মঙ্গলবার | জুন ০২, ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শেষ পাতা

ব্যক্তিগত গাড়িতে ঈদে বাড়ি ফিরতে বাধা নেই

রাস্তাঘাটে ফের মানুষের ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুদিন আগেও মাওয়া-পাটুরিয়া ঘাট থেকে গ্রামমুখী হাজার হাজার মানুষকে ঢাকার দিকে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে যারা ফেরিঘাট পর্যন্ত গিয়েছিলেন, তাদের আরেক দফা দুর্ভোগে ফেলে ফেরত পাঠানো হয়। দুদিন পার না হতেই বদলে গেল আগের সিদ্ধান্ত। পুলিশ বলছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানুষ ঈদে বাড়ি যেতে পারবে। শর্ত একটাই, ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করতে হবে।

নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। সেদিন থেকে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের গণপরিবহন। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াতে জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। চলমান সাধারণ ছুটির মধ্যেই পড়েছে এবারের ঈদুল ফিতর। গণপরিবহন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ঈদ উপলক্ষে বিপুল মানুষ নানা উপায়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করলে নড়ে-চড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। ঘরমুখী মানুষের ঢল ঠেকাতে এক পর্যায়ে দেশের ফেরিঘাটগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। মহাসড়কগুলোতে জোরদার করা হয় চেকপোস্টের কার্যক্রম। ১৯ মে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) . বেনজীর আহমেদ হুঁশিয়ারি দেন, চেকপোস্টে থেমে যান, ফিরে আসুন। নইলে রাস্তাতেই ঈদ করতে হবে ঢাকা মহানগরীতে প্রয়োজন ছাড়া প্রবেশ বের হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আইজিপির এমন ঘোষণার আগে থেকেই ঢাকা মহানগর পুলিশের ১০টি চেকপোস্ট হাইওয়ে পুলিশের অন্তত ৫২টি বড় চেকপোস্টে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়।

তবে গতকাল থেকে এসব কড়াকড়ি আর আরোপ হচ্ছে না। পুলিশ বলছে, সরকারের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত গাড়িতে করে যারা ঈদে বাড়িতে যেতে চান, পুলিশ যেন তাদের চলাচলে বাধা না দেয়। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। 

পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে র্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন গতকাল এক ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে যাওয়া যাবে। জনকল্যাণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করব।

সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাস্তাঘাটে বাড়তে থাকে ঘরমুখী মানুষের ভিড়। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ নির্ভর করে দুটি ফেরিঘাটের ওপর। একটি শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী, অন্যটি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া। দুটি ঘাটেই বেড়েছে ঢাকা থেকে আসা মানুষের ঢল।

ফেরিঘাটের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছোট ছোট গাড়ির পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেলের মতো বাহনে করে ঘাট পর্যন্ত এসেছেন। ফেরি পার হয়ে একই পদ্ধতিতে তারা নিজ নিজ গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রী তোলায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেকেই তা মানছেন না বলেও জানিয়েছেন তারা।

ফেরিঘাটগুলোর পাশাপাশি ছোট ছোট গাড়ির চলাচল বেড়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-ময়মনসিংহের মতো গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতেও।

এদিকে ঈদে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা। তাদের বেশির ভাগই মনে করছেন, করোনার সময়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত হয়নি। অনেকেই বলছেন, সাধারণ মানুষকে আটকে দিয়ে এর মাধ্যমে ভিআইপিদের ঈদ করতে দেয়া হলো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক . সেলিম রায়হান তার ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেছেন, বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার একটি বড় উদাহরণ হলো কিছু জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতা, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করা, সিদ্ধান্ত নেয়ার পর বিভিন্ন দিক থেকে চাপ আসার পর তা প্রত্যাহার করা এবং এরপর কিছু অ্যাডহক ব্যবস্থা নেয়া। নভেল করোনাভাইরাস যে হারে এখন বাংলাদেশে সংক্রমিত হচ্ছে এবং ঈদের ছুটির সময় মানুষের বাড়ি ফেরার যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, (তথাকথিত ব্যক্তিগত -ব্যক্তিগত গাড়ির মাধ্যমে) তাতে ধরনের চলাচল বন্ধ করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া এবং তার যথার্থ বাস্তবায়ন খুবই জরুরি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন