাশ করছে। আবার আরেকদল আছে যারা তার সামাজিক ভূমিকার সমালোচনায় মুখর। ব্যক্তিগতভাবে যেকারো মৃত্যুই শোকাবহ। আর তাই কি ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্ট ধর্ম সবাই মৃত ব্যক্তির ভালো দিকগুলো নিয়ে স্মৃতিচারণ করে আর মন্দ দিকগুলো এড়িয়ে যায়। এটাই আমাদের সামাজিক রীতি। আনিসুজ্জামানের বেলায় এ রীতির ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। এর কারণ সম্ভবত বিগত বছরগুলোতে জাতীয় পর্যায়ের অন্যতম প্রধান বুদ্ধিজীবী হিসেবে তার পরিচয় ও ভূমিকা।

আমার বন্ধুবান্ধবের মধ্যে বেশ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উচ্চশিক্ষিত নারী-পুরুষ শিক্ষকতা, প্রশাসন, সাংবাদিকতাসহ পেশাগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের সঙ্গে কর্মরত। তাদের মনোভাব পর্যবেক্ষণ করে আমার মনে হলো আনিসুজ্জামানের মূল্যায়নে মোটা দাগে যে পার্থক্যের উল্লেখ দিয়ে আমি শুরু করেছি, তা মূলত নিজ নিজ মতাদর্শিক অবস্থানের পার্থক্যের পাশাপাশি বুদ্ধিজীবিতা নিয়ে স্বচ্ছ ধারণার অভাবের জন্যও। আমার বিশ্বাস, বুদ্ধিজীবিতা কী আর বুদ্ধিজীবী কে বা কারা-এ নিয়ে আলাপের মাধ্যমে এ ধারণা আরো পরিষ্কার হবে। ফলে আমরা নিজে নিজেই বুঝে নিতে পারব বুদ্ধিজীবী হিসেবে কার প্রাপ্য কতটুকু সম্মানে এবং সমালোচনায়ও।

বুদ্ধিজীবী হিসেবে অনেকের কাছে মনে হতে পারে এমন ব্যক্তি যে বুদ্ধিকে জীবিকা করে। অর্থাৎ সোজা কথায় বুদ্ধি দিয়ে কাজকর্ম করে যে ব্যক্তি জীবন নির্বাহ করে। কিন্তু জীবিকা নির্বাহের কাজে বুদ্ধিকে কাজে লাগায় না এমন কেউ কি আছে? অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে মানুষের মূল পার্থক্য-এই বুদ্ধির ব্যবহারই। উচ্চশিক্ষিত এবং দক্ষ একজন ব্যক্তি যেমন বুদ্ধির ব্যবহার করে, একেবারে অশিক্ষিত এবং অদক্ষ ব্যক্তিও বুদ্ধির ব্যবহার করে। পার্থক্য শুধু মাত্রায়-আগেরজন বুদ্ধির ব্যবহার করে ব্যাপক মাত্রায়, আর পরেরজন সীমিতভাবে। কাজেই সাধারণভাবে ধরে নেয়া বুদ্ধিজীবীর প্রচলিত সংজ্ঞাটি মূলত অর্থহীন।

বুদ্ধিজীবী শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ intellectual। ক্যামব্রিজ ডিকশনারি (অনলাইন) থেকে এ শব্দের বিশেষণ হিসেবে দুটো অর্থ আর বিশেষ্য হিসেবেও দুটো অর্থ পেলাম। বিশেষণ হিসেবে বুদ্ধিজীবিতা হলো ব্যক্তির একটা গুণ, যা তাকে জটিল বিষয়ে চিন্তা ও অনুধাবণ করতে সক্ষম করে। এ গুণ ব্যক্তিকে কোনো সাধারণ বিষয়কে উচ্চমার্গীয় পর্যায়ে নিয়ে আলোচনা করতে বা উচ্চমার্গীয় বিষয়কে সাধারণ পর্যায়ে নিয়ে আলোচনা করতে সক্ষম করে। আর বিশেষ্য হিসেবে এ শব্দের মাধ্যমে আমরা এমন এক ব্যক্তিকে বুঝি, যার মধ্যে আলোচ্য গুণ বিদ্যমান। অর্থাৎ যে ব্যক্তি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তরে সাফল্যের সঙ্গে জ্ঞানার্জন সমাপ্ত করে যাবতীয় বিষয়-আশয়ে সযত্নে চিন্তা ও মেধা প্রয়োগ করে, যার কাজে ও কর্মের মূলে থাকে জ্ঞান ও জ্ঞানভিত্তিক আলোচনা এবং সেই সম্পর্কিত দিকনির্দেশনা।

ডিকশনারির সংজ্ঞা থেকে মনে হয় বুদ্ধিজীবিতা কী এবং কার মধ্যে এই গুণ আছে তা বোঝা খুব সহজ। শিক্ষার সর্বোচ্চস্তরের ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষকতা বা পরামর্শদানের পেশায় কর্মরত ব্যক্তির মধ্যে বুদ্ধিজীবিতার গুণ এবং কাজে-কর্মে তার বহিঃপ্রকাশ সব থেকে বেশি সম্ভাব্য বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ এসব পেশায় নিয়োজিতরা সবাই উচ্চশিক্ষিত এবং উচ্চস্তরের চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে তারা উচ্চস্তরের বুদ্ধিমত্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে সক্ষম। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগেই অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতো আরো ডজনখানেক ব্যক্তিত্ব উচ্চশিক্ষিত এবং আজীবন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় নিয়োজিত থাকার পরও মাত্র দুয়েকজনকেই আমরা বুদ্ধিজীবী হিসেবে জানি। অর্থাৎ উচ্চশিক্ষিত এবং উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত থাকাটা বুদ্ধিজীবী হয়ে ওঠার জন্য আবশ্যিক শর্ত হলেও যথেষ্ট নয়।

সদ্যপ্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের উপলক্ষে এ আলোচনার শুরু বলে তার উদাহরণ দিয়েই আমার নিজ অভিমত ব্যক্ত করব। আর হ্যাঁ, এ কথাগুলো একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত। উচ্চশিক্ষার উচ্চস্তরে পড়াশোনা শেষ করে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই বলে নিজের মধ্যে জানার যে একটা আকুতি অনুভব করি এবং সেই সঙ্গে কেউ বুদ্ধিজীবিতা বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে যেন একটা যুক্তিগ্রাহ্য ও গ্রহণযোগ্য উত্তর দিতে পারি সেই তাড়না থেকেই এ আলাপ।

২.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও বাংলায় পড়িনি বলে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ক্লাস করার সুযোগ হয়নি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় (১৯৯৭ থেকে ২০০৪) প্রধানতম বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের পাশাপাশি অধ্যাপক আহমদ শরীফের নাম শুনেছি খুব। এককভাবে প্রধান বুদ্ধিজীবী হিসেবে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের স্বীকৃতি আসতে থাকে খুব সম্ভবত ২০১০ সালের পর থেকে। বাংলা সাহিত্য নিয়ে গবেষণায় তিনি একজন অগ্রগণ্য বলে সুপরিচিত। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনে তিনি নেতৃত্বের স্থানে ছিলেন দীর্ঘ সময়। অর্থাৎ আনিসুজ্জামানের অবদানকে মূল্যায়ন করতে হলে আমাদের এ দুদিকে যথাযথভাবে মনোযোগ দিতে হবে।

জানলাম, ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য’ আনিসুজ্জামানের সব থেকে প্রধান গবেষণাকর্ম, যা তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি অর্জনের সময় সম্পাদন করেছিলেন। এটি বই আকারে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬৪ সালে, আর পরবর্তী সময়ে পুনর্মুদ্রিত হয় সর্বশেষ ২০১২ সালে। ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য’ যে খুব ভালো মানের একটা গবেষণা কর্ম, সেটা সবাই বলছে। কিন্তু সেখানে আনিসুজ্জামান কোন প্রশ্নের কী ব্যাখ্যা কীভাবে করছেন, আর আমাদের অর্জিত জ্ঞানকে তা কীভাবে সমৃদ্ধ করল, সেই কথা কোথাও পেলাম না। তিনি এ দীর্ঘ সময়ে আর কী কী উল্লেখযোগ্য গবেষণা করেছেন, সেই নিয়ে কোনো বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা দেখলাম না। কিছু নিউজে মুসলিম বাংলার সাময়িক পত্র, স্বরূপের সন্ধানে, পুরনো বাংলা গদ্য, আঠারো শতকের বাংলা চিঠির উল্লেখ থাকলেও কোনো বিশ্লেষণী আলোচনা নেই। সবশেষে আছে তার আÍজীবনীভিত্তিক রচনা বিপুলা পৃথিবী ও কাল নিরবধি। ইসব গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক রচনায় তিনি কী জ্ঞান আবিষ্কার করলেন এবং আমাদের জানাশোনার জগতে কোন কোন ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করলেন, তার একটা নির্মোহ মূল্যায়ন পুরোপুরি অনুপস্থিত।

আর থাকে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অবদান। সবাই হয়তো একমত হবেন যে, বাংলাদেশে বিদ্যমান ‘প্রগতিশীল’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ বাঙালি জাতীয়তাবাদী ধারার সংস্কৃতি ও রাজনীতির অঙ্গনে বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ছিলেন সর্বাগ্রে। কিন্তু এ ধারার প্রতি ইসলামবিরোধিতার যে অভিযোগ, সেটা খণ্ডানো এবং তার বিপরীতে আনিসুজ্জামানের একান্ত নিজস্ব বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থানটা কী? দেশের ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রবণতার বিষয়ে জনস্বার্থে তার অবস্থানইবা কোথায়? জাতীয়তাবাদের ধারণায় কোন অবদানের মধ্য দিয়ে তিনি কীভাবে জাতি গঠনে এবং জাতির ক্রান্তিকালে কোন অভিমুখে নির্দেশনামূলক ভূমিকা পালন করেছেন, সেই ভূমিকার ইতিবাচকতা/নেতিবাচকতা ইত্যাদি নিয়েও আলোচনা জারি থাকা দরকার।

৩.
বর্তমান বিশ্বে বুদ্ধিজীবী হিসেবে খ্যাতিমান একজন হলেন নোয়াম চমস্কি। পেশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক চমস্কি তার বিশেষজ্ঞ ক্ষেত্র ভাষাবিজ্ঞানে দৃষ্টান্তমূলক বেশকিছু গবেষণা গ্রন্থের রচয়িতা এবং দেশ-বিদেশের নামকরা অগণিত পণ্ডিতকে হাতেকলমে শিক্ষা দিয়েছেন। সর্বোপরি, আমেরিকার জাতীয় জীবনে নানান সংকটকালে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও লেখালেখির মধ্য দিয়ে নিজেকে বুদ্ধিজীবী হিসেবে সমাজে আসীন করেছেন। আর এ ভূমিকা পালন করতে গিয়ে তিনি সরকারের রক্তচক্ষুকে কখনই পরোয়া করেননি। একইভাবে বলা যায় কর্নেল ওয়েস্ট বা তরুণদের মধ্যে নাওমি ক্লেইনের কথা। ইউরোপেও আছেন অনেকেই। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও আছেন বেশ ক’জন যাদের মধ্যে রমিলা থাপার বাংলাদেশে বেশ সুপরিচিত। ভারতের জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ নানা ধরনের নিপীড়িত মানুষের (যেমন-দলিত, আদিবাসী, নারী) অধিকার নিয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তার যে ভূমিকা, তার সঙ্গে তুলনীয় ভূমিকা কোথায় আমাদের দেশে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃত বুদ্ধিজীবীদের?

বুদ্ধিজীবীদের একটা প্রধান ভূমিকাই হলো রাষ্ট্র আর নাগরিকের মাঝে যুক্তিপূর্ণ একটা বোঝাপড়া বা সমঝোতার সেতুবন্ধ তৈরি করা, যাতে রাষ্ট্র আমজনতার অধিকারহরণ থেকে বিরত থাকে। তাদের আরেকটা ভূমিকা হলো নিজেদের লেখালেখির মাধ্যমে এবং সেইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের যথাযথ জ্ঞানের বিতরণ ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য তৈরি করা। অতীতের সক্রেটিস থেকে শুরু করে আজকের নোয়াম চমস্কি, রমিলা থাপার সবাই এ ধারায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। বলপ্রয়োগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা থাকায় রাষ্ট্র স্বভাবতই জবরদস্তিমূলক, আর সাধারণ নাগরিকরা সেই শক্তির কুফল ভোগকারী। বুদ্ধিজীবী যেহেতু তার ঊচ্চস্তরের বুদ্ধিমত্তা আর চিন্তাশক্তি দিয়ে ভূত-ভবিষ্যৎ অনুধাবন করতে সক্ষম, তাই জাতির সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে তিনি সর্বদাই রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের হয়ে মুসাবিদা করে থাকেন, জনতার মধ্যকার সব থেকে মেধাবী এবং সম্ভাবনাময়দের মধ্য থেকে ভবিষ্যৎ বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের উপযুক্ত শিক্ষা ও গবেষণার কর্মসূচি পরিচালনা করেন। সেজন্যই বুদ্ধিজীবীর প্রতি জনতার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। বাংলাদেশের রাষ্ট্র বর্তমানে যেমন, ১০ বছর আগে তেমনটি ছিল না। রাষ্ট্রের এ চরিত্রগত পরিবর্তনের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী হিসেবে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের জনকল্যাণমূলক ভূমিকার মূল্যায়ন না করে শুধু আবেগকে পুঁজি করে শোকগাথা দিয়ে তার বুদ্ধিজীবিতার স্বীকৃতি আসবে না। একইভাবে, একপেশে সমালোচনার মাধ্যমে তাকে ইসলামবিরোধী হিসেবে চিত্রিত করেও তার প্রকৃত অবদানকে খাটো করা যাবে না। এখন যা দরকার তা হলো সদ্যপ্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের এবং সেইসঙ্গে বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত অপরাপর ব্যক্তিত্বের শিক্ষা-গবেষণা এবং সামাজিক পরিসরে অবদান নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে তাদের নির্মোহ মূল্যায়ন।

৪.
শিক্ষকরা আমাদের সবার কাছেই সম্মানিত ও শ্রদ্ধার। বুদ্ধিজীবীরা তাদের থেকেও উচ্চ আসনে। বিশ্ব ইতিহাসে বুদ্ধিজীবীদের অবদানের কথা স্মরণ করতে হলে প্রথমেই আসে ফরাসি বুদ্ধিজীবীদের কথা। ফরাসি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যে জাতিরাষ্ট্রের জš§ হয় ফ্রান্স এবং তারপর সারা বিশ্বে, তাতে অন্যতম প্রধান ভূমিকা ছিল ভলতেয়ার-রুশোদের মতো বুদ্ধিজীবীদের। ফরাসি দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী রেমন্ড এরোন তার প্রখ্যাত The Opium of the Intellectuals  বইয়ে উল্লেখ করেছেন, ফরাসি দেশে বুদ্ধিজীবীরা জনতার হৃদয়ে স্থান করে নিতে পেরেছিল মানবতার মুক্তির আকাক্সক্ষাকে আÍস্থ করার মাধ্যমে, আমজনতার অনুল্লেখযোগ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অর্জনকে প্রমিথিউসের অর্জনের মতো মহত্ব দান করে, নিপীড়ক সাম্রাজ্যের হাতে আমজনতার পরাজয়কে মহিমান্বিত করার মধ্য দিয়ে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের পথে অবিচল থাকার মধ্যে। বুদ্ধিজীবীর ভূমিকা মূল্যায়নে এটাই আমার কাছে মনে হয় সবথেকে গ্রহণযোগ্য মাপকাঠি। আমার বিশ্বাস, অহেতুক নিষ্ফল বিতর্কের বদলে একই মাপকাঠিতে আমরা দেশের প্রয়াত ও বর্তমান বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করতে পারি। এতে আলোচ্য ব্যক্তির প্রাপ্য মূল্যায়নের সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে বুদ্ধিজীবী হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা এবং অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যাবে।

ড. হাসান মাহমুদ: কাতারের নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন