রবিবার | সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০ | ১২ আশ্বিন ১৪২৭

দেশের খবর

কাঁঠালের বাজার মন্দায় বিপাকে শ্রীপুরের বাগান মালিক

বণিক বার্তা প্রতিনিধি গাজীপুর

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে মন্দাভাব বিরাজ করছে জাতীয় ফল কাঁঠালের বাজারে। এতে বিপাকে পড়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাগান মালিকরা। তারা জানিয়েছেন, এবার কাঁঠালের ফলন ভালো হলেও বিক্রি হচ্ছে গত বছরের অর্ধেক দামে। মৌসুমজুড়ে এমন মন্দাভাব বিরাজ করলে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, কাঁঠালের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত শ্রীপুর। উপজেলায় বর্তমানে তিন হাজার হেক্টর জমিতে কাঁঠালের বাগান আছে। উপজেলার বেশির ভাগ গ্রামেই কাঁঠালের বাণিজ্যিক বাগান গড়ে তুলেছেন চাষীরা। কোথাও কোথাও রাস্তার দুই পাশে সারি সারি কাঁঠালগাছ। আবার কারো কারো পুরো জমিতেই কাঠাল বাগান। গত বছরের তুলনায় এবার কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে। গাছের গোড়া থেকে শুরু করে ডালপালায় ধরেছে অসংখ্য কাঁঠাল।

বাগান মালিকরা জানান, শ্রীপুর থেকে পুরো দেশে কাঁঠাল সরবরাহ করা হয়। কারণে মৌসুমের শুরুতে ব্যবসায়ীরা এসে গাছ হিসেবে কাঁঠাল কিনে নেন। কিন্তু এবার করোনার কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা তেমন একটা আসেননি। আবার মানুষের যাতায়াত সীমিত হয়ে আসার কারণে বাজারে কাঁঠাল খুব একটা বিক্রি হচ্ছে না। এতে চাহিদা কমে দামে মন্দাভাব বিরাজ করছে। গত বছর যে কাঁঠাল ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, তা এবার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার বড় আকারের কাঁঠালের ক্রেতাই পাওয়া যাচ্ছে না।

তারা জানান, কাঁঠাল মূলত গ্রীষ্মকালীন ফল। এটি কাঁচা পাকা উভয় অবস্থাতেই খাওয়া যায়। অনেকেই কচি কাঁঠাল তরকারি হিসেবে রান্না করেন। তবে কাঁঠালের মূল ব্যবহার ফল হিসেবে। কারণে পাকা কাঁঠালের দামের ওপর চাষীর লাভ-লোকসান নির্ভর করে।

বদনীভাঙ্গা গ্রামের কাঁঠাল বাগান মালিক কিতাব আলী জানান, তার প্রায় চার বিঘা জমির কাঁঠাল বাগান রয়েছে। বাগান থেকে প্রতি বছর ৮০-৯০ হাজার টাকার কাঁঠাল বিক্রি করেন। এবারো গাছে প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। কিন্তু বর্তমানে যে দামে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে, তাতে ৫০ হাজার টাকাও পাওয়া যাবে না।

একই গ্রামের আরেক বাগান মালিক মনিরুজ্জামান মাস্টার বলেন, তার তিনটি কাঁঠালের বাগান রয়েছে। প্রতি বছর তিনি প্রায় লাখ টাকার কাঁঠাল বিক্রি করেন। ফলন ভালো হওয়ায় এবার ভালো আয় হবে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে কাঁঠাল বিক্রিই হচ্ছে না।

বারতোপা গ্রামের বাগান মালিক ফাইজুদ্দিন জানান, গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি কাঁঠাল ধরেছে। কিন্তু বাজারে দাম কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। এই কাঁঠালই আমাদের আয়ের বড় উৎস। এখন দাম না পেলে বছরজুড়ে তা লোকসান টানতে হবে।

বদনীভাঙ্গা গ্রামের কাঁঠাল ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন চৌক্কা জানান, করোনার কারণে গণপরিবহন বন্ধ। তাই গত বছরের মতো একই দামে কাঁঠাল কেনা সম্ভব না। কারণ চাহিদা নেই। বাজারে আমরা নিজেরাই দাম পাচ্ছি না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম মূয়ীদুল হাসান জানান, শ্রীপুরে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে কাঁঠালের বাগান আছে। গত বছরের তুলনায় বছর কাঁঠালের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তবে নভেল করোনাভাইরাসের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মূলত বাগান মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন